ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ২৫ নভেম্বর ২০২০ ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
ই-পেপার  বুধবার ২৫ নভেম্বর ২০২০

প্রশাসন নির্বিকার
পাহাড় কেটে ঝরনার মুখ বন্ধ করে রোহিঙ্গাদের জন্য বাঁধ নির্মাণ
শেখ রাসেল টেকনাফ (কক্সবাজার)
প্রকাশ: শনিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২০, ১১:১৭ পিএম আপডেট: ২১.১১.২০২০ ১১:৪৬ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 166

পাহাড় কেটে পাহাড়ি ঝরনার মুখ বন্ধ করে রোহিঙ্গাদের পানি সরবরাহ করতে এনজিওরা বাঁধ নির্মাণ করছে। পরিবেশবিরোধী এ ভয়াবহ কর্মকাÐের পরেও এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের নির্বিকার ভ‚মিকায় স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হলেও তাদের টনক নড়ছে না। রোহিঙ্গাদের কারণে টেকনাফের স্থানীয় বাসিন্দাদের নানা ভোগান্তির পাশাপাশি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ। রোহিঙ্গাদের বসতি স্থাপনের কারণে টেকনাফের বনভ‚মি প্রায় ধ্বংসের দ্ধারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। তারপরেও এ বনভ‚মি ও পাহাড় নিধন থেমে নেই। মানবতার খাতিরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে গিয়ে হাজার হাজার একর বনভ‚মির গাছপালা উজাড় করে ফেলায় টেকনাফের পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। বাকি বনভ‚মি ও পাহাড়টুকু রক্ষায়ও বনবিভাগ এবং পরিবেশ অধিদফতরে নেই কোনো কার্যকর পদক্ষেপ। বরং বন বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও এনজিওর যোগসাজশে বনভ‚মি উজাড় ও পাহাড় কর্তন অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় দরিদ্র কৃষকদের পাহাড়ি জমিতে পান চাষ, ফলজ ও বনজ গাছের বাগান বন বিভাগ কর্তৃক বনভ‚মি উদ্ধারের নামে নির্বিচারে কর্তন করা হয়েছে। আবার এনজিও কর্তৃক রোহিঙ্গাদের জন্য নিত্য বনভ‚মি ন্যাড়া করে ফেলা হচ্ছে। নির্বিচারে কেটে ফেলা হচ্ছে পাহাড়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রয়েছে নির্বিকার। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে জন্ম হচ্ছে চাপা ক্ষোভ। এ রকম পরিস্থিতির পরেও সাম্প্রতিক সময়ে এনজিও সংস্থা এনজিও   ফোরামের অর্থায়নে জাদিমুড়ার জাদি খাল, দমদমিয়া বিজিবি খাল ও মুছনি খালের উৎপত্তি স্থল পাহাড়ি ঝরনার মুখ বন্ধ করে রোহিঙ্গাদের পানীয় জলের ব্যবস্থা করতে গহীন পাহাড়ে নির্মিত হচ্ছে তিনটি বড় বাঁধ। ফলে একদিকে বাধাগ্রস্ত হতে যাচ্ছে উপরোক্ত তিনটি খালের পানি প্রবাহ। অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি তিনটি খালের পানির ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় কৃষকদের চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তা ছাড়া এসব বাঁধের মাটির জন্য নির্বিচারে কাটা হচ্ছে পাহাড়।
সরেজমিনে দেখা যায়, জাদিমুড়ার জাদি খাল ও বিজিবি খালের উৎপত্তি মুখের গহীন পাহাড়ের ভেতর ৫০-৬০ জন রোহিঙ্গা শ্রমিক পাহাড় কেটে বাঁধ তৈরির কাজে নিয়োজিত রয়েছে। এ বিষয়ে টেকনাফ রেঞ্জের কর্মকর্তা সৈয়দ আশিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বাঁধ নির্মাণ করে পানি সরবরাহের বিষয়টি আমি আসার পূর্ব থেকে চলমান রয়েছে। মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের পানি সরবরাহের জন্য শুষ্ক মৌসুমে বাঁধ নির্মাণ হলেও বর্ষায় তা ভেঙে ফেলা হয় বলে জানি। গত উপজেলা মিটিংয়ে বিষয়টি উত্থাপন করেছি। আর পাহাড়ি ছড়া থেকে মাটি উত্তোলন করে বাঁধের কাজ করা হয়। তবে পাহাড়ের মাটি কাটার বিষয়টি সত্য হলে আমি এখনই ব্যবস্থা নেব।
এ বিষয়ে টেকনাফ ইউএনও মো. সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি অবগত নই। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মারফত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]