ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ১ ডিসেম্বর ২০২০ ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
ই-পেপার মঙ্গলবার ১ ডিসেম্বর ২০২০

‘বেগমপাড়ার’ কুতুবদের  খোঁজে মাঠে নামছে দুদক
স্বপ্না চক্রবর্তী
প্রকাশ: রোববার, ২২ নভেম্বর, ২০২০, ১১:০৭ পিএম আপডেট: ২২.১১.২০২০ ১২:০৭ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 56

অবশেষে অবৈধভাবে দেশের টাকা কানাডার কথিত ‘বেগমপাড়া’য় পাচারকারীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অভিযানে নামছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সরকারি কর্মচারীদের পাশাপাশি যেসব রাজনীতিবিদের বিদেশে বাড়ি-গাড়িসহ বিপুল সম্পদের তালিকা আছে তাদের সম্পদের উৎস খুঁজতে অনেক আগেই কাজ শুরু করলেও বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন করে নড়েচড়ে বসেছে সংস্থাটি। অন্য দেশের পাশাপাশি এবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে কানাডার বেগমপাড়ায় বিনিয়োগকারী সরকারি আমলা ও রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে শিগগিরই অভিযান শুরু করবে তারা। তবে নির্দিষ্ট করে ৪ রাজনীতিবিদের বিদেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদের কথা বললেও এখনই তাদের নাম প্রকাশে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে দুর্নীতিবাজরা সাধারণ মানুষ নাকি রাজনীতিবিদ সেটা বিবেচনা না করেই তদন্ত হবে বলে মন্তব্য করেছেন দুদক কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান।
কানাডার টরন্টোর পাশে লেক অন্টারিওর তীরঘেঁষা মিসিসাগা শহরের একটি বড় কন্ডোমিনিয়াম হঠাৎ করেই গণমাধ্যমের আগ্রহের কেন্দ্রে পরিণত হয় বছরদশেক আগে। সেই কন্ডোমিনিয়ামে মূলত থাকে দক্ষিণ এশিয়া থেকে আসা বহু অভিবাসী পরিবার। এসব পরিবারের স্বামীরা কাজ করেন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন  দেশে। স্বামীদের অনুপস্থিতিতে স্ত্রীদের নিঃসঙ্গ জীবন এবং কঠিন জীবনসংগ্রাম নিয়ে ভারতীয় পরিচালকের তৈরি ডকুমেন্টারি ফিল্ম ‘বেগমপুরা : দ্য ওয়াইভস কলোনি’ থেকে আসা বেগমপাড়া নামটি বাংলাদেশিদের কাছেও বিশেষ আগ্রহের স্থান হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি বছরগুলোয় যেসব বাংলাদেশি বিনিয়োগকারী কোটায় পিআর সুযোগ পেয়েছেন তাদের একটা অংশ মূলত অবৈধভাবে অর্জিত টাকায় এ বিনিয়োগ করেছেন। দেশ থেকে নেওয়া দুর্নীতি ও লুটের টাকায় সেখানে বিলাসী জীবনযাপন করছেন তারা। বলা হয়, বাংলাদেশে দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া বহু ব্যবসায়ী-আমলা-রাজনীতিক স্ত্রী-সন্তানদের পাঠিয়ে দিয়েছেন কানাডায়। তাদের নিয়েই গড়ে ওঠা এই ‘বেগমপাড়া’ অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘অর্থ পাচার, অর্থ লুট’ শব্দগুলো। কিন্তু বেগমপাড়ার বিনিয়োগকারীদের বিষয়ে মুখ খুললেও এখনই তাদের নাম গণমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। সময়ের আলোকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের পরিপ্রেক্ষিতে কানাডায় খবর নিয়েছি আমরা। প্রাথমিকভাবে কিছু সত্যতায় যা পেয়েছি তা বলেছি। ওইসব জায়গায় যাদের বিনিয়োগ বেশি তাদের মধ্যে বেশিরভাগই সরকারি কর্মকর্তা, আমলা, ব্যাংকার। তাদের মধ্যে রাজনীতিবিদের সংখ্যা খুবই কম। ৪-৫ জনের বেশি হবে না। তাদের বিরুদ্ধে আমরা আরও তদন্ত করছি। পুরোপুরি নিশ্চিত হলেই তাদের নাম সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।
তবে দুদক সূত্র বলছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এখনও কোনো তালিকা না পেলেও মন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএফআইইউর কাছেও বেশকিছু তথ্য চেয়েছে সংস্থাটি। গোপনে কয়েকজন আমলার বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছে দুদকের গোয়েন্দা ইউনিটও। এর আগে গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি-জিএফআইয়ের প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের কাছে খবর আছে শুধু ২০১৫ সালেই বাংলাদেশ থেকে ৯৮ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এই পাচারকারীদের অনেকের নামই পানামা, প্যারাডাইস পেপার্সেও এসেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পাচারকারীদের চিহ্নিত করতে বাংলাদেশ থেকে এ পর্যন্ত ক’জন বিভিন্ন দেশে ইনভেস্টমেন্ট কোটায় নাগরিকত্ব পেয়েছেন তার তথ্য জানতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠায় দুদক। গত অক্টোবরে পাঠানো এ চিঠির বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কিছু না জানালেও একটা খসড়া তালিকা ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে সংস্থাটি।
বেগমপাড়ার বিষয়ে দুদক কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান শনিবার এক অনুষ্ঠানে বলেন, আমাদের কাছে এ ধরনের অভিযোগ আছে এবং আমাদের বক্তব্য যারা দুর্নীতিবাজ তারা সাধারণ জনগণ নাকি রাজনীতিবিদ সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়। যখন অনুসন্ধান বা তদন্ত হবে এবং উদঘাটন হবে। তখন আমরা এ সংখ্যা নিয়ে কথা বলতে পারব। আর কথা বলার সে সময়টি এখনও আসেনি।
প্রসঙ্গত, কানাডা সরকারের তথ্য মতে, পাঁচ বছর ধরে প্রতিবছর ৩ হাজারের বেশি বাংলাদেশি কানাডায় স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পেয়েছে। আর ২০০৬ সাল থেকে গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত পিআর পেয়েছেন ৪৪ হাজার ১৮৬ জন বাংলাদেশি। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, সম্প্রতি বছরগুলোয় যেসব বাংলাদেশি বিনিয়োগকারী কোটায় পিআর সুযোগ পেয়েছেন তাদের একটা অংশ মূলত অবৈধভাবে অর্জিত টাকায় এ বিনিয়োগ করেছেন। দেশ থেকে নেওয়া দুর্নীতি ও লুটের টাকায় সেখানে বিলাসী জীবনযাপন করছেন তারা।









সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]