ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ২৫ নভেম্বর ২০২০ ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
ই-পেপার  বুধবার ২৫ নভেম্বর ২০২০

প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারীর পরিণাম
প্রকাশ: রোববার, ২২ নভেম্বর, ২০২০, ১১:৪৭ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 43

ফিরোজ আহমাদ
পবিত্র কোরআন ও হাদিসে পরস্পরে ওয়াদা ও প্রতিশ্রুতি রক্ষার ব্যাপারে বেশ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ওয়াদা রক্ষার মাধ্যমে একজন সাধারণ মানুষ সমাজে অসাধারণ মানুষে পরিণত হয়ে যায়। যা তাকে আল-আমিন বা বিশ^াসীর মর্যাদায় পৌঁছে দেয়। ওয়াদা ভঙ্গের ফলে রাষ্ট্র, সমাজ ও ব্যক্তি পর্যায়ে পারস্পরিক সম্পর্কের অবনতি কিংবা টানাপড়নের সৃষ্টি হয়। পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুত রক্ষার গুরুত্ব লিখে কিংবা বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা আমার নেয়ামতকে স্মরণ কর, যে নেয়ামত আমি তোমাদের প্রদান করেছি এবং তোমরা আমার অঙ্গীকার পূর্ণ কর, তাহলে আমি তোমাদের অঙ্গীকার পূর্ণ করব। আর কেবল আমাকেই ভয় কর।’ (সুরা বাকারা : ৪০)। আরও এসেছে, ‘তোমরা আল্লাহর নামে অঙ্গীকার করার পর সেই অঙ্গীকার পূর্ণ কর। তোমরা পাকাপোক্ত অঙ্গীকার করার পর তা ভঙ্গ কর না এবং প্রকৃত পক্ষে তোমরা তো নিজেদের জন্য আল্লাহকে জিম্মাদার বানিয়েছ। নিশ্চয়ই আল্লাহ জানেন, যা তোমরা কর।’ (সুরা নাহল : ৯১)।
প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ফলে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে ঝগড়া-বিবাদের পরিবেশ তৈরি হয়। যাদের ওয়াদা ভঙ্গের মাধ্যমে পারস্পরিক ঝগড়া-বিবাদের পরিবেশ সৃষ্টি হবে, কেয়ামতের দিন ওইসব ব্যক্তি খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আল্লাহ তায়ালা ওয়াদা ভঙ্গকারীর কাছে কৈফিয়ত তবল করবেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘ইতঃপূর্বে আল্লাহর সঙ্গে ওয়াদা করেছিল, তারা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে না। আর আল্লাহর সঙ্গে কৃত ওয়াদা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।’ (সুরা আযহাব : ১৫)। আরও এসেছে, ‘আল্লাহর দৃঢ়কৃত অঙ্গীকার ভঙ্গ করে এবং আল্লাহ যা জোড়া লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন তা ছিন্ন করে এবং জমিনে ফ্যাসাদ করে। তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।’ (সুরা বাকারা : ২৭)।
প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা মুনাফিকের আলামত। হযরত আবু হোরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মুনাফিকের আলামত তিনটিÑ
১. কথা বললে মিথ্যা বলে।
২. ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে।
৩. তার কাছে আমানত রাখা হলে খেয়ানত করে। (বুখারি : ১/৩৩)। যারা ইহকালে ওয়াদা ভঙ্গ করবে তাদের সঙ্গে আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিন কথা বলবেন না। ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা প্রতিশ্রুতি ও কসম সামান্য মূল্যে বিক্রি করে দেয়, পরকালে তাদের জন্য কোনো অংশই থাকবে না, সেদিন এদের সঙ্গে আল্লাহ তায়ালা কোনো কথা বলবেন না, আল্লাহ তাদের দিকে তাকিয়েও দেখবেন না এবং আল্লাহ তাদের পবিত্রও করবেন না, এদের জন্য রয়েছে কঠিন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।’(সুরা আলে ইমরান : ৭৭)।
কেয়ামত দিন আল্লাহ তায়ালা ওয়াদা ভঙ্গকারীর ওপর রাগান্বিত থাকবেন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলিমের মাল আত্মসাৎ করার জন্য অথবা তার ভাইয়ের মাল আত্মসাৎ করার জন্য যে ব্যক্তি মিথ্যা কসম করবে, আল্লাহর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ ঘটবে এমন অবস্থায় যে আল্লাহ তার ওপর রাগান্বিত থাকবেন। এ কথার সত্যতার জন্য আল্লাহ তায়ালা অবতীর্ণ করেন, ‘নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছমূল্যে বিক্রয় করে, তারা আখিরাতের নেয়ামতের কোনো অংশই পাবে না।’ (বুখারি : ৬৬৫৯)। কেয়ামতের দিন যদি আল্লাহ তায়ালা কারও ওপর নাখোশ হয়ে যান, তাকে সাহায্য করার মতো কেউ থাকবে না। ওই ব্যক্তিকে নিশ্চিত জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে হবে। আল্লাহ তায়ালা ওয়াদা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের মতো মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]