ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ২৫ নভেম্বর ২০২০ ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
ই-পেপার  বুধবার ২৫ নভেম্বর ২০২০

করোনাকালেও দুষ্টচক্র থেমে নেই : দুদক চেয়ারম্যান
প্রকাশ: রোববার, ২২ নভেম্বর, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 14

ষ   নিজস্ব প্রতিবেদক
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, করোনার মহাসঙ্কটেও আমরা দায়িত্ব পালনে পিছপা হইনি। ভবিষ্যতেও হব না। এই সঙ্কটকালেও দেশের দুষ্ট চক্রের কালো হাত থেমে নেই। সে কারণেই মাস্ক কেলেঙ্কারি, করোনা টেস্ট জালিয়াতি, ত্রাণসামগ্রী আত্মসাৎ ও চিকিৎসা জালিয়াতির মতো ঘটনা আমাদের সামনে এসেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই আমাদের ৭০ জনেরও বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনা আক্রান্ত হয়েছে।
শনিবার দুদকের ষোড়শ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ভার্চুয়াল এক আলোচনা সভায় ইকবাল মাহমুদ আরও বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা আত্মজিজ্ঞাসা বা আত্মসমালোচনার একটি প্লাটফরম। এর মাধ্যমে দুদকের প্রতিটি কর্মীর নিজ নিজ দর্শনের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে। এমন সময় এ বছরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন হচ্ছে যখন শুধু দুর্নীতি দমন কমিশন বা বাংলাদেশ নয় সারা বিশ^ই মহাসঙ্কট কাল অতিক্রম করছে। এই সময় দুষ্ট চক্রের কালো হাতকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে আমরা দিন-রাত কাজ করেছি। এই কাজ করতে গিয়েই হারিয়েছি আমাদের ৩ জন প্রতিশ্রুতিশীল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে। তারপরও দুর্নীতিপরায়ণদের সুখকর সময় পার করতে দেওয়া হচ্ছে না। আমাদের কাজটি ধন্যবাদহীন। এ কারণেই দুর্নীতির মূলোৎপাটনে দেশের সর্বস্তরের মানুষের সম্পৃক্ততার প্রয়োজন। তাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ছাত্র-শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ ও রাজনীতিবিদসহ সবার সমন্বিত সামাজিক আন্দোলন সৃষ্টি করতে হবে।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, আমরা দায়িত্ব নিয়েই বলেছিলাম কমিশন সবসময় গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানায়। কারণ গঠনমূলক সমালোচনাই কর্ম প্রক্রিয়াকে শানিত করে। সঠিক পথ দেখায়। সবাই সবকিছু জানে না। তাই অন্য কেউ যদি ভালো পথ দেখায় তা গ্রহণ করতে আমাদের আপত্তি নাই। আমরা সমালোচনার প্রত্যুত্তর দেই না বরং তা গ্রহণ করি। নিজেদের পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা করি।
তিনি বলেন, আমরা আইনি দায়িত্ব পালনে অঙ্গীকারবদ্ধ। তাই আমাদের ঝুঁকি নিতে কোনো ভয় নেই। আমরা ঝুঁকি নিয়েছি। সবাই সমন্বিতভাবেই ঝুঁকি নিয়েছি। কোনো হুমকি-ধমকি আমাদের আইনি দায়িত্ব পালনে নিবৃত করতে পারেনি। আমরা সবাই একই সমতলে থেকে দায়িত্ব পালন করেছি। আমার দীর্ঘ কর্ম-জীবনে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। তাতে আমার মনে হয়েছে দুদক কর্মকর্তাদের যে প্রজ্ঞা রয়েছে তা আন্তর্জাতিক মানের। আপনাদের সবার মননে যদি দুর্নীতিবিরোধী জাগরণ সৃষ্টি করতে পারেন, তা হলে তা দুর্নীতিবিরোধী গণজাগরণে রূপান্তরিত হবে। তাই আসুন, আমরা সবাই শপথ গ্রহণ করি, আমাদের সক্ষমতা, জ্ঞান, প্রজ্ঞা যা কিছু আছে তা দিয়ে জনগণের কল্যাণে তাদের সঙ্গে নিয়ে দুর্নীতিবিরোধী গণজাগরণ সৃষ্টি করি।
তিনি বলেন, আমি আজও বলব দুর্নীতিমুক্ত মাইন্ডসেট সম্পন্ন নাগরিক গড়তে হলে পরিবারের পরেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাস্তরে নৈতিক মূল্যবোধ বিকশিত হয় এমন শিক্ষার প্রয়োজন। একটি মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন জাতি গঠনে শিক্ষা বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, সমাজে কেউই দুর্নীতি চায় না। সমাজের কতিপয় ব্যক্তি দুর্নীতিগ্রস্ত। তাদের সংখ্যা সত্যিই নগণ্য। তাই সমাজের কাছে আমাদের অঙ্গীকার
থাকতে হবে। আমাদের আর্থসামাজিক অবস্থাকে সবসময় বিবেচনায় রাখতে হবে। আমাদের সবার প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গী থাকতে হবে। মানবিক দৃষ্টিভঙ্গী মানে অপরাধ বা অপরাধীর সঙ্গে আপস নয়। সব ধরনের ভয়-ভীতি ও লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে। সবাই মিলে শেষ দিন পর্যন্ত জনগণের কল্যাণে দুর্নীতি প্রশমন, দমন, প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে কাজ করব, এটাই হবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার।
দুদক চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দুদক কমিশনার এএফএম আমিনুল ইসলাম, সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত, বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত অনুবিভাগের মহাপরিচালক সাঈদ মাহবুব খান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অনুুবিভাগের মহাপরিচালক একেএম সোহেল, গোয়েন্দা অনুুবিভাগের পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী, ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. আক্তার হোসেন ও যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক নাজমুস সায়াদাত।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]