ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৮ নভেম্বর ২০২০ ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
ই-পেপার শনিবার ২৮ নভেম্বর ২০২০

করোনায় সরকারের ব্যাংক-নির্ভরতা কমেছে
নতুন করে ঋণ নিয়েছে ৯৪৫ কোটি টাকা
প্রকাশ: সোমবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২০, ১১:৩৬ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 12

ষ নিজস্ব প্রতিবেদক
চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকার আরও ৯৪৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার কাছ থেকে ঋণ পাওয়ায় প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে সরকারকে আগের চেয়ে ব্যাংকের দারস্থ কম হতে হচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তার সঙ্গে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ধীরগতি, সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ বৃদ্ধি এবং রাজস্ব আয়ে কিছুটা গতি আসায় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার পরিমাণ কমেছে। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাস শেষে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের নেওয়া মোট ঋণের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। অক্টোবর শেষে মোট ব্যাংক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৭৬৮ কোটি টাকা, যা ২০১৯-২০ অর্থবছর শেষে ছিল ১ লাখ ৭৭ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা যায়।
২০০৭-০৮ মেয়াদে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, করোনাভাইরাসের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বিশ^ব্যাংক, আইএমএফসহ বিভিন্ন দাতাসংস্থা প্রচুর ঋণ সহায়তা দেওয়ায় সরকারকে এখন আর ব্যাংক তেমন ঋণ নিতে হচ্ছে না।
পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান মনসুর বলেন, সামনে দাতাদের ঋণ দেওয়া যেতে পারে। তখন সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বেড়ে গেলে বাধ্য হয়েই ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হবে সরকারকে। এদিকে করোনাভাইরাস মহামারির এই কঠিন সময়ে রাজস্ব আদায় কমার আশঙ্কাসহ নানা কারণে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ৮৪ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরে সরকার।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) ৬৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১ দশমিক ১৪ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে অর্থবছরের তিন মাসের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বিদেশি ঋণ সহায়তার তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাতে দেখা যায়, এই তিন মাসে ১৩৮ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বিদেশি ঋণ সহায়তা পেয়েছে বাংলাদেশ, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ৫৪ শতাংশ বেশি। এ সময়ে বিশ^ব্যাংক, আইএমএফ, এডিবিসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থার কাছ থেকে এই ঋণ সহায়তা পাওয়া গেছে।
কোভিড-১৯-এর ক্ষতি মোকাবিলায় সরকারের অনুরোধে সাড়া দিয়ে এসব সহায়তা দিচ্ছে দাতারা। গত ২০১৯-২০ অর্থবছরেও ৭ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার দিয়েছিল বিভিন্ন দাতা দেশ ও সংস্থা; যা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ঋণ সহায়তা। আবার বেসরকারি খাতে নেওয়া স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানোর কারণে অনেকে এখন ঋণ পরিশোধ করছেন না। এদিকে এই মহামারির মধ্যেও সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেড়েই চলেছে। জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতর সর্বশেষ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ১১ হাজার ৬৬২ কোটি ৩১ লাখ টাকা টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। এই অঙ্ক গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে আড়াই গুণ বেশি। গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ৪ হাজার ৬৯৮ কোটি ৭ লাখ টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]