ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ৫ ডিসেম্বর ২০২০ ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
ই-পেপার শনিবার ৫ ডিসেম্বর ২০২০

রোহিঙ্গাদের হাতে বাংলাদেশি পাসপোর্ট
জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি জরুরি
প্রকাশ: সোমবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২০, ১১:৩৯ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 23

রোহিঙ্গাদের হাতে বাংলাদেশি পাসপোর্ট চলে যাচ্ছে। কীভাবে তা সম্ভব! মিয়ানমারের রাখাইনে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানে প্রায় ১০ হাজার মানুষ নিহত হয় বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। ২০১৮ সালের আগস্টে প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়, ওই অভিযানের পর থেকে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। সেই থেকে তাদের ফেরানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি দেশটি। তাদের এই একগুঁয়েমি দেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘে প্রদত্ত ভাষণে হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘মিয়ানমার মুখে প্রত্যাবাসনের কথা বললেও বাস্তবে কোনো উদ্যোগই নিচ্ছে না।’ তিনি অবিলম্বে জাতিসংঘের সঙ্গে মিয়ানমারের সম্পাদিত চুক্তি বাস্তবায়নেরও দাবি জানিয়েছিলেন। মানবতার দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। এজন্য বিশ^ সম্প্রদায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অকুণ্ঠ প্রশংসাও করেছে। রোহিঙ্গাদের নিয়ে ইতোমধ্যেই স্থানীয় জনগণের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিচ্ছে। সাড়ে তিন বছর ধরে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আছে। বাংলাদেশ সরকার তাদের মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়েছে। তারপরও রোহিঙ্গারা আশ্রিত হয়ে নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। তা ছাড়া ১১ লাখ মানুষকে বহন করা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য অর্থনৈতিক ঝুঁকিপূর্ণও বটে। যারা নিজ বাসভূমি ফেলে সামরিক জান্তার তাড়া খেয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে তাদেরও এই দেশের রীতিনীতি, আইন-কানুন মেনে চলা অবশ্যই কর্তব্য। রোহিঙ্গাদের মনে রাখতে হবে, এখানে তাদের অবস্থান অস্থায়ী। একসময় তাদের মিয়ানমারে ফিরে যেতেই হবে। রোহিঙ্গাদের বর্তমান বেপরোয়া অবস্থান আর দৌরাত্ম্য গোটা কক্সবাজার এলাকায় জনজীবনে অশান্তি সৃষ্টি করছে। রোহিঙ্গাদের হাতে অস্ত্র আসে কোথা থেকে? তারাই বা কেমন করে মাদক, চোরাচালান ও অপহরণের মতো অপরাধ করার সাহস পায়? হত্যা ও ধর্ষণে প্রায়ই শোনা যাচ্ছে রোহিঙ্গাদের নাম। এ নিয়ে গণমাধ্যম সরব ভূমিকা পালন করছে। ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি রয়েছে। সেই কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও তারা আইনবিরোধী কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ছে। এমনকি তারা নানা কৌশলে বাংলাদেশি পাসপোর্ট পাওয়ার চেষ্টা করছে।
দৈনিক সময়ের আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা ভুয়া পরিচয়ে পাসপোর্ট করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। স্থানীয় দালাল ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় তারা মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে যেতে কৌশলে বাংলাদেশি পরিচয়ে পাসপোর্ট পাওয়ার চেষ্টা করছে। শুধু স্থানীয় দালাল চক্রই নয়, দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায়ও সক্রিয় রয়েছে দালালরা।
ইতঃপূর্বে বহুবার কক্সবাজার, নোয়াখালী, বরিশাল, নরসিংদীসহ বিভিন্ন জেলায় রোহিঙ্গা নারী ও পুরুষ বাংলাদেশি পরিচয়ে পাসপোর্ট করতে এসে ধরা পড়েছে কর্তৃপক্ষের হাতে। তাদের আটকের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজাও হয়েছে। তবু থামছে না রোহিঙ্গাদের জালিয়াতি। টাকা খরচ করলেই বাংলাদেশি পাসপোর্ট পেয়ে যাচ্ছে তারা। তাদের সহায়তা করছে বাংলাদেশেরই দালাল চক্র। ২০১৭ সালে কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে আড়াইশরও বেশি রোহিঙ্গার আবেদন শনাক্ত হয়। এদের অধিকাংশই ছিল নারী। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও আঞ্চলিক ইমিগ্রেশন এবং পাসপোর্ট অফিসেও রোহিঙ্গা আবেদনকারী ধরা পড়ে।
এমনিতে রোহিঙ্গারা আশ্রয় পাওয়ার পর নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এ অপরাধের সঙ্গে পাসপোর্ট অফিসের কিছু কর্মচারীও জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। চট্টগ্রাম পাসপোর্ট অফিসের বিভাগীয় পরিচালক বলেছেন, আবেদনের আগে এনআইডি, জন্মনিবন্ধন কীভাবে পায় তা আমরা বলতে পারব না, তারা তো পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্টও পায়! এখন আমরা সফটওয়্যার ব্যবহার করছি ভুয়া আবেদন শনাক্ত করার জন্য। বিশেষ করে আমাদের কাছে দেওয়া ফিঙ্গারপ্রিন্ট, রোহিঙ্গাদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও এনআইডির ফিঙ্গারপ্রিন্ট মিলিয়ে দেখছি।
রোহিঙ্গাদের পাসপোর্টপ্রাপ্তির ব্যাপারে দালাল চক্র ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা স্পষ্টভাবে জড়িত। আমরা মনে করি, বাস্তুহীন রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট প্রাপ্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুটি হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।  যারা রোহিঙ্গাদের সহায়তা করেছে তাদের আইনের আওতায় আনা প্রাথমিক কর্তব্য। জাতীয় স্বার্থবিরোধী কর্মে লিপ্ত থাকায় ওইসব অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এখন সময়ের দাবি। অন্য দেশের নাগরিক বাংলাদেশের পরিচয় দেবে তা কাম্য হতে পারে না। বিষয়টি থেকে উত্তরণের জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর ভূমিকার বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই নিতে হবে জোরালো পদক্ষেপ।











সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]