ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৮ নভেম্বর ২০২০ ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
ই-পেপার শনিবার ২৮ নভেম্বর ২০২০

শেষ রাতের আমল
প্রকাশ: সোমবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২০, ১১:৪২ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 50

মুফতি হেলাল উদ্দীন হাবিবী
রাত যখন গভীর হয়, চারদিক নিকষ কালো অন্ধকারে ছেয়ে যায়। কোলাহলে মুখরিত জনবসতিতে নেমে আসে নীরব-নিস্তব্ধতা। বনের পশুপাখিরাও ঘুমের কোলে ঢলে পড়ে। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সবাই নিজেদের ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়। মহান রাব্বুল আলামিন তখন তার প্রিয় বান্দাদের জন্য রহমতের দুয়ার উন্মুক্ত করে দেন।
গভীর রজনীতে মানুষ মূলত তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। প্রথম ভাগÑ রাতের অন্ধকারকে মোক্ষম সুযোগ মনে করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পরে। দ্বিতীয় ভাগÑ পূর্ণ রজনী ঘুমের ঘোরে কাটিয়ে দেয়। তৃতীয় ভাগÑ রাতের অন্ধকার ও নীরবতাকে মহান স্রষ্টার সন্তুষ্টি ও সান্নিধ্য লাভের বিশেষ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে মহান প্রভুর সঙ্গে প্রেমের আলাপনে মশগুল হন। রাতের শেষ ভাগে বান্দা যে নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করেনÑ ইসলামের পরিভাষায় এই নামাজকে তাহাজ্জুদের নামাজ বলা হয়। প্রিয় নবী (সা.), সাহাবায়ে কেরাম ও স্রষ্টার সান্নিধ্যপ্রাপ্ত মনীষীগণ রাতের শেষাংশকে তাহাজ্জুদ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে কাটাতেন।
যেসব পুণ্যবান বান্দা গভীর রজনীতে ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে মহান স্রষ্টার আনুগত্যে মশগুল হয়, মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে তাদের প্রশংসা করে বলেন, ‘যে ব্যক্তি গভীর রজনীতে সেজদার মাধ্যমে অথবা দাঁড়িয়ে ইবাদতে মশগুল হয়, পরকালের আশঙ্কা রাখে এবং তার পালনকর্তার অনুগ্রহ কামনা করে, সে কি তার সমান যে এরূপ করে না? আপনি বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না; তারা কি সমান হতে পারে? চিন্তাভাবনা কেবল তারাই করে, যারা বুদ্ধিমান।’ (সুরা যুমার : আয়াত ৯)
মহান আল্লাহ তায়ালা তাদের সম্পর্কে আরও ইরশাদ করেন, ‘তাদের পাশর্^ শয্যা থেকে আলাদা থাকে। তারা তাদের পালনকর্তাকে ডাকে ভয় ও আশা নিয়ে এবং আমি তাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি, তা থেকে তারা ব্যয় করে।’ (সুরা
সিজদাহ : আয়াত ১৬)
হজরত আবু উমামা বাহেলী (রা.) থেকে বর্ণিতÑ রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমরা অবশ্যই তাহাজ্জুদের নামাজ পড়। এটা তোমাদের পূর্ববর্তী নেক লোকদের পদ্ধতি। এর দ্বারা স্বীয় রবের নৈকট্য লাভ হয় এবং গুনাহ মাফ হয়। (মুসতাদরাকে হাকেম)
গভীর রজনী বা রাতের শেষাংশ রাব্বুল আলামিনের নিকট বিশেষ রহমতের সময় হিসেবে বিবেচিত। এই সময় আল্লাহ তায়ালা তার রহমত পিয়াসী মুমিন বান্দাদের জন্য রহমতের চাদর বিছিয়ে দেন এবং মাগফিরাতের হাত প্রসারিত করেন। তাই রহমতের সময় মহান রহমানকে স্মরণ করা, তার পবিত্রতা ও গুণগান বর্ণনা করা এবং তার কুদরতি কদমে অশ্রু বিসর্জন দিয়ে মাগফিরাত কামনা করা প্রত্যেক মুমিনের জন্য বাঞ্ছনীয়।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]