ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ২৪ জানুয়ারি ২০২১ ১০ মাঘ ১৪২৭
ই-পেপার রোববার ২৪ জানুয়ারি ২০২১

বকেয়া টাকা পেলেও কিছুদিন চলতে পারতাম : ক্যান্টিন মালিক
মোতাছিম বিল্লাহ নাঈম ঢাবি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২০, ১১:০৪ পিএম আপডেট: ২৪.১১.২০২০ ১২:১৪ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 56

‘করোনার লাইগা হলগুলো বন্ধ কইরা দিসে। কোনো ছাত্ররে হলে থাকতে দেয় নাই। এর লাইগা আমগো ক্যান্টিনও বন্ধ কইরা দিসি। হাতে জমানো কোনো টাকা নাই। ৭ জনের এত বড় সংসার চালামু কেমনে? তাই শ্রমিকের কাজ করি। করোনায় মরুম কি না জানি না, তবে এহন যদি এই শ্রমিকের কাজ না করি তাইলে খিদায় মরা লাগব। হলের প্রশাসন আমগো কোনো খোঁজ-খবর নেয় না।’
ক্যান্টিন বন্ধ থাকায় কীভাবে চলছেন? জিজ্ঞেস করতেই এক নাগাড়ে কথাগুলো বলে গেলেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের (ঢাবি) কবি জসিমউদদীন হলের ক্যান্টিন মালিক ডালিম হোসেন। বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন হল বন্ধ করে দেওয়ার পর গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর গিয়ে দিনমজুরের কাজ করেন তিনি। ৭ সদস্যের ভরণ-পোষণের বিশাল দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে এই কাজে নামেন তিনি। এর আগে ক্যান্টিন থেকে প্রাপ্ত আয় দিয়ে অনায়াসে চালিয়ে যেতে পারতেন সংসারের খরচ। কিন্তু এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাকে তীব্র অর্থ সঙ্কটের মধ্যে পড়তে হচ্ছে।
বেশ কয়েকজন ক্যান্টিন মালিক ও বয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, তাদের বেশিরভাগ বর্তমানে বেকার সময় পার করছে। কিছু সংখ্যক কর্মচারী দেশের বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করছে। বাকিরা দিনমজুরের কাজ করছে আর ক্যান্টিন খোলার অপেক্ষা করছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্যান্টিন, ক্যাফেটেরিয়া এবং দোকানগুলোতে ১ হাজারের অধিক মানুষ কাজ করে; যারা বিশ^বিদ্যালয়ের বেতনভুক্ত নয়। হলের মধ্যে বিদ্যমান দোকান, ক্যান্টিন, ক্যাফেটেরিয়া এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোই এদের আয়ের উৎস। করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকে এসব দোকান বন্ধ হয়ে যায়। ফলে তাদের একমাত্র আয়ের পথেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। বর্তমানে তারা ব্যাপক আর্থিক সঙ্কটে দিনাতিপাত করছে।
ফজলুল হক মুসলিম হলের ক্যান্টিন বয় মজিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ক্যান্টিন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বাড়ি এসে ‘মাটি কাটার’ কাজ শুরু করি। কিন্তু এখানে এক দিন কাজ পাইলে আবার কয়েক দিন বেকার থাকতে হয়। প্রত্যেক দিন কাজ পাওয়া যায় না। আবার কাজ করার সামর্থ্য থাকার কারণে কারও কাছে সাহায্যও চাইতে পারি না, তাই কাজ করার চেষ্টা করি। ক্যান্টিন খোলা থাকলে তো মাসে মাসে বেতন পেতাম পরিবারের আর কোনো সমস্যা হতো না। এভাবে চলতে থাকলে আর বেশিদিন টিকতে পারব না। এখন যত দ্রুত ক্যান্টিন খুলবে ততই ভালো।
বিশ^বিদ্যালয় বন্ধের শুরুর দিকে কিছু সেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সামান্য সাহায্য পাঠানো হয়। পরবর্তীতে তাও বন্ধ হয়ে যায়। ক্যান্টিনের এক মালিক বলেন, ছাত্রদের কাছে যে টাকা পাওনা আছে সেটা যদি শিক্ষার্থীরা দিত তাহলে আমাদের এত কষ্ট হতো না। কিছুদিন চলতে পারতাম। আমরা এখন উভয় সঙ্কটে। না পারছি নতুন করে ব্যবসা শুরু করতে, না পারছি বসে থাকতে। আমরা বসে থাকলে আমাদের পরিবার খাবে কী? প্রশাসন যদি বিশ^বিদ্যালয় খুলে দিত তাহলে আমরা দুবেলা খেয়ে বেঁচে থাকতে পারতাম।
এ ব্যাপারে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের অবস্থান জানতে চাইলে কবি জসীমউদদীন আবাসিক হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ সময়ের আলোকে বলেন, ক্যান্টিনের কেউ বিশ^বিদ্যালয়ের তালিকাভুক্ত কর্মচারী না। তাদের দায়-দায়িত্বও আমাদের না। আমরা তো আমাদের শিক্ষার্থীদের দায়িত্বই ঠিকমতো নিতে পারছি না। তাহলে তাদের দায়িত্ব নেব কীভাবে? এ ছাড়াও ক্যান্টিন বা দোকানের কোনো কর্মচারী আমাদের কাছে আসেনি। আসলে তা বিবেচনা করা যেত।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]