ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ২২ জানুয়ারি ২০২১ ৮ মাঘ ১৪২৭
ই-পেপার শুক্রবার ২২ জানুয়ারি ২০২১

অক্সফোর্ড ভ্যাকসিনের  সাফল্যের হারই বেশি
যুক্তরাষ্ট্রে টিকা প্রদান শুরু ডিসেম্বরে
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২০, ১১:০৪ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 26

ব্রিটেনের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি করোনাভাইরাসের যে ভ্যাকসিনটি নিয়ে কাজ করছে, সেটির একটি ব্যাপক ট্রায়ালের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, ভ্যাকসিনটি শতকরা ৭০ ভাগ মানুষের মধ্যে করোনাকে বাসা বাঁধতে দেয় না। ফাইজার ও মডার্না যখন দাবি করছে তাদের তৈরি ভ্যাকসিনের সাফল্য এ ক্ষেত্রে ৯৫ শতাংশ, তখন এই খবরটিকে একই সঙ্গে হতাশাব্যঞ্জক এবং বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, অন্য টিকা দুটির তুলনায় অক্সফোর্ডের টিকাটি হবে অনেক সস্তা, সংরক্ষণ এবং দুনিয়ার প্রতিটি কোনায় ছড়িয়ে দেওয়া হবে অপেক্ষাকৃত সহজ। বিবিসি।
সুতরাং নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ যদি এই টিকা অনুমোদন করে, সেটি মহামারি মোকাবিলার ক্ষেত্রে এই টিকাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এমন তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে যে, ভ্যাকসিনটিকে আরও নিখুঁত করে তোলা গেলে এটিরও সাফল্যের হার বেড়ে ৯০ শতাংশে পৌঁছে যাবে। যুক্তরাজ্যের সরকার এর মধ্যেই অক্সফোর্ডের টিকার ১০ কোটির চাহিদা জানিয়েছে, যা দেশটির ৫ কোটি মানুষকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
যুক্তরাজ্য ও ব্রাজিলজুড়ে ২০ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবী অক্সফোর্ডের টিকার মানবপর্যায়ের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। গবেষকরা বলছেন, মানবপর্যায়ের পরীক্ষায় তারা ৭০ শতাংশ সফলতা দেখতে পেয়েছেন। তবে কৌতূহলোদ্দীপক ব্যাপার হলো, স্বেচ্ছাসেবীদের একটি অংশের মধ্যে এই টিকার ৯০ শতাংশ সফলতা পাওয়া গেছে, যাদের প্রথমে টিকার অর্ধেক ডোজ দেওয়া হয়, পরে বাকিটা দেওয়া হয়েছিল।
যুক্তরাজ্যের জন্য এর মধ্যেই ৪০ লাখ টিকা প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। আরও ৯ কোটি ৬০ লাখ টিকার সরবরাহ বাকি রয়েছে। তবে যে কর্তৃপক্ষ টিকার নিরাপত্তার দিকগুলো, কার্যকারিতা এবং মানের বিষয় তদারকি করে, সেই কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দেওয়ার পরই এই টিকার ব্যবহার শুরু করা যাবে। তবে যুক্তরাজ্য একটি ব্যতিক্রম ধরনের গণটিকা কর্মসূচি শুরু করার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। সে জন্য সর্দি-কাশি বা শিশুদের টিকা দেওয়ার যে বার্ষিক কর্মসূচি পালন করা হয়ে থাকে, সেখানে কিছু কাটছাঁট করা হতে পারে। বয়স্ক সেবা কেন্দ্রের বাসিন্দা আর কর্মীরা সবার আগে টিকা পাবেন। এর পরই পাবেন স্বাস্থ্যকর্মী এবং ৮৫ বছর বয়সের ওপরের ব্যক্তিরা। এর পর বয়সের ধাপ অনুযায়ী বাকি সবাই টিকা পাবেন।
যুক্তরাষ্ট্রে টিকা প্রদান : যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ১১ ডিসেম্বর থেকে করোনাভাইরাসের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হতে পারে। বয়স ও ঝুঁকি বিবেচনায় ধাপে ধাপে টিকা পাবেন মার্কিনিরা। দেশটির করোনাভাইরাস কার্যক্রমের প্রধান ড. মনসেফ সøাওইয়ের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে। ড. মনসেফ সøাওই মার্কিন সংবামাধ্যম সিএনএনকে জানিয়েছেন, করোনার কোনো টিকা ব্যবহারের অনুমোদন পাওয়ার ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তা টিকাদানের জন্য নির্ধারিত কেন্দ্রে পৌঁছানোর’ পরিকল্পনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে এমন মন্তব্য করেছেন ড. মনসেফ সøাওই।
জনস হপকিন্স বিশ^বিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্যের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ১ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে এবং মারা গেছে দুই লাখ ৫৫ হাজার মানুষ। এদিকে যৌথভাবে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরি করার পর, প্রতিষেধকটির জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন চেয়ে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থার (এফডিএ) কাছে আবেদন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ফাইজার এবং জার্মানির জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বায়োএনটেক।
বুধবার ফাইজার-বায়োএনটেক তাদের তৈরি ভ্যাকসিন করোনা প্রতিরোধে ৯৫ শতাংশ কার্যকর বলে ঘোষণা করে। প্রতিষেধক হিসেবে টিকার দুটি ডোজ দিতে হবে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ টিকার সর্বাধিক ৫ কোটি ডোজ উৎপাদন করতে পারবে বলে আশা করছে ফাইজার। ফাইজার-বায়োএনটেকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এফডিএ জানিয়েছে, ভ্যাকসিনটির জরুরি প্রয়োগের অনুমোদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে তাদের উপদেষ্টা কমিটি আগামী ১০ ডিসেম্বর বৈঠকে বসবে। ড. মনসেফ সøাওই সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে জানিয়েছেন, ভ্যাকসিনটি ব্যবহারের অনুমোদন পেলে দিনদুয়েকের মধ্যেই হয়তো সেটি প্রয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলোর জনসংখ্যার ওপর ভিত্তি করে ভ্যাকসিনগুলো সরবরাহ করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের আরেক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মডার্না গত সোমবার ঘোষণা করেছিল, তাদের তৈরি করোনার ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফলে দেখা গেছে প্রতিষেধকটি ৯৪ দশমিক ৫ শতাংশ কার্যকর। এ ছাড়া মডার্না আরও জানিয়েছে, নিজেদের ভ্যাকসিনের আরও সুরক্ষা সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার পর চলতি মাসের মধ্যে তারাও এফডিএর কাছে টিকার জরুরি প্রয়োগের অনুমতির আবেদন করবে।
ভারতে আক্রান্ত ৯১ লাখ ছাড়াল : ভারতে করোনায় আক্রান্তের মোট সংখ্যা ৯১ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। সুস্থতার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮৫ লাখ ৬২ হাজার ৬৪১ জন। দেশটির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সোমবার এ কথা জানিয়েছে। সূত্র জানায়, দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯১ লাখ ৩৯ হাজার ৮৬৫ জন। নতুন ৫১১ জন মারা যাওয়ায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৭৩৮ জনে। বর্তমানে অসুস্থ রয়েছে ৫ লাখেরও কম লোক। এ সংখ্যা ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৪৮৬ জন। এটি মোট আক্রান্তের ৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ। সুস্থতার হার ৯৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ। মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ। সোমবার সকালে জনস হপকিন্স বিশ^বিদ্যালয় থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বিশ^ব্যাপী মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ১৩ লাখ ৮৬ হাজার ৪৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে পৌঁছেছে ৫ কোটি ৮৫ লাখ ৬৩ হাজার ৪৫১ জনে। সোমবার সকাল পর্যন্ত সারা বিশে^ প্রাণঘাতী এ ভাইরাস থেকে সুস্থ হয়েছেন ৩ কোটি ৭৪ লাখ ৩১ হাজার ৮৮ জন।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]