ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ১৭ জানুয়ারি ২০২১ ২ মাঘ ১৪২৭
ই-পেপার রোববার ১৭ জানুয়ারি ২০২১

এবার ৫১ শতাংশ ইলিশ নদীতে ডিম ছেড়েছে
শরীফুল ইসলাম চাঁদপুর
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২০, ১১:০৪ পিএম আপডেট: ২৪.১১.২০২০ ১২:১২ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 132

চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনাসহ দেশের বিভিন্ন নদ-নদীতে চলা ২২ দিনের মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রমে ৫১.২ শতাংশ মা ইলিশ নদীতে ডিম ছেড়েছে বলে জানিয়েছেন চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান। তিনি জানান, অভয়াশ্রমের সময়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের অভিযান সফল হওয়ায় এ বছর নদীতে রেকর্ড পরিমাণে ডিম ছেড়েছে মা ইলিশ। আগামী মৌসুমে নতুন করে আরও প্রায় ৩৭ হাজার ৮শ’ কোটি ইলিশের পোনা নদীতে উৎপন্ন হবে বলে আশা করেন তিনি। কিছু নিয়ম অনুসরণ করতে পারলে আগামীতে ইলিশের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে বলেও আশাবাদী তিনি। আশি^নের ভরা পূর্ণিমা ও অমাবস্যাকে কেন্দ্র করে
নদীতে ডিম ছাড়ে মা ইলিশ। ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশকে ডিম ছাড়ার সুযোগ করে দিতে গত ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনাসহ দেশের বিভিন্ন উপকূলীয় জেলার নদীগুলোকে ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করে সরকার। এই সময়ে নদীতে মাছ ধরা, পরিবহন, বাজারজাতকরণসহ সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছিল। মৎস্য বিভাগ, প্রশাসন, কোস্ট গার্ড ও পুলিশ মাছের অভয়াশ্রম নিশ্চিতে কাজ করেছে। তবুও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অনেক অসাধু জেলে এ সময়ে ইলিশ নিধন করেছে।
ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান সময়ের আলোকে জানান, ইলিশ মাছ পরিভ্রমণ স্বভাবের। প্রজননের সময়ে ইলিশ সাগর ছেড়ে সাগর মোহনা ও নদ-নদীতে ছুটে আসে। প্রজনন মৌসুমে ইলিশের অভয়াশ্রম কার্যক্রম বাস্তবায়নের ফলে প্রতিবছর দেশে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি
পাচ্ছে। চলতি বছর সঠিক সময় ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করায় এবং নদীতে ভালো অভিযান হওয়ায় বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার সর্বোচ্চ পরিমাণে ইলিশ ডিম ছেড়েছে। তিনি আরও জানান, বিগত বছরগুলোর দিকে নজর দিলে দেখা যায় প্রতিবছরই মা ইলিশের ডিম ছাড়ার পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৬ সালে ৪৩.৪৫ শতাংশ, ২০১৭ সালে ৪৬.৪৭ শতাংশ, ২০১৮ সালে ৪৭.৭৫ শতাংশ এবং ২০১৯ সালে ৪৮.৯২ শতাংশ ইলিশ নদীতে ডিম ছাড়ার সুযোগ পেয়েছে। এ বছর ৫১.২ শতাংশ মা ইলিশ ডিম ছেড়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২ শতাংশেরও বেশি। মৎস্য গবেষকদের তিনটি গ্রুপ যৌথভাবে কাজ করে এই ফল নিশ্চিত করেছে বলে জানান তিনি।
ড. আনিস আরও জানান, এ বছর যে পরিমাণে ডিম ছেড়েছে তার ১০ ভাগও টেকানো গেলে আগামী মৌসুমে প্রায় ৩৭ হাজার ৮শ’ কোটি জাটকা পেতে চলছি আমরা। আগামী মার্চ-এপ্রিল দুই মাস জাটকা সংরক্ষণ মৌসুমে অভিযান সফল করা গেলে দেশ ইলিশের প্রাচুর্যে ভরে উঠবে। এ বছর দেশে ইলিশ উৎপাদন হয়েছে ৫ লাখ ৩৩ হাজার টন। আসন্ন জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রম ভালোভাবে সম্পন্ন করতে পারলে দেশে ইলিশের উৎপাদন সাড়ে ৫ লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করছেন ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকী সময়ের আলোকে জানান, মা ইলিশ অভয়াশ্রম কার্যক্রম সফল করতে জেলা প্রশাসন, কোস্ট গার্ড ও পুলিশ বিভাগের সহযোগিতায় আমরা দিন-রাত নদীতে টহল দিয়েছি। তা ছাড়া এবারই প্রথম মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে বিমানবাহিনী ও র‌্যাব নদীতে অভিযানে যোগ দিয়েছিল। সমন্বিত কার্যক্রমের ফলে এ বছর অভিযান সফল হয়েছে। তার পরও কিছু অসাধু জেলে নদীতে ইলিশ ধরেছে। তিনি আরও জানান, এ বছর মোট ২৮৫টি অভিযানের মাধ্যমে ৭ কোটি ৪ লাখ ৪৬ হাজার মিটার কারেন্ট জাল, ৫ হাজার ১৯২ কেজি ইলিশসহ ৩১১ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে। আটক জেলেদের মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২৪৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান এবং ৬৩ জনকে মোট ২ লাখ ৪ হাজার ১শ’ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দেশে ইলিশের উৎপাদনের ধারাবাহিকতা রক্ষায় অতীতের মতো কাজ করবে যাবে মৎস্য বিভাগ। বিশেষ করে আগামী জাটকা মৌসুমে আরও কঠোরভাবে নদীতে অভিযান চালানো হবে বলে জানান তিনি।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]