ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২১ ১৪ মাঘ ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২১

অলস তিন কন্টেইনার জাহাজ নিয়ে বিপাকে চট্টগ্রাম বন্দর
জসীম চৌধুরী সবুজ চট্টগ্রাম
প্রকাশ: বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২০, ১১:১৮ পিএম আপডেট: ২৪.১১.২০২০ ১১:৫৭ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 37

বন্দরের কাজ সেবা দেওয়া। দেশি-বিদেশি জাহাজকে সেবা দিয়ে মাশুল আদায় করে বন্দর। জাহাজ পরিচালনা তাদের কাজ নয়। তারপরও কেনা হয়েছিল তিনটি কন্টেইনার জাহাজ। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নারায়ণগঞ্জের পানগাঁও টার্মিনালে কন্টেইনার পরিবহনের জন্য কেনা হয়েছিল এই জাহাজ তিনটি। চীন থেকে ৫৬ কোটি টাকায় কেনা পুরনো তিন জাহাজ নিয়ে এখন বিপাকে পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)। তিন বছর ধরে বন্দর জেটিতে অলস বসে রয়েছে জাহাজ তিনটি। ভাড়া দেওয়ার চেষ্টায় কয়েকবার টেন্ডার আহ্বান করেও আশানুরূপ সাড়া মেলেনি। অলস বসিয়ে রাখায় জাহাজগুলোও স্ক্র্যাপ হতে চলেছে। জাহাজ তিনটি হচ্ছেÑ এমভি পানগাঁও এক্সপ্রেস, পানগাঁও সাকসেস ও পানগাঁও ভিশন। একটি জাহাজে ১২০ থেকে ১৪০ টিইইউস কন্টেইনার পরিবহন করা যায়। এই তিনটি জাহাজ এখন বন্দরের গলার কাঁটা। কীভাবে এই বোঝা নামানো যায় তার কোনো পথও খুঁজে পাচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। তাই কমিটি করা হয়েছে জাহাজ তিনটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে। ডিজি শিপিং অফিসের একজন সার্ভেয়ারের নেতৃত্বে কমিটি কাজ করছে। তাদের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হবে পরবর্তী পদক্ষেপ।
২০১৩ সালে চীন থেকে পুরনো জাহাজ তিনটি কেনার পর দেড় বছরের মতো বন্দরের অধীনে এগুলো পরিচালনা করা হয়। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নৌপথে পানগাঁও নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত কন্টেইনার না থাকায় প্রায় সময়ই ৪০-৫০ কন্টেইনার নিয়ে চলাচল করেছে। এর নাবিকদের বেতন ভাতা ও পরিচালন ব্যয় মিলিয়ে লোকসান হতে থাকায় জাহাজগুলো ভাড়ায় দেওয়া হয়। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হস্তান্তর করা হয় সামিট গ্রুপের সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেডকে। প্রতিটি জাহাজের মাসিক ভাড়া ১৪ লাখ হিসাবে ৪২ লাখ টাকা ভাড়ায় পাঁচ বছরের জন্য সামিট জাহাজ তিনটি নিয়ে পানগাঁও রুটে পরিচালনা করতে থাকে। আড়াই বছর পর সামিট গ্রুপ জাহাজ তিনটি পরিচালনায় অক্ষমতা প্রকাশ করে। ২০১৮ সালে তারা জাহাজগুলো বন্দরকে বুঝিয়ে দেয়।
সামিটের কাছে পাওনা নিয়ে তখন জটিলতা দেখা দেয়। সামিট পুরো ভাড়া এবং মেরামত খরচ কোনোটিই পরিশোধ করেনি। সেই থেকে জাহাজ তিনটি অলস বসে রয়েছে বন্দরের জেটিতে। চবক কয়েকবার টেন্ডার আহ্বান করেছে। কিন্তু একটি জাহাজের মাসিক ভাড়া ৩ লাখ টাকার ওপরে দর পাওয়া যায়নি। এখন ভাড়ার চিন্তা দূর করে জাহাজগুলো বিক্রি করে দিয়ে বোঝা কমাতে চায় বন্দর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কীভাবে এই বোঝা নামানো যায় সেজন্য গঠিত কমিটির রিপোর্টের অপেক্ষায় বন্দর কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক সময়ের আলোকে জানান, পানগাঁও রুটে চলাচলের জন্য কেনা জাহাজ তিনটি কী করা যায় তা নির্ধারণে গঠিত কমিটি কাজ করছে। তারা দেখবে জাহাজগুলো আদৌ পরিচালনযোগ্য আছে কিনা। থাকলে নিলামে বিক্রি বা না হলে স্ক্র্যাপ করার সুপারিশ যা করে, সে ব্যবস্থাই নেওয়া হবে। তবে এজন্য মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন নিতে হবে।
বন্দর সূত্র জানান, চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ দিন দিন বেড়ে চলেছে। এখান থেকে ৭০ ভাগ কন্টেইনার যায় ঢাকা এবং পাশর্^বর্তী এলাকাগুলোয়। যার অধিকাংশই যায় সড়কপথে। বাকি ৬-৭ ভাগ পরিবহন করে রেলওয়ে। রেল ও সড়কের ওপর চাপ কমাতে ১৯৯৩ সালে নারায়ণগঞ্জের পানগাঁও এলাকায় পানগাঁও টার্মিনাল (আইসিডি) তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তিতে ৮৮ একর জমির ওপর এই টার্মিনাল নির্মাণে ১৭৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ২০১১ সালে চালু হয় পানগাঁও টার্মিনাল। কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী পানগাঁও টার্মিনালে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হচ্ছে না। আমদানিকারকরা এই টার্মিনাল ব্যবহারে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এই রুটে কন্টেইনার পরিবহনের জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ৩২টি জাহাজের লাইসেন্স প্রদান করেছিল শিপিং অফিস। কিন্তু গত পাঁচ বছরে একটি জাহাজও আমদানি বা তৈরি হয়নি।









সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]