ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ২২ জানুয়ারি ২০২১ ৮ মাঘ ১৪২৭
ই-পেপার শুক্রবার ২২ জানুয়ারি ২০২১

নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা
ফারিহা হোসেন
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০, ১১:৪৫ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 32

একটি মানবিক, জনকল্যাণমূলক দল ও সরকারের উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য হওয়া উচিত দেশের মানুষের অধিকতর সুখ, শান্তি, কল্যাণকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। পৃথিবীর বহু কল্যাণকর রাষ্ট্রে ও সমাজে এই ব্যবস্থা বিদ্যমান। এ বিবেচনায় এশিয়ার প্রাচীনতম দল আওয়ামী লীগ এবং এই দলের কাণ্ডারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার সেই পথেই সরকার ও দলকে পরিচালনা করে আসছেন। পাশাপাশি নারী শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়নে তিনি ও তার দল জনগণের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এরকম ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে। প্রথম দফায় ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে এবং পরবর্তী সময়ে ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য সফলতা রেখেছেন। এভাবে তৃতীয় এবং চতুর্থ দফায় রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে বাংলাদেশকে একটি মানবিক, কল্যাণকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলেছে। বিশেষ করে সমাজে পিছিয়ে পড়া দরিদ্র অসহায়, অসচ্ছল, পঙ্গু, অটিস্টিক, বিধবা, বয়স্ক, স্বামী পরিত্যাক্তাসহ নানা বয়সি গরিব মানুষদের নিয়ে আসা হয়েছে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায়। সামাজিক, অর্থনৈতিক সচ্ছলতা দিতে নেওয়া সর্ববৃহৎ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির (ভিজিডি) আওতায় দুস্থ ও অসহায় এবং শারীরিকভাবে সক্ষম মহিলাদের জন্য প্রতি মাসে ৩০ কেজি খাদ্যশস্য ও প্রশিক্ষণ পেয়ে থাকেন। ভিজিডি মোট সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখ। দরিদ্র মা ও শিশুমৃত্যু হার হ্রাস, মাতৃদুগ্ধ পানের হার বৃদ্ধি, গর্ভাবস্থায় উন্নত পুষ্টি উপাদান গ্রহণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘দরিদ্র মা’র জন্য মাতৃত্বকাল ভাতা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ১৬ হাজার ৩৮০ জন। মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম বিভিন্ন বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিত্তহীন ও দরিদ্র মহিলাদের উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্তকরণের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ক্ষুদ্রঋণ প্রদান করা হচ্ছে।
সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে জেলা ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে নারীর প্রতি সহিংসতা রোধসহ নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কমিটি গঠন এবং বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। ইউনিয়ন পর্যায়েও নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠা করা হয়, ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি)। নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে ৮টি বিভাগীয় শহরে অবস্থিত সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) স্থাপন করা হয়েছে। ওসিসি হতে নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের চিকিৎসা সহায়তা, আইনি সহায়তা, পুলিশি সহায়তা, ডিএনএ পরীক্ষা, মানসিক কাউন্সেলিং, আশ্রয় এবং সমাজের পুনর্বাসনের জন্য সহযোগিতা প্রদান করা হয়। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ন্যাশনাল হেল্পলাইন সেন্টার চালু করা হয়। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে কার্যক্রমের মাধ্যমে হেল্পলাইনের ১০৯২১ নাম্বারে তাৎক্ষণিকভাবে আইনি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। যেকোনো মোবাইল থেকে ২৪ ঘণ্টা এই নাম্বারে ফোন করে নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশু তাদের পরিবারের সদস্যসহ যে কেউ প্রয়োজনীয় সাহায্য পেতে পারেন।
দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলা পর্যায়ে গ্রামীণ দুস্থ মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে মহিলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে বিভিন্ন ট্রেডে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রয়াস জয়িতা এবং অঙ্গনা দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা নারী উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র সংগঠনের উৎপাদিত পণ্য ও সেবা, বিপণন ও বাজারজাতকরণে সহায়তায় দিয়ে আসছে। এ ছাড়া ল্যাকটেটিং মাদারের সহায়তা শহর এলাকার দরিদ্র কর্মজীবী মা এবং তাদের শিশুদের সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের মাধ্যমে সার্বিক জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও কর্মজীবী উপকারভোগী দরিদ্র মায়েদের দুই বছরব্যাপী প্রতি মাসে ৩৫০ টাকা করে ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। কর্মজীবী নারীদের নিরাপদ আবাসন সুবিধার নিমিত্তে সারা দেশে ১০টি মহিলা হোস্টেল পরিচালনা করা হচ্ছে। কর্মজীবী ও শ্রমজীবী মায়েদের শিশুদের জন্য ঢাকাসহ সব বিভাগীয় শহরে দিবাযত্ন কেন্দ্র পরিচালনা করা হচ্ছে। বাল্যবিবাহ, যৌন হয়রানি রোধকল্পে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। উপকারভোগী কিশোর-কিশোরীর সংখ্যা প্রায় অর্ধলাখ। ৮ বিভাগের ১০ জেলায় সব উপজেলায় ৩৭৯টি ক্লাবের মাধ্যমে এ কর্মসূচি চলছে।
মহিলা, শিশু ও কিশোরী হেফাজতকারীদের নিরাপদ আবাসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মহিলা, শিশু ও কিশোরী নিরাপদ আশ্রয়ের পাশাপাশি সকল প্রকার শারীরিক ও মানসিক চিকিৎসা এবং আইনগত সহায়তা সেবা প্রদান করা হয়। মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের মহিলা সহায়তা কর্মসূচির অধীনে নির্যাতনের শিকার, অসহায়, দুস্থ নারীদের আইনি সহায়তা প্রদানের জন্য বিভাগীয় পর্যায়ে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সেল এবং নির্যাতিত নারীদের সাময়িক অবস্থানের জন্য আবাসন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। প্রতিরোধ সেলে নির্যাতনের শিকার নারীদের অভিযোগ গ্রহণ, কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি, দেনমোহর, স্ত্রীর ভরণ-পোষণ, খোরপোষ ও সন্তানের ভরণ-পোষণ আদায় করা হয়। কর্মরত মহিলা গার্মেন্টস শ্রমিকদের আবাসনের জন্য হোস্টেল নির্মাণ, আশুলিয়া, সাভার, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকায় গার্মেন্টসে কর্মরত নারীরা যাতে নিশ্চিন্তে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত থাকতে পারে সে জন্য হোস্টেল নির্মাণ করে অস্থায়ী নিরাপদ আবাসন সুবিধা দিতে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত মহিলা কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে হস্তশিল্প, হাউস কিপিং ও কেয়ারটেকার,  মৌচাষ, এবং কম্পিউটার ও দর্জি বিজ্ঞান কোর্সে ৩ মাস মেয়াদে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার ২০২১ সালের রূপকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নারী ও শিশুদের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশের জনসংখ্যার এক বিশাল অংশ নারী ও শিশু। তাদের উন্নয়ন তাই জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত। নারী ও শিশুর সার্বিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, ক্ষমতায়ন এবং সামগ্রিক উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্তকরণের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার। নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে নারী দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। নারীর ক্ষমতায়ন, নারী নির্যাতন বন্ধ, নারীপাচার রোধ, কর্মক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা বিধান এবং আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ডের মূলধারায় নারীর পূর্ণ ও সম অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাসহ নারীর সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য। নারীদের ব্যাপক প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শ্রমবাজারে ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানের মধ্য দিয়ে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নারীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। এখন দরকার এসব কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন। তিনি অঙ্গীকার করেন ২০৪১ সাল নাগাদ কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ ৫০ শতাংশে উন্নীত করার। অবশ্য বিগত এক যুগে নারীর ক্ষমতায়নে গৃহীত কর্মসূচি বাস্তবায়নের সুফল প্রত্যক্ষ করছে বিশ^। প্রশাসনসহ দেশের সর্বস্তরে নারী নেতৃত্ব, তাদের অংশগ্রহণ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। বিশ^ নেতারা নারীর ক্ষমতায়নে ‘বাংলাদেশ বিশে^র রোল মডেল’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা এই অগ্রযাাত্রা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া মানুষের সামাজিক সুুরক্ষার পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়নও তাদের সর্বক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিধানে সমাজ রাষ্ট্রের নিরন্তর প্রচেষ্টার অব্যাহত থাকবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]