ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ১৭ জানুয়ারি ২০২১ ২ মাঘ ১৪২৭
ই-পেপার রোববার ১৭ জানুয়ারি ২০২১

মসজিদে নববির অনুকরণে উমাইয়া মসজিদ
মোস্তফা কামাল গাজী
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২০, ১০:৪৯ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 53


প্রাচীনকাল থেকেই দৃষ্টিনন্দন মসজিদ নির্মাণের প্রবণতা মুসলিম সমাজে লক্ষ্য করা যায়। তন্মধ্যে বেশ কিছু মসজিদ সভ্যতার অনন্য স্থাপত্যশৈলীতে জায়গা করে নিয়েছে। এমনি একটি মসজিদ হলো সিরিয়ার উমাইয়া জামে মসজিদ।
দামেস্কে অবস্থিত উমাইয়া মসজিদ বা দামেস্ক গ্র্যান্ড মসজিদ বিশে^র বৃহত্তম মসজিদগুলোর অন্যতম। খলিফা ওয়ালিদ ইবনে আব্দুল মালিকের শাসনকালে নির্মিত মসজিদটি। এ হিসেবে এটি প্রাচীনতম ইসলামী স্থাপনা-নিদর্শনসমূহের মধ্যে অন্যতম।
৬৩৬ খ্রিস্টাব্দে খলিফা হজরত উমরের (রা.) শাসনামলে হজরত খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রা.)-এর নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী দামেস্ক জয় করার পর মুসলমানরা এই স্থানে ছোট একটি মসজিদ তৈরি করেন। পরবর্তীতে প্রায় সত্তর বছর পর উমাইয়া খলিফা ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিকের শাসনামলে ৭০৫ খ্রিস্টাব্দে এখানে নতুন করে একটি মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। নয় বছর পরিশ্রমের পর ৭১৪ খ্রিস্টাব্দে মসজিদিটির নির্মাণকাজ সমাপ্ত হয়।
মসজিদটি নির্মিত হয় মসজিদে নববির অনুকরণে। নামাজের জন্য স্থান ছাড়াও এখানে বিদ্যালয়, বিচারালয় এবং নিঃস্ব, গৃহহীন ও মুসাফিরদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থা ছিল। মসজিদটি নির্মাণের জন্য পারসিক, ভারতীয়, উত্তর আফ্রিকান, মিসরীয়সহ বিভিন্ন স্থানের শ্রমিক ও কারিগরদের কাজে লাগানো হয়। এ ছাড়া মসজিদের দেওয়ালের বিভিন্ন মোজাইকের নকশা করার জন্য গ্রিক ও রোমান শিল্পীদের নিয়োগ করা হয়।
মসজিদের দক্ষিণ-পূর্ব, দক্ষিণ-পশ্চিম কোণ এবং উত্তর দিকে মোট তিনটি মিনার রয়েছে। এর মধ্যে উত্তরদিকের মাদহাত আল-আরুস বা নববধূর মিনারটি প্রাচীনতম। দক্ষিণ দিকের দুটো মিনার পরবর্তীকালে সংযুক্ত করা হয়। ওপরের মূল গম্বুজটি ৩৬ মিটার উঁচু। মূল নামাজকক্ষের ওপর অবস্থিত এই গম্বুজটি ‘কুব্বাতুন নাসর’ বা ঈগল গম্বুজ নামে পরিচিত। ভেতরে প্রবেশের জন্য উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিমে তিনটি দরজা রয়েছে।
এদের মধ্যে উত্তরের দরজাটিই মসজিদটির প্রশস্ততম ও প্রবেশের প্রধান দরজা।
খলিফা ওয়ালিদের পরে বিভিন্ন সময়ে মসজিদটির বিভিন্ন সংষ্কার কাজ সম্পন্ন করা হয়। ১২৬০ খ্রিস্টাব্দে মোঙ্গলরা দামেস্ক দখল করলে তারা এই মসজিদটিকে সেনাবাহিনীর ব্যারাকে পরিণত করে।
পরবর্তীতে আইন জালুতের যুদ্ধে মোঙ্গলদের পরাজিত করার পর মামলুক সুলতান সাইফুদ্দিন কুতুজ ও সেনানায়ক রুকুনুদ্দিন বাইবার্স মোঙ্গলদের হাত থেকে দামেস্ককে মুক্ত করে মসজিদটিকে পুনরুদ্ধার করেন। পরবর্তীতে রুকনুদ্দিন বাইবার্সের শাসনামলে ১২৭০ খ্রিস্টাব্দে মসজিদটিকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে সংস্কার করা হয়। মসজিদটির অভ্যন্তরে মূল নামাজকক্ষের বাইরে একটি প্রশস্ত আঙ্গিনা রয়েছে। আঙ্গিনার মাঝামাঝি ওজু করার জন্য একটি ফোয়ারা এবং দুইপ্রান্তে গম্বুজযুক্ত দুইটি স্থাপনা রয়েছে।
মসজিদের অভ্যন্তরে হজরত ইয়াহইয়া (আ.)-এর কবর অবস্থিত। এ ছাড়া মসজিদের উত্তরদিকের দেওয়ালের সঙ্গে বিখ্যাত মুসলিম সেনানায়ক সুলতান সালাহ উদ্দিন আইয়ুবি (র.)-এর কবর অবস্থিত। পুরাতন দামেস্ক শহরের অংশ হিসেবে মসজিদটি ইউনেস্কোর বিশ^ ঐতিহ্যের নিদর্শন তালিকার অন্তর্ভুক্ত। তেরোশত বছরের পুরাতন এই মসজিদটি এখনও সিরিয়ার প্রতীকায়িত স্থাপত্যনিদর্শন হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]