ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ২৪ জানুয়ারি ২০২১ ১০ মাঘ ১৪২৭
ই-পেপার রোববার ২৪ জানুয়ারি ২০২১

উপজেলা থেকে বিদেশে যাবে হাজার কর্মী
করোনার দ্বিতীয় ঢেউ : জরুরি করণীয়
অভিবাসন খাতে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা ফেরা জরুরি
রণেশ মৈত্র
প্রকাশ: শনিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২০, ১০:৫৭ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 69

বিগত মার্চের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশে প্রথম আঘাত করেছিল করোনাভাইরাস। বিগত ৯ মাসে স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রকাশিত তথ্য মতে, প্রায় সাত হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। আর আক্রান্ত হয়েছে প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষ। এই নিবন্ধটি সংবাদপত্রের পাতায় প্রকাশিত হওয়ার মুহূর্তে সংখ্যা দুটি আরও বাড়বে এমন আশঙ্কা বিশেষজ্ঞ মহলেরও।
স্বাস্থ্য অধিদফতর প্রতিদিন বিকালে যে তথ্য করোনার ব্যাপারে প্রকাশ করে চলেছে তার সঠিকতা মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে সুদীর্ঘ ৯ মাসে তাদের হিসাব অনুসারেই পরীক্ষা করা হয়েছে মাত্র ২৬ লাখ মানুষের। চিত্রটি মারাত্মকভাবে হতাশাব্যঞ্জক। আমরা সবাই জানি, আমাদের দেশে প্রতিদিন নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে যত লোকের মৃত্যু ঘটে, তার পাঁচ শতাংশের হয়তো হাসপাতালে ঘটে থাকে। বাদ বাকি ৯৫ শতাংশ মৃত্যু ঘটে হাসপাতালের বাইরে বিনা চিকিৎসায় বা টোটকা চিকিৎসায়। আবার নানা রোগে যারা প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছে, তার হয়তো দুই থেকে তিন ভাগ মাত্র হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
যে হারে চিকিৎসা বা মৃত্যুর কথা উল্লেখ করলাম, তা নিতান্তই অনুমাননির্ভর, কারণ এ ব্যাপারে সঠিক তথ্য সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা আজও আমাদের দেশে গড়ে ওঠেনি। সংখ্যায় যদি কিছু কম-বেশি হয়ওÑ তা যে সত্যের অনেকটা কাছাকাছি তাতে কোনো সন্দেহ নেই। নেই এ কারণে যে, আমাদের দেশে স্বাধীনতার আসন্ন পঞ্চাশ বছর পূর্তির লগ্নেও হাসপাতালের সংখ্যা, ডাক্তারের সংখ্যা, নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীদের সংখ্যা মোট রোগাক্রান্তের শতকরা দশ ভাগও না। যে কিছু সংখ্যক হাসপাতাল এ পর্যন্ত গড়ে তোলা হয়েছে তাতে সঙ্গতিসম্পন্ন মানুষদেরও খুব অল্প সংখ্যকই ভর্তির সুবিধা পাচ্ছে। বাদ বাকি সবাইকেই গুনতে হচ্ছে ‘ঠাঁই নাই-ঠাঁই নাই’। সঙ্গতিসম্পন্ন পরিবারগুলোর বিপুলসংখ্যক রোগীই যেখানে হাসপাতালে স্থানাভাবে ভর্তি হতে পারছে না সেখানে সঙ্গতিহীন দারিদ্র্যপীড়িত লাখ লাখ রোগীর তো হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছানোর যানবাহনের ভাড়া বহনের ক্ষমতাটুকুও নেই। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রায় সবাই ঢাকায় সরকারি বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে কাজ করেন আর অংশত চট্টগ্রামে। বাদবাকি বিশাল বাংলাদেশ?
উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে যে শুধু সন্তানসম্ভবা নারীদের সন্তান প্রসবের আংশিক সুবিধা মাত্র আছে, আর সর্দি, কাশি, পেট খারাপের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য কিছু ট্যাবলেট মাত্র পাওয়া যায় এ নিয়ে নিশ্চয়ই কোনো বিতর্কের অবকাশ নেই। নারীর সন্তান প্রসব হাসপাতালেই হতে হবে, এমন কোনো বিধান আজও আমাদের দেশে বাধ্যতামূলক করা হয়নি। আবার এ ব্যাপারে সচেতনতারও যে অভাব আছে তাও সত্য। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে সন্তান সম্ভবা নারীদের আধুনিক চিকিৎসা বা সন্তান প্রসবের বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। আবার চিকিৎসাক্ষেত্রে দুর্নীতি এবং এক ধরনের চিকিৎসকদের সীমাহীন অর্থ লোভের কারণে স্বাভাবিক প্রসবযোগ্য মায়েদের অনেককেই অপারেশনের মাধ্যমে প্রসবের ব্যবস্থা করতে দেখা যায়। অসহায় নারীরা এর শিকার হয়ে অনেকেই নানা জটিলতায় জীবনভর ভুগতে বাধ্য হয়। অকালমৃত্যুও ঘটে অনেক
মায়ের-অনেক শিশুর।
চিকিৎসা ব্যবস্থার এহেন বিপর্যস্ত পরিস্থিতির চিত্র অনেক সময় সংবাদপত্রের পাতায় উঠে এলেও, তা নিরসনে কর্তৃপক্ষের যথাযথ হস্তক্ষেপ খুব কমই দৃশ্যমান হয়। ব্যাপক দুর্নীতি ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যাপক বিপর্যয় প্রতিদিন দেশের সর্বত্র ঘটিয়ে চলেছে অবাধে। করোনাকালে স্বাস্থ্য বিভাগের ও সরকারি হাসপাতালগুলোর দুর্নীতি ও বেসরকারি বহু হাসপাতাল ও ক্লিনিকে বিরাজমান ভয়াবহ পরিস্থিতির চিত্র জনসমক্ষে ধরা পড়েছে।
প্রয়োজন হলো ঊর্ধ্বতন মহলের দ্রæত হস্তক্ষেপের। জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ প্রতিরোধে সরকার প্রস্তুত। তৃণমূল পর্যায়ে কিন্তু এই প্রস্তুতি কারও নজরে পড়ছে না। প্রথমেই উল্লেখ করা যায়, টেস্টিং কিটসের কথা। জেলা উপজেলাগুলোতে করোনা শনাক্ত করার জন্য অপরিহার্য প্রয়োজন ব্যাপক সংখ্যক মানুষের করোনা পরীক্ষা। প্রতি উপজেলায় প্রতিদিন ৫০০ করে মানুষের পরীক্ষা বিনামূল্যে বাধ্যতামূলকভাবে করা প্রয়োজন। কিন্তু উপর্যুক্ত নির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় টেস্টিং কিটস ও জনবলের প্রচÐ অভাব। দ্বিতীয় ঢেউ যে ভয়াবহ আকারে সমগ্র আমেরিকা ও ইউরোপজুড়ে এবং এশিয়ার ভারতেও ছড়িয়ে পড়েছে তা গভীরভাবে আতঙ্কজনক। বাংলাদেশেও এর লক্ষণ স্পষ্ট। নতুন করে রোগাক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি তার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বয়ং বলেছেন শীতের প্রকোপে করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু এ কথা বলার পর একটি কথাও বলেননি উদ্ভ‚ত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সবাই যেন পরীক্ষা করে জানতে পারে তার ও তাদের দেহে করোনা সংক্রমণ ঘটেছে কি না। তা নিশ্চিত করার জন্য দেশব্যাপী সরকারিভাবে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তার বিস্তারিত উল্লেখ তার বক্তব্যে নেহাতই প্রত্যাশিত ছিল; কিন্তু মানুষ হতাশ হয়েছে।
যে কথা সরকারিভাবে বলা হচ্ছে বারংবার, তা হলো বাইরে যেতে হলে সবাই বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরতে হবে, বারবার হাত ধুতে হবে, স্যানিটাইজার সঙ্গে রাখতে হবে। এগুলো যথার্থ উপদেশ, কারণ এগুলো সবারই মানা প্রয়োজন করোনা প্রতিরোধ করতে হলে। তবুও বেশিরভাগ মানুষ মাস্ক পরছে না দেখে কোথাও কোথাও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নির্দেশ অমান্যকারীদেরকে জেল-জরিমানার শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। এতে কারোরই আপত্তি নেই। এর সঙ্গে অবশ্যই ভাবতে হবে যারা মাস্ক পরছে তারা একটা মাস্ক দিয়েই মাসের পর মাস চালাচ্ছে কি না, মাস্কগুলো বিজ্ঞানসম্মত কি না, যারা কিনতে পারছে না তাদের জন্য বিজ্ঞানসম্মত মাস্ক প্রাপ্তির ব্যবস্থা কী? সরকার বাইরে যাওয়া শতভাগ লোককে মাস্ক পরে যেতে বলার সঙ্গে সঙ্গে একই বিষয়টিকেও গুরুত্ব সহকারে ভাবতে হবে। সরকারিভাবে ওষুধের দোকানগুলোতে বিজ্ঞানসম্মত মাস্ক সরবরাহ করার জন্য এবং নকল ও বিজ্ঞানসম্মত নয় এমন সব মাস্ক বাজার থেকে কার্যকরভাবে প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করা অবশ্যই প্রয়োজন।
কিটস নেই ঢাকার বাইরে কোথাও এ কথা অনানুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত। পত্রিকায় দেখলাম মার্কিন রাষ্ট্রদূত ঢাকায় একজন পদস্থ পুলিশ কর্মকর্তার কাছে বেশ কিছুসংখ্যক মাস্ক ও অপরাপর স্বাস্থ্যসামগ্রী হস্তান্তর করলেন। আমাদের দূতাবাস ও হাইকমিশনগুলোকে মানসম্মত মাস্ক নানা দেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে কিনে বা সংগ্রহ করে পাঠানোর জন্য নির্দেশ জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন। কিটসের ক্ষেত্রেও একই সুপরিশ করব।
কিটস দ্বারা নমুনা নেওয়া যাবে কিন্তু পরীক্ষা কোথায় হবে? তার জন্য সর্বত্র পিসিআর ল্যাবের প্রয়োজন কিন্তু তা ঢাকাসহ মাত্র কয়েকটি শহরে আছে তাও জেলা বা বিভাগীয় হেডকোয়ার্টারের হাসপাতালগুলোতে। বিশাল বাংলাদেশের অপরাপর জেলা উপজেলায় আদৌ সে ব্যবস্থা আজও নেওয়া হয়নি। প্রত্যাশা এই যে কার্যকরভাবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে সর্বত্র যথেষ্ট সংখ্যক ল্যাব জরুরি ভিত্তিতে স্থাপন করে দ্রæত করোনা পরীক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করে প্রয়োজনে চিকিৎসা এবং নেগেটিভ ফল এলে তাদেরকে নিশ্চিন্ত হওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
চিকিৎসা হবে কোথায়? ঢাকা-চট্টগ্রামের বাইরে কোনো সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড আজও স্থাপন করা হয়নি। প্রয়োজনের তুলনায় ওয়ার্ডের বা স্থানের স্বল্পতা প্রতিটি হাসপাতালে রয়েছে। রয়েছে করোনা ছাড়া প্রচলিত রোগাক্রান্তদের অসম্ভব ভিড়। তবুও এ সত্তে¡ও প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ড অবশ্যই স্থাপন করতে হবে, তেমনই সব হাসপাতালে প্রয়োজনীয়সংখ্যক আইপিইউ, ভেন্টিলেশন ও অক্সিজেন মজুদ রাখার ও করোনা চিকিৎসার জন্য প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ব্যবস্থাও অপরিহার্য।
আশার কথা, শিগগিরই করোনা ভ্যাকসিন বাজারে আসছে, বিদেশি খ্যাতনামা কোম্পানিগুলো এমন আশাবাদের সৃষ্টি করছে। উৎসাহের সঙ্গে ওই খবরগুলো আমাদের সংবাদপত্রগুলোও প্রকাশ করে চলেছে
তৃণমূল পর্যায়ে ওই আশাবাদ ছড়িয়ে দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, সরকার এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে ভ্যাকসিন কেনার জন্য। খবরটি আশাপ্রদ। কিন্তু এরপরও তো কথা আছে।
এক. আমদানিকৃত ভ্যাকসিন পরিবহন ও দেশের নানা স্থানে সংরক্ষণের বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থা আছে কি? না থাকলে দ্রæত সে ব্যবস্থা নিতে হবে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে।
দুই. আমদানিকৃত ভ্যাকসিন ধাপে ধাপে কারা পাবে তার সঠিক অগ্রাধিকার নির্ণয় করে সেগুলো তাদের দেহে প্রয়োগের ব্যবস্থা নির্ণয় অবিলম্বে করা প্রয়োজন। প্রথম অগ্রাধিকার দিতে হবে ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী এবং তাদের পরিবার-পরিজন এবং পুলিশকে।
তিন. এরপরে ৬০ বছরের বেশি বয়সি সব নারী-পুরুষ।
চার. সব মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবার পরিজন।
পাঁচ. সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, ক্রীড়াবিদ,
সংস্কৃতি কর্মী প্রভৃতি।
ছয়. অতঃপর শহর ও গ্রামের সব নাগরিক যাতে স্বল্পমূল্যে ভ্যাকসিন পায় তারও ব্যবস্থা সরকারিভাবেই করতে হবে। এই ব্যবস্থাগুলো নিলে দেশবাসী নিশ্চিন্ত থাকতে পারে যে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সঠিকভাবে প্রতিকার করা হয়তো সম্ভব হবে।

ষ সভাপতিমÐলীর সদস্য, ঐক্য ন্যাপ






 এখন থেকে প্রতিবছর দেশের প্রতিটি উপজেলা থেকে সহস্রাধিক কর্মী বিদেশ পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে সরকার। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ বিদেশে অবস্থানরত অভিবাসী, বিদেশফেরত অভিবাসী ও তাদের পরিবারের জন্য নিরাপদ অভিবাসন, রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনা ও প্রয়োজনীয় সব তথ্যসেবা দিতে ‘বিদেশযাত্রা’ নামে একটি অনলাইন প্লাটফর্ম চালু করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই অনলাইন প্লাটফর্ম উদ্বোধন করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। ‘বিডিজবস’-এর কারিগরি সহায়তায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত প্রত্যাশা প্রকল্পের আওতায় আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এই প্লাটফর্ম তৈরি করেছে। বিধিসম্মত ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে আইওএম বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করছে।
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধানতম খাত প্রবাসী শ্রমিক। আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর অভিবাসী বাংলাদেশিরা ১৮ দশমিক ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে। প্রতিবছর ৫ লাখের বেশি অভিবাসী শ্রমিক বিদেশ যায়। গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশ থেকে ১ কোটি ৩০ লাখ অভিবাসী শ্রমিক বিদেশে গেছে। যারা জেনেশুনে বিদেশ যায়, তারা অনেক বেশি নিরাপদে থাকে। এই অনলাইন প্লাটফর্ম তথ্যের ঘাটতি কমিয়ে নিরাপদ, বিধিসম্মত এবং নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিতে সহায়তা করবে। অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় করোনা সঙ্কটকালে অভিবাসীদের জন্য হালনাগাদকৃত সঠিক তথ্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই অনলাইন প্লাটফর্মের মাধ্যমে অভিবাসন বিষয়ে সিদ্ধান্ত-পূর্ববর্তী, গমন-পূর্ববর্তী, অভিবাসনকালে এবং প্রত্যাবর্তনসহ অভিবাসন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ সংক্রান্ত সব প্রয়োজনীয় তথ্য বাংলা ভাষায় পাওয়া যাবে। এ ছাড়া ওয়েবসাইট ও অ্যাপে এসব তথ্য পাওয়া যাবে। গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপ্লিকেশনটি মোবাইলে ডাউনলোড করেও ব্যবহার করা যাবে।
আমাদের দেশের অধিকাংশ শ্রমিক বিদেশে যায় রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে। বৈধভাবে বিদেশে কর্মী পাঠাতে রিক্রুটিং এজেন্সিকে লাইসেন্স দিয়েছে সরকার। কাগজ-কলমে অনুমোদিত এসব প্রতিষ্ঠানের নামেই বিদেশে যায় কর্মীরা। কিন্তু যে এজেন্সির মাধ্যমে তারা যায় অনেক সময় সেই প্রতিষ্ঠানের নামও জানে না শ্রমিকরা। তারা চেনে এলাকার পরিচিত দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীকে। সেই দালালের মাধ্যমেই তারা সবরকম লেনদেন করে। এতে বাড়ে নানারকম ঝুঁকি ও হয়রানি।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দালালদের টাকা দিয়েও ১৯ শতাংশ শ্রমিক বিদেশে যেতে পারে না। ২০১৮ সালে দালালের খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব হারিয়েছে কয়েক হাজার শ্রমিক। দালালরা তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে ২ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা। ওই বছর ৩২ শতাংশ অভিবাসী বিদেশে গিয়ে চাকরি না পাওয়াসহ নানা হয়রানির মুখে পড়েছে। নিয়মিত প্রতারিত হলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলের অভিবাসন প্রত্যাশীরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে দালালের ওপরই আস্থা রাখে। একজন কর্মীর পাসপোর্ট থেকে শুরু করে বিমানবন্দর ত্যাগ করা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে কাজ করে ওইসব দালাল। তাদের এমন দৌরাত্ম্যে প্রতিটি ধাপে খরচ বেড়ে যায়। আর রিক্রুটিং এজেন্সির মাঠ পর্যায়ে কোনো জনবল বা কাঠামো না থাকায় তাদের হয়ে দালালরাই কর্মী সংগ্রহ করে।
আমরা মনে করি, ‘বিদেশযাত্রা’ প্লাটফর্ম যত বেশি কার্যকর ভ‚মিকা পালন করবে, তত বেশি কমবে দালালদের তৎপরতা। সে সঙ্গে কমে যাবে বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে হয়রানি ও প্রতারণা। অভিবাসন খাতে ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠিত হবে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা। করোনাকালে সময়োচিত ও দরকারি এ উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]