ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১৫ জানুয়ারি ২০২১ ১ মাঘ ১৪২৭
ই-পেপার শুক্রবার ১৫ জানুয়ারি ২০২১

প্রত্যাশিত হারে আয়কর রিটার্ন জমা পড়ছে না
মেয়াদ বাড়তে পারে
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২০, ১০:৫৯ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 24

করোনা সঙ্কটে থমকে গেছে দেশের অর্থনীতি। ফলে এর প্রভাব পড়েছে রিটার্ন জমার ক্ষেত্রে। অতীতে দেখা গেছে, শেষ মুহূর্তে রিটার্ন দাখিলের হিড়িক পড়ে। এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। প্রত্যাশিত রিটার্ন জমার সংখ্যা কমে যাওয়ায় মেয়াদ বাড়াতে পারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, করোনাভাইরাসের কারণে রিটার্ন জমার সংখ্যা কমে যাওয়ায় বিচলিত এনবিআর কর্মকর্তারা। তাই সময় বাড়ানোর বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা চলছে। শেষ মুহূর্তে সময় বাড়ানোর ঘোষণা আসতেও পারে। আগে আদেশ জারি করে দফায় দফায় সময় বাড়াতে পারত এনবিআর। কিন্তু দুবছর আগে জাতীয় বাজেটে ৩০ নভেম্বর সময় ‘নির্দিষ্ট’ করে দেওয়ার পর থেকে তা বাড়াতে পারছে না এনবিআর। এনবিআর কর্মকর্তারা বলেছেন, সময় বাড়াতে হলে আইন সংশোধন করে তা জাতীয় সংসদে পাস করতে হবে। তারপরই সময় বাড়ানো যাবে। তবে এনবিআরের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মহামারিসহ অন্য কোনো বিশেষ কারণে দেশে যখন সঙ্কট দেখা দেয়, নির্বাহী আদেশ জারি করে আইন পরিবর্তন করা যায়। এ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এনবিআরকে। বিশেষ ওই ক্ষমতা প্রয়োগ করে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে রিটার্ন জমার সময় এক মাস বাড়ানোর চিন্তা-ভাবনা চলেছ। আগামী সোমবার শেষ মূহূর্তে সময় বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হতে পারে বলে জানান তিনি।
এদিকে আগামী ৩০ নভেম্বর আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ সময়। করদাতাদের হাতে আছে চার দিন। এর মধ্যে শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটি। কার্যত করদাতারা সময় পাচ্ছেন মাত্র দুদিন। ফলে যারা এখনও রিটার্ন জমা দেননি, দেরি না করে চলে যান কর অফিসে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, এনবিআর বলেছে, করদাতাদের সার্বক্ষণিক সেবা দিতে সারা দেশে কর অফিসগুলো সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত টানা খোলা রয়েছে। সেবা দিতে মেলার আদলে প্রত্যেক কর অফিসের সামনে আলদা বুথ খোলা হয়েছে। এসব বুথ থেকে ফরম পূরণ, ই-টিআইএন নেওয়াসহ সবধরনের সেবা মিলছে। শেষদিন সোমবার রাত ৮টা পর্যন্ত এ সেবা চলবে বলে জানিয়েছেন এনবিআরের কর্মকর্তারা।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বিভিন্ন কর অফিস ঘুরে দেখা গেছে, করোনার মধ্যে অনেকেই তাদের রিটার্ন জমা দিতে ভিড় জমিয়েছেন। মাস্ক পরে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই এসেছেন তারা। কর অফিসগুলোর পক্ষ থেকে হ্যান্ড সেনিটাইজার দেওয়া হয় করদাতাদের। নেকবার হোসাইন নামে একজন উদ্যোক্তা। পাঁচ বছর ধরে কর দিচ্ছেন তিনি। রাজধানীর কর অঞ্চল-৪-এর একজন করদাতা এ প্রতিবেদককে জানান, দায়িত্ব থেকেই এখানে এসেছেন। কর দেওয়া নৈতিক দায়িত্ব। তাই প্রত্যেক সামর্থ্যবান নাগরিককে কর দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
নিয়ম অনুযায়ী, আয় থাকুক না থাকুক প্রত্যেক টিআইএনধারীকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে হয়। তা না হলে জরিমানা গুনতে হয়। জরিমানার পরিমাণ এককালীন ১ হাজার এবং যত দিন পরিশোধ করা হবে না, প্রতিদিনের জন্য আরও ৫০ টাকা দিতে হয়। তবে কেউ যদি যথাসময়ে রিটার্ন না দিতে পারেন, সময় বাড়ানোর আবেদনের সুযোগ আছে। সে ক্ষেত্রে আর জরিমানা গুনতে হবে না। করোনার প্রভাবে রিটার্ন জমায় যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, পরিসংখ্যান তা বলে দেয়।
সেগুনবাগিচায় কর অঞ্চল-১০-এর আওতায় মোট করদাতার সংখ্যা ১ লাখ ৪২ হাজার। ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত মাত্র ২৬ হাজার রিটার্ন জমা পড়েছে। অর্থাৎ ওইদিন পর্যন্ত উল্লিখিত কর অঞ্চলের মোট করদাতার মাত্র ১৮ শতাংশ রিটার্ন জমা দেন। গত বছর এই সময়ে তিনগুণেরও বেশি জমা পড়েছিল।
কর অঞ্চল-১০-এর কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন জানান, করোনার কারণে রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা কমে গেছে। তবে শেষ সময়ে চাপ কিছুটা বাড়ছে বলে জানান তিনি।
কাকরাইলের আয়শা মঞ্জিল সংলগ্ন কর অঞ্চল-৩-এর মোট ২ লাখ ২৪ হাজার করদাতার মধ্যে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন জমা পড়েছে ৫২ হাজার ৩০০ জনের। এই অফিসের কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, এবার রিটার্ন দাখিলের চিত্র হতাশাজনক।
গত বছর ২২ লাখ লোক রিটার্ন জমা দেয়। গতবার আয়কর মেলায় ভালো সাড়া মিলেছে, যে কারণে রিটার্নের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল বলে জানান এনবিআরের কর্মকর্তারা।






এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]