ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ২৫ জানুয়ারি ২০২১ ১১ মাঘ ১৪২৭
ই-পেপার সোমবার ২৫ জানুয়ারি ২০২১

সহকর্মীদের শোক
বরেণ্য অভিনেতা আলী যাকেরের মৃত্যুতে গভীর শোকে কাতর সহকর্মীরা। স্মৃতিচারণ করেছেন তারা
প্রকাশ: শনিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২০, ১১:০৪ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 26

আর মঞ্চে ওঠা হবে না আমাদের : আবুল হায়াত
আলী যাকেরের সঙ্গে আমার প্রথম দেখা ১৯৭২ সালে। ও যখন নাগরিক নাট্যদলে এলো। তাকে নিয়ে আসা হলো ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ নাটকে অভিনয়ের জন্য। সেই থেকে আমাদের বন্ধুত্ব আর একসঙ্গে অভিনয় করা। আমার স্ত্রীর পূর্বপরিচিত সে। আমার স্ত্রী যখন খুলনায় থাকত তখন পারিবারিকভাবে পরিচয় ছিল। স্ত্রীর মুখ থেকে আগেই ওর নাম শুনেছিলাম।
তারপর আমাদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ল। বাসায় যাতায়াত শুরু হলো। ও বিয়ে করল। আমার মেয়েরা ওকে মামা ডাকে। আমরা একসঙ্গে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে কত অভিনয় করেছি... প্রত্যেকটা অভিনয়ের সময় ও বলত, ‘হায়াত’, তোর সঙ্গে অভিনয় করে বড় আরাম লাগে। তোর মতো কো-অ্যাক্টর পাওয়া খুবই ডিফিকাল্ট ব্যাপার। আমি এই কথাটা কোনোদিন ভুলি না। আমার বন্ধু এভাবে চলে যাবে আমি বুঝতে পারিনি। খুব কষ্ট করেছে পাঁচটা বছর, ক্যানসার নিয়ে মঞ্চে উঠেছে আমার সঙ্গে। একটা মানুষ অভিনয়ের জন্য কতটা পাগল হতে পারে ওকে না দেখলে বোঝা যায় না। করোনার মধ্যে ওর সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে দুবার। আর দেখা হয়েছে মার্চে, আমি ওর বাসায় গিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরে কাঁধে মাথা রেখে বললাম, দোস্ত সুস্থ হয়ে ওঠ, আবার একসঙ্গে মঞ্চে অভিনয় করব। অথচ একসঙ্গে আর মঞ্চে ওঠা হবে না আমাদের।


এখন শুধুই স্মৃতি : আলমগীর
এখন শুধুই স্মৃতি। যেখানেই থাকুন ভালো থাকুন। আমরা সবাই আপনাকে মিস করব। অনেক অনেক শ্রদ্ধাঞ্জলি আলী যাকের ভাই।
একজন সফল অভিনেতা ও আমাদের
সহযোদ্ধা : ফেরদৌসী মজুমদার
‘বাকি ইতিহাস’ নাটকে অভিনয়ের সময় আলী যাকেরের সঙ্গে পরিচয় আমার। দ্রæতই আমাদের মধ্যে বন্ধুত্ব ও পারিবারিক বন্ধন গড়ে ওঠে। এরপর আমরা বিখ্যাত ‘ম্যাকবেথ’ ও ‘টেমপেস্ট’সহ অনেক নাটকে একসঙ্গে কাজ করেছি। আমাদের বেশিরভাগ নাটকেরই নির্দেশক ছিলেন আবদুল্লাহ আল মামুন। টেলিভিশনে একসঙ্গে প্রচুর কাজ করেছি আমরা। আরও একটি নাটকে আমাদের একসঙ্গে কাজ করার কথা ছিল, কিন্তু তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ায় সেটি সম্ভব হয়নি। আমরা তার সুস্থ হওয়ার অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু তা আর হলো না; তিনি চলে গেলেন। আলী যাকের ছিলেন একজন সফল অভিনেতা ও আমাদের সহযোদ্ধা। তার মতো একজন শিক্ষিত মানুষের মঞ্চনাটকে আরও বেশিদিন থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
বাংলাদেশের মঞ্চকে আরও অনেক উঁচু
করেছেন : জয়া আহসান
আলী যাকের চলে গেলেন, কিন্তু বাংলাদেশের মঞ্চকে আরও অনেক উঁচু করে অভিনয়ে, সংগঠনে, প্রবর্তনে রেখে গেলেন। দীর্ঘাঙ্গ ছিলেন। শুধু শারীরিক অর্থে নয়, শিল্পের উচ্চতায়ও। মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, তার অনুপ্রেরণা মঞ্চে এনেছেন, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠায় দিয়েছেন তার পূর্ণতা। বিনম্র শ্রদ্ধা, শিল্পী ও মুক্তিযোদ্ধা।

কলকাতায় পরিচয়, বন্ধুত্বে এতটুকু ভাটা পড়েনি : মামুনুর রশীদ
আমাদের পরিচয় কলকাতায়। তখন আমরা দুজনই স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে কাজ করতাম। দ্রæতই আমাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে কাজের সময়ই নিজের লেখা ‘পশ্চিমের সিঁড়ি’ নাটকে অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলাম আলী যাকেরকে। নাটকটি মঞ্চস্থ করার জন্য কিছুদিন রিহার্সালও করেছিল। এরপর দেশ স্বাধীন হয়ে গেলে সেই নাটকের আর প্রদর্শনী হয়নি। দেশে ফেরার পর আমরা একসঙ্গে ‘আরণ্যক নাট্যদল’ গড়ে তুলি। মুনীর চৌধুরীর লেখা বিখ্যাত নাটক ‘কবর’ আমরা একসঙ্গেই মঞ্চায়ন করেছিলাম। ১৯৭৩ সালে ‘আরণ্যক নাট্যদল’ ছেড়ে ‘নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়’ নামে আরেকটি নাটকের দলে যোগ দেন আলী যাকের। তাতে আমাদের বন্ধুত্বে এতটুকু ভাটা পড়েনি। পরবর্তীকালে আমার লেখা ‘পাগড়ী’ নাটকে অভিনয় করেছেন আলী যাকের। নাটকটি বিটিভিতে সম্প্রচারিত হয়েছিল। পরে আমরা দুজন একসঙ্গে প্রচুর কাজ করেছি।
অনুভ‚তি প্রকাশ করার কোনো শব্দ
নেই : সুবর্ণা মুস্তাফা
আমার অনুভ‚তি প্রকাশ করার কোনো শব্দ নেই। আলী যাকের, আমাদের প্রিয় ছোটলু ভাই পরপারে যাত্রা করেছেন। তোমাকে ভালোবাসি ছোটলু ভাই। গভীর শ্রদ্ধা।
তার কাছে আছে এক বড়
ঋণ : মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
খবরটা শোনার পর থেকে স্তব্ধ হয়ে আছি। জানি যাকের ভাইয়ের শরীরটা অনেকদিন ধরেই খারাপ! কিন্তু কিংবদন্তিদের বিদায়ের জন্য আমরা কখনই প্রস্তুত থাকি না।
তিনি যাপন করে গেছেন অর্থবহ একটা জীবন। বহু মানুষের জীবনকেও করে তুলেছেন অর্থবহ। তার অভিনয়, লেখালেখি, ছবি তোলাÑ সবকিছু নিয়েই তিনি আমাদের সংস্কৃতি জগতের মহীরুহ। আমার এই নাতিদীর্ঘ জীবনেও তার কাছে আছে এক বড় ঋণ। কখনও এটা বলার সুযোগ হয়নি। আজকে লিপিবদ্ধ করে রাখতে চাই। নাখালপাড়া থেকে উঠে আসা বাইশ-তেইশ বছরের এক যুবক আমি একদিন তাকে ফোন করে বসলাম। একটা ডকুমেন্টারি বানাচ্ছি দুবলার চরের ওপর। তার সঙ্গে দেখা করতে চাই। তখনও আমি কোথাও কিছু নির্মাণ করিনি। নওরতন কলোনির তার রুমটায় দুপুরে আমি যখন ঢুকলাম তখন জানালা দিয়ে উনি বাইরের গাছ দেখছিলেন। এমন আগ্রহ ভরে দেখছিলেন যেন খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু। তারপর আমাকে দেখে তার চেয়েও গুরুত্ব নিয়ে তাকালেন, মনোযোগ দিয়ে শুনলেন আমি কী চাই। তিনি তখন বিশাল তারকা। আমার ডকুমেন্টারিতে আমি চাইলাম, উনি যেন ভয়েস ওভার পাঠ করেন। ছোটলু ভাই সেই অখ্যাত আমার কথায় রাজি হলেন। রাজি হলেন কি, উনি এমন করতে লাগলেন মনে হলো আমি ওনাকে নির্বাচন করার মাধ্যমে যেন একটা ফেভার করেছি। তারপর রেকর্ডিংয়ের দিন আধা ঘণ্টা আগে চলে গিয়ে আমার সঙ্গে বসলেন রিহার্সেল করতে। আমি যেভাবে চাই সেটা কীভাবে উনি ডেলিভার করবেন, এটা নিয়ে তার যে প্রাণপণ চেষ্টা। কিছুক্ষণ পরপর জানতে চান পরিচালকের মনমতো হচ্ছে কিনা। এই যে বিনয়, এই যে আমার মতো অখ্যাত লোককে পরিচালকের সম্মান দেওয়া, এটা আমার আত্মবিশ^^াস তৈরিতে কত বিশাল কাজ করেছে, এটা বোঝাতে পারব না! আত্মবিশ^^াসের চাকা পাঙ্চার করে দেওয়ার কালচার যে দেশে চলে, সেখানে এই কাজটা যে একটা তরুণকে কতটা শক্তিশালী করে তুলতে পারে, সেটা নিশ্চয়ই বোঝা যায়।  যাকের ভাই, আমি জানি আপনি এরকম আরও বহু মানুষের জীবন অর্থবহ করে তুলেছিলেন। আপনার চিরশান্তির জন্য দোয়া করি।
আমাদের অনেকের জন্য একটি
বাতিঘর : নুসরাত ইমরোজ তিশা
বাংলাদেশের সত্যিকারের কিংবদন্তি আলী যাকের আজ আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি আমার সঙ্গে দেখা দয়ালু ব্যক্তিদের একজন ছিলেন। আমাদের অনেকের জন্য একটি বাতিঘর। আল্লাহ তাকে চিরশান্তি দান করুন।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]