ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২১ জানুয়ারি ২০২১ ৭ মাঘ ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ জানুয়ারি ২০২১

সবজিতে ফিরেছে স্বস্তি চালের দাম চড়া
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২০, ১১:২৮ পিএম আপডেট: ২৮.১১.২০২০ ১১:৩৯ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 66

নিত্যপণ্যের বাজারে একটিতে কিছুটা স্বস্তি দিলেও আরেকটি পণ্যে কষ্ট বাড়ছে ভোক্তার। দীর্ঘ প্রায় সাত মাস পর সবজিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাজারে বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম কমেছে। অন্যদিকে চালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ভোক্তার কষ্ট বেড়েছে। বাজারে চালের দাম কেজিতে ২-৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ২০ টাকা কমে এখন বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকায়। তবে ভোজ্য তেলের দাম আরও বেড়েছে। তা ছাড়া মাছ-মাংস, ডাল, চিনির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর বেশ কয়েকটি বাজারে এ চিত্র দেখা যায়। শুক্রবার রাজধানীর বেশ কয়েকটি বাজারে দেখা গেছে, খুচরা ও পাইকারিতে মিনিকেট চালের দাম গত ১০ দিনে কেজিতে ২-৩ টাকা করে বেড়েছে। একইভাবে বেড়েছে স্বর্ণা ও বিআর-২৮ চালের দামও। অবশ্য নতুন আসা পাইজাম, মিনিকেট ও স্বর্ণা চালের দাম কেজিতে ১-২ টাকা কম পাওয়া যাচ্ছে। রশিদের মিনিকেট চালের বস্তা (৫০ কেজি) ২৬৫০ টাকা থেকে বেড়ে এখন ২৭৫০ টাকা হয়েছে। গুটি স্বর্ণা ২১৫০ থেকে বেড়ে ২২৫০ টাকা হয়েছে। নতুন আমন ধানের পাইজাম বিক্রি হচ্ছে ২৩৫০ ও পুরান পাইজাম চাল ২৪৫০ টাকা। সব কিছু মিলিয়ে চালের দাম এখন বাড়তি। সিদ্ধ কাটারি বিক্রি হচ্ছে বস্তা ২৬০০ ও নাজিরশাইল প্রতিবস্তা এখন ২৭২০ টাকায়। কারওয়ান বাজারের রনি রাইস এজেন্সিতে মিনিকেট প্রতি বস্তা ২৬৫০, নাজির ২৭০০, বিআর-২৮ ২৪০০, পাইজাম ২৩৫০ ও গুটি স্বর্ণা ২২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এখানকার বিক্রেতা মনিরুল ইসলাম জানান, গত ১০ দিন ধরেই চালের দাম বস্তায় ৫০-৭০ টাকা বাড়তি। কেনা দাম বেশি 
পড়ায় খুচরায়ও দাম বেড়েছে। খুচরা বাজারে প্রতিকেজি ভালো মানের মিনিকেট চাল ৬২-৬৫, মাঝারি মানের মিনিকেট চাল ৫৮-৬০, বিআর-২৮ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫২-৫৪ ও পাইজাম চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫২ টাকায়।
সরবরাহ বাড়ায় শীতের সবজি ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম ও মুলার দাম আরও কমেছে। এ নিয়ে টানা দুই সপ্তাহ শীতের সবজির দাম কমল। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কমেছে শিমের দাম। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে শিমের দাম তিনভাগের একভাগে নেমেছে। শীতের সবজির দাম কমায় ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। তবে আলু ও পেঁয়াজের দামে অস্বস্তি রয়েই গেছে। যদিও সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে। তবে ৬৫ টাকার নিচে দেশি পেঁয়াজের কেজি মিলছে না। আর সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের তোয়াক্কা না করে আগের মতোই বাড়তি দামে আলু বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।
শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০-৬০ টাকা। আর দুই সপ্তাহ আগে ছিল ১২০ টাকা কেজি। শিমের পাশাপাশি শীতের অন্যতম সবজি ফুলকপি ও বাঁধাকপির দামও কমেছে। মাঝারি সাইজের ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ২৫-৪০ টাকার মধ্যে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০-৫০ টাকা। আর ছোট ফুলকপি গত সপ্তাহের মতো ২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। দুই সপ্তাহ আগে ছোট ফুলকপির দাম ৪০ টাকার ওপরে ছিল। মাঝারি আকারের বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকার মধ্যে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০-৫০ টাকা। আর ছোট বাঁধাকপির পিস ২০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। দুই সপ্তাহ আগে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া মূলা এখন ২০-৩০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।
শীতের সবজির দাম কমার সঙ্গে অন্য কিছু সবজির দামও কমেছে। গত সপ্তাহে ১২০-১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পাকা টমেটো ১০০ টাকায় নেমে এসেছে। বাজারে নতুন আসা কাঁচা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৪০-৬০ টাকা কেজিতে। বাজারে নতুন আসা শীতের আরেক সবজি শাল গমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৭০ টাকা। আর চড়া দামে বিক্রি হওয়া লাউয়ের দাম কিছুটা কমে ৪০-৫০ টাকার মধ্যে চলে এসেছে। যা গত সপ্তাহে ছিল ৭০-৮০ টাকা। তবে গাজর ও বরবটির দাম আগের মতোই চড়া রয়েছে। বাজার ও মানভেদে গাজরের কেজি আগের মতোই বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা। বরবটি গত সপ্তাহের মতো ৬০-৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৪০-৬০ টাকার মধ্যে এবং উস্তে বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকার মধ্যে। সপ্তাহের ব্যবধানে এটি সবজির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
সপ্তাহের ব্যবধানে দাম অপরিবর্তিত থাকার তালিকায় রয়েছে ঢেঁড়স, ঝিঙা, পটোল, উসি ও কচুর লতি। অবশ্য গত সপ্তাহে এ সবজিগুলোর দাম কিছুটা কমে। ঢেঁড়সের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ ; যা দুই সপ্তাহ আগে ছিল ৭০-৯০ টাকা। পটোলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা, যা দুই সপ্তাহ আগে ছিল ৬০-৮০ টাকা। এ ছাড়া উসি ও ঝিঙা ৪০-৫০ টাকার মধ্যে চলে এসেছে। দুই সপ্তাহ আগে এই দুই সবজির কেজি ৬০ টাকার ওপরে ছিল। ৭০-৮০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া কচুর লতির দাম কমে ৪০-৫০ টাকা হয়েছে। অন্যদিকে সরকার দাম বেঁধে দিলেও এখনও আলু বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকায়। সরকার প্রথমে খুচরা পর্যায়ে আলুর কেজি সর্বোচ্চ ৩০ টাকা এবং পরবর্তী সময়ে ৩৫ টাকা বেঁধে দেয়। তবে সরকারের বেঁধে দেওয়া এই দামে ক্রেতারা আলু কিনতে পারছেন না। আলুর সঙ্গে বাড়তি দাম দিতে হচ্ছে পেঁয়াজের জন্যও। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে। গত সপ্তাহে ৭০-৯০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া দেশি পেঁয়াজ এখন ৬৫-৭৫ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। আমদানি করা বড় পেঁয়াজের কেজি গত সপ্তাহের মতো ৪০-৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচ আগের সপ্তাহের মতো এক পোয়া (২৫০ গ্রাম) বিক্রি বিক্রি হচ্ছে ২০-৩০ টাকায়।
সবজির দামের বিষয়ে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী মিলন সরকার বলেন, বাজারে ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, মুলা সব কিছুর সরবরাহ বেড়েছে। এর সঙ্গে নতুন করে শাল গমের ও কাঁচা টমেটো আসতে শুরু করেছে। যে কারণে সবজির দাম কমছে। সামনে সবজির দাম আরও কমবে। ১২০ টাকার শিম এখন ৩০ টাকা হয়েছে। কিছুদিন পর শিমের কেজি ১৫-২০ টাকা হবে।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]