ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২১ জানুয়ারি ২০২১ ৭ মাঘ ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ জানুয়ারি ২০২১

শীতের শুরুতেই জমজমাট কম্বলের বাজার
আর এইচ তামিম
প্রকাশ: শনিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২০, ১১:২৮ পিএম আপডেট: ২৮.১১.২০২০ ১১:৪৩ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 111

অগ্রহায়ণের শুরুতেই মৃদুমন্দ ঠান্ডা আর সকালের নরম কুয়াশার উপস্থিতি জানান দিচ্ছে শীত আসন্ন। রাজধানীর বাইরের জেলাগুলোয় মানুষজন শীতের আবহপূর্ণ মাত্রায় টের পেলেও রাজধানীতে শীত তুলনামূলক কম। দিনের বেলা রৌদ্রময় আর বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই কিছুটা শীত অনুভব করছে রাজধানীবাসীও। তবে অন্য বছরের তুলনায় এবার আগেভাগেই শীত অনুভ‚ত হওয়ায় দেশের বাজারে কম্বলসহ বিভিন্ন ধরনের গরম কাপড়ের চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে। প্রতিদিনই ঢাকার পাইকারি দোকানগুলোয় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ছোট-বড় ব্যবসায়ীরা গরম কাপড় কিনে নিতে ভিড় করছেন।
সরেজমিনে রাজধানীর বঙ্গবাজারের মার্কেটের কম্বলের পাইকারি দোকানগুলো ঘুরে দেখা যায়, প্রচÐ ব্যস্ত সময় পার করছেন বিক্রেতারা। দোকানের ভেতর ও গোডাউন থেকে বস্তায় বস্তায় নামানো হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের কম্বল। দোকানে আগত ক্রেতাদের চাহিদা এবং পছন্দ অনুসারে বিভিন্ন ধরনের কম্বল খুলে দেখাচ্ছেন বিক্রেতারা। লাল, নীল, হলুদ, সবুজ, কালো, গোলাপিসহ নানা রঙের কম্বলের ব্যাপক সমাহার। বাহারি ডিজাইন আর রঙের বৈচিত্র্যে মুগ্ধ হচ্ছেন ক্রেতাসাধারণ। দামে বনিবনা হলেই শুরু হচ্ছে প্যাকেজিং। তবে এখন অনেকেই সশরীরে আর ঢাকায় আসেন না। মোবাইল ফোনে অথবা চাহিদাপত্রের মাধ্যমে জানিয়ে দেন পছন্দের তালিকা। বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং পরিসেবার মাধ্যমে টাকা পাঠানোর পর এসব খুচরা ব্যবসায়ীদের ঠিকানা অনুযায়ী কুরিয়ারেই পাঠিয়ে দেওয়া হয় 
কম্বল। ব্যবসায়ীরা জানান, এ বছর করোনা পরিস্থিতিতে সশরীরে কেনাকাটার চেয়ে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমেই কাক্সিক্ষত পণ্য কিনতে আগ্রহ বেশি ক্রেতাদের। তবে এখন পর্যন্ত আমদানি করা মোটা কম্বলের তুলনায় দেশীয় কারখানায় উৎপাদিত পাতলা কম্বলের চাহিদাই সবচেয়ে বেশি বলেও জানান তারা।
বঙ্গবাজার এনেক্সকো টাওয়ারের ব্যবসায়ী মনির খান বলেন, করোনা পরিস্থিতির জন্য অনেকদিন মার্কেট বন্ধ থাকায় আমরা আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছিলাম। তবে বর্তমানে বেচাকেনা কিছুটা জমে উঠেছে। পরিস্থিতি ভালো থাকলে আশা করি আগের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারব।
আরেক ব্যবসায়ী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, গত কয়েকদিনে ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা বিশেষ করে পঞ্চগড়, যশোর ও বেনাপোলে তাপমাত্রা কম থাকায় সেসব এলাকার স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ীদের প্রচুর অর্ডার পেয়েছি। তা ছাড়া প্রতিদিনই ক্রেতারা সশরীরেও আসছেন। এক্সপোর্ট কোয়ালিটির চায়না পাতলা কম্বলগুলো বেশি চলছে। পাইকারিভাবে সর্বনি¤œ একশ টাকা থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকার কম্বল আমার কাছে রয়েছে। এ ছাড়াও সিঙ্গেল কম্বল, বিদেশি ডাবল কম্বল এবং বিভিন্ন মানের বেশি দামের কম্বলও রয়েছে। দেশি পাতলা কম্বলের চাহিদাও ভালো। এগুলো মানভেদে পাইকারি দাম ১০০-২০০ টাকা। ডাবল পাওয়া যাবে ৪০০-৭০০ টাকার মধ্যে।
তবে ক্রেতারা বলছেন, হঠাৎ করে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দামও কিছুটা বাড়িয়েই বলছেন বিক্রেতারা। ঠাকুরগাঁও থেকে কম্বল কিনতে বঙ্গবাজারে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, আমি শীতের পুরো মৌসুম জুড়েই প্রতি সপ্তাহে একবার বঙ্গবাজার থেকে কম্বল কিনতে আসি। অন্য বছরের তুলনায় এবার কম্বলের চাহিদা আগেভাগেই বেড়েছে। যার জন্য দামটাও বেশি দিতে হচ্ছে। গত সপ্তাহের দামের সঙ্গে এ সপ্তাহের দামের মিল নেই। গত সপ্তাহে আমদানি করা বিদেশি উন্নতমানের কম্বল এবং দেশীয় গার্মেন্টসে উৎপাদিত পাতলা কম্বল যে দামে নিয়েছিলাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে একই জিনিসের জন্য বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। তবে চাহিদার আলোকে আমদানি আরও বাড়লে দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
নিউমার্কেটের বিভিন্ন কাপড়ের দোকানগুলোতেও শুরু হয়েছে কম্বলের বেচাকেনা। তবে এখানে পাইকারি ক্রেতার চেয়ে খুচরা ক্রেতার সংখ্যাই বেশি। সবুজ বেডিং স্টোরের বিক্রেতা শামসুল জানান, এখানে যারা কম্বল কিনেন অধিকাংশই নিজেদের বাসা বাড়িতে ব্যবহারের জন্য। প্রাথমিক অবস্থায় পাতলা চায়না কম্বলগুলোর চাহিদা বেশ ভালো। তবে বেচাকেনা এখনও তেমন জমজমাট হয়নি। আরও দিনদশেক পর শীতে আরও বেশি পড়লে হয়তো কম্বলের বেশ ভালো বেচাকেনা হবে।
আলেয়া খাতুন নামের এক ক্রেতা বলেন, শহুরে জীবনে তেমন শীতের প্রভাব নেই। হালকা পোশাকেই অনায়াসে শীত পার করা যায়। তারপরও চারটি কম্বল কিনলাম। দুটি ডাবল আর দুটি পাতলা। ডাবল কম্বল দুটো গ্রামের বাড়িতে পাটিয়ে দেব। আর আমার বাসায় এই পাতলা কম্বলেই চলবে। দাম নিয়ে কী সন্তুষ্ট? এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, দাম কিছুটা বেশিই। আমদানি বাড়লে হয়তো সামনের দিনগুলোয় আরও কমবে বলে আশা করি। শুধু কম্বলই নয় বরং শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্য গরম কাপড়ের দোকানগুলোতেও ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিক্রেতাদের আশা, সামনের দিনগুলোয় বেচাবিক্রি আরও জমজমাট হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে সামলে উঠা যাবে করোনার ধাক্কা।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]