ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২১ জানুয়ারি ২০২১ ৭ মাঘ ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ জানুয়ারি ২০২১

জরুরি সেবা নীতিমালার খসড়া অনুমোদন মন্ত্রিসভায়
৯৯৯ নম্বরে ফোন করে মিথ্যা তথ্য দিলে শাস্তি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২০, ১১:৫৮ পিএম আপডেট: ০১.১২.২০২০ ১২:২৫ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 43

জাতীয় জরুরি সেবার হটলাইন ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিলে তাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে দণ্ডবিধি অনুযায়ী সাজা দেবে সরকার। একই সঙ্গে জাতীয় জরুরি সেবা পরিচালনায় একটি আলাদা ইউনিট গঠন করে কমপক্ষে ডিআইজি পদমর্যাদার একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে সেখানে দায়িত্ব দেওয়া হবে। এমন বিধান রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে জাতীয় জরুরি সেবা নীতিমালা ২০২০-এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নদীভাঙন রোধে বালুমহাল থেকে অবৈধভাবে বালু তোলা বন্ধে নীতিমালা করতে যাচ্ছে সরকার।
মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি জানান, রাষ্ট্রীয় সম্পদ, জননিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, অপরাধ দমন, জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধানে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। জনজীবনের সফলতা ও সম্ভাবনার বিষয়ে আলোচনা করে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ সংক্রান্ত এই নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে নিরাপদ জীবন ও শান্তিপূর্ণ সমাজ বির্নিমাণে জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে সঙ্কটাপন্ন মানুষকে সহায়তা করা, দুর্ঘটনা ও অপরাধ প্রতিরোধ করা। এ ছাড়া অপরাধের শিকার কোনো ব্যক্তি বা সম্পদ উদ্ধার করা, দুর্ঘটনায় নিপতিত মানুষকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা এবং জান-মালের উদ্ধারসহ দ্রুততম সময়ে দুর্গতদের হাসপাতালে পাঠানো।
নীতিমালার আলোকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা বিভাগে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নামে একটি ইউনিট গঠিত হবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কমপক্ষে ডিআইজি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করা হবে। এক প্রশ্নে তিনি বলেন, মিথ্যা, বানোয়াট, গুজব ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য যদি কেউ দেয় তবে সেটাও দেখা হবে, দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। তবে অনিচ্ছাকৃত বা শিশুরা ভুলে কোনো ভুল তথ্য দিলে তাদের যেন শাস্তির মুখে পড়তে না হয় তা বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তবে যদি চিট করতে চায়, ইচ্ছা করে যদি কেউ কিছু করতে চায় সেটা হবে শাস্তিযোগ্য। সেজন্য সংশ্লিষ্ট আইন প্রযোজ্য হবে। মিথ্যা তথ্য দেওয়ার শাস্তি পেনাল কোডে আছে।
৯৯৯ নম্বরে কে, কোন জায়গা থেকে ফোন দিচ্ছে তা শনাক্তের ব্যবস্থা থাকবে জানিয়ে আনোয়ারুল বলেন, সুতরাং কেউ সহজে ফলস রিং করতে যাবেন না। এ ছাড়া ৩৩৩, ১০৯ নম্বরগুলো সব ইন্টারঅপারেটিভিটি হয়ে যাবে। এগুলোতে ফোন করে যদি কেউ বলে এখানে ডাকাত পড়েছে ওখানে অটোমেটিক্যালি কানেক্টেড হয়ে যাবে।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের গাইডলাইনে জাতীয় জরুরি সেবার এই প্লাটফর্ম সাজানো হয়েছে জানিয়ে আনোয়ারুল বলেন, এটা খুবই ইফেক্টিভ করতে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এটা এখন আরও অর্গানাইজড ওয়েতে হবে। এনটিএমসি, বিটিআরসি সবার সঙ্গে ইনস্ট্যান্ট একটা কমিউনিকেশন সিস্টেম থাকবে।
বালুমহাল থেকে অবৈধ উত্তোলন বন্ধে নীতিমালা : নদীভাঙন রোধে বালুমহাল থেকে অবৈধভাবে বালু তোলা বন্ধে একটি নীতিমালা করতে যাচ্ছে সরকার। ওই নীতিমালার আলোকে বালুমহালগুলোর পাশাপাশি সেখান থেকে কোন কোন ঠিকাদার বালু তুলতে পারবে সেই তালিকা করে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার মন্ত্রিসভার ভার্চুয়াল বৈঠকে ‘বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০’ নিয়ে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করার সময় বালুমহাল নিয়ে বিশেষ নির্দেশনা দেন সরকারপ্রধান।
এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বালুমহালগুলো যদি নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে তা নদীরভাঙনের বড় কারণ হবে। এটা নিয়ে আমরা ৩-৪ মাস ধরে কেবিনেটে অনেকগুলো আন্তঃমন্ত্রণালয় মিটিং করেছি। আমরা প্রিসাইজ করেও দিয়েছি যে, এখন থেকে বালুমহাল কীভাবে হবে। ভূমি সচিবকে সভাপতি করে একটি কমিটি গঠন করে গাইডলাইনও দিয়ে দিয়েছি যে, কীভাবে নীতিমালা হবে। আশা করি, জানুয়ারির মধ্যে নীতিমালা হয়ে যাবে। ওই নীতিমালার আলোকে পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং বিআইডব্লিউটিএ সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের রিকুইজিশনের ভিত্তিতে জরিপ করে বালুমহাল ঠিক করে দেবে। এরপর পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং বিআইডব্লিউটিএ’র টেকনিক্যাল কমিটির মতামত নিয়ে জেলা প্রশাসকরা বালুমহালগুলো ডিক্লারেশন দেবেন এবং ম্যাপসহ মন্ত্রণালয় ও ডিসি অফিসের ওয়েবসাইটে দেবেন। দরপত্র আহ্বান করে ঠিকাদারদের তালিকাও ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, পরে দরপত্র আহ্বান করে কতটুকু বালু নিতে পারবে, তা নির্ধারণ করে দেবে। তালিকার বাইরে ও বালুর পরিমাণের বাইরে কেউ বালু তুলতে পারবে না। সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন ও ওয়েবসাইটে বালুমহাল এবং বালুর পরিমাণ ও ঠিকাদারদের তালিকা প্রকাশ করা হবে।
সচিব বলেন, বালুর পরিমাণ নির্ধারণের জন্য মাল্টিবিম সার্ভে করা হবে। ফলে ৩০ মিটার পর্যন্ত বালু ফেললে প্রি-ওয়ার্ক মেজারমেন্ট ও পোস্ট-ওয়ার্ক মেজারমেন্ট থাকবে। ১ সেন্টিমিটার ফেললেও আসবে স্ক্রিনে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বিআইডব্লিউটিএ ওই মাল্টিবিম দিয়ে সার্ভে করে দেবে। তারা প্রিসাইজলি বলে দিতে পারবে। আশা করি একটা বড় পরিবর্তন হবে আমাদের ম্যানেজমেন্টে।








সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]