ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২১ ১৪ মাঘ ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২১

গোল্ডেন মনিরের অবৈধ সম্পদের মামলা
আট বছর পর দুদকের  অভিযোগপত্র!
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২০, ১১:২৯ পিএম আপডেট: ০৩.১২.২০২০ ১১:৩৯ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 46

মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনিরের বিরুদ্ধে ২০১২ সালে প্রথম মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে রিট করে থামিয়ে দেওয়া হয় মামলার তদন্তকাজ। তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি মনিরের। অবশেষে আট বছর পর গোল্ডেন মনিরের অবৈধ সম্পদের মামলার অভিযোগপত্র দিচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন। বৃহস্পতিবার দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন মৃধার প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে এদিন কমিশন এ মামলার অভিযোগপত্র অনুমোদন দেয়। শিগগিরই বিচারিক আদালতে তা জমা দেওয়া হবে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা যায়, ২০১২ সালে দুদক প্রথম গোল্ডেন মনিরের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের মামলা করে। তাতে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তার ৩ কোটি ১০ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহিভর্‚ত সম্পদের প্রাথমিক প্রমাণ দেওয়া হয়। পরে এ মামলার বিরুদ্ধে মনির উচ্চ আদালতে
রিট করলে তদন্তকাজ স্থগিত থাকে। ২০১৮ সালে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হলে মামলার তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে তার ওই টাকার কোনো বৈধ উৎস খুঁজে না পাওয়ায় অভিযোগপত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সংস্থাটি। এ ব্যাপারে দুদক সচিব দিলোয়ার বখত জানিয়েছেন, মনিরের বিরুদ্ধে ২০১২ সালের মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হলেও নতুন করে তার বিরুদ্ধে সম্পদের অনুসন্ধান চলছে।
কমিশনের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য জানান, বৃহস্পতিবার অনুমোদন পাওয়া এই অভিযোগপত্রে মনিরের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ১০ লাখ ৮৫ হাজার ৩৩৫ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। শিগগিরই এ অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হবে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মনির তার সম্পদের হিসাবে ১ কোটি ৬১ লাখ টাকার সম্পদ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে দান হিসেবে পাওয়ার ভুয়া তথ্য দিয়েছেন। এ ছাড়া আরও ১ কোটি ৪৯ লাখ ৮৫ লাখ ৩৩৫ টাকার সম্পদের তথ্য তিনি হিসাব বিবরণীতে দিয়েছেন, যার কোনো বৈধ উৎস দুদকের তদন্তে পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
তদন্ত শেষ হতে আট বছর সময় লাগার কারণ ব্যাখ্যা করে দুদক কর্মকর্তা প্রণব বলেন, উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ ছিল। এরপর কমিশনের এক সহকারী পরিচালককে মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ওই কর্মকর্তাও বদলি হয়ে যাওয়ায় তদন্ত কার্যক্রম বিলম্বিত হয়। পরে দুদকের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন মৃধা মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেন, যা বৃহস্পতিবার কমিশনের অনুমোদন পেল। মনিরের বিরুদ্ধে আরেকটি অনুসন্ধান চলছে জানিয়ে দুদকের এই কর্মকর্তা বলেন, ২০০৯ সালের পর থেকে তার অর্জিত অবৈধ সম্পদের বিষয়ে এ অনুসন্ধান চলছে। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে মনির ও তার স্ত্রী রওশন আক্তারের সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নতুন এই অনুসন্ধানে তার প্রচুর অবৈধ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
দুদক পরিচালক আকতার হোসেন আজাদের স্বাক্ষরে ২৬ নভেম্বর পাঠানো ওই নোটিশে মনির ও তার স্ত্রীকে ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদের বিবরণী দাখিল করতে বলা হয়েছে। মেরুল বাড্ডায় মনিরের ছয়তলা বাড়িতে ২০ নভেম্বর রাতে অভিযান চালায় র‌্যাব। অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানে এই অভিযান চালানোর পর মনিরকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে মনিরের বাড়ি থেকে নগদ ১ কোটি ৯ লাখ টাকা, চার লিটার মদ, আট কেজি সোনা, একটি বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারের পর মনিরের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে তিনটি মামলা হয়েছে। মামলাগুলো তদন্ত করছে গোয়েন্দা পুলিশ। র‌্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যবসা নয়, কার্যত সোনা চোরাচালানই ছিল মনিরের ব্যবসা; পরে তিনি জড়িত হন জমির ব্যবসায়। একসময় নিউ মার্কেট এলাকায় মনিরের একটি সোনার দোকান ছিল। স্বর্ণ চোরাচালান ব্যবসার সময় তিনি গোল্ডেন মনির নামে পরিচিতি পান।
ফের ৯ দিনের রিমান্ডে : অস্ত্র, বিশেষ ক্ষমতা ও মাদক আইনের পৃথক তিন মামলায় মো. মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনিরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফের ৯ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে আসামি মনিরকে রিমান্ড শেষে হাজির করে পুলিশ। এ সময় অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের পৃথক দুই মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুনরায় ১০ দিন করে ২০ দিনের এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকার মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তার প্রার্থিতা ২৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে আইনজীবী এহেসানুল হক সমাজী রিমান্ডের আবেদন বাতিল চেয়ে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে মহানগর হাকিম মঈনুল ইসলাম অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলায় তিন দিন করে মোট ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে বিচারক বলেন, দুই মামলার রিমান্ড একসঙ্গে কার্যকর হবে। অন্যদিকে ঢাকা মহানগর হাকিম মামুনুর রশীদ মাদক মামলায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]