ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২১ ১৪ মাঘ ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২১

ধান চাষের মৌসুমেও পুরোপুরি  সরেনি হাওরের পানি
নেত্রকোনা সংবাদদাতা
প্রকাশ: শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 24

নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে বর্ষায় তলিয়ে যাওয়া আবাদযোগ্য ফসলি জমি থেকে পানি সরে যাওয়ার ভরা এ মৌসুমেও পুরোপুরি তা সরেনি। বিলম্বে পানি সরতে থাকায় এবার বোরো আবাদের মাধ্যমে ধান উৎপাদন ও সংগ্রহে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, নেত্রকোনার খালিয়াজুরী, মোহনগঞ্জ, মদন, আটপাড়া, ও কলমাকান্দা উপজেলায় বর্ষায় বেড়ে যাওয়া হাওরের পানি নভেম্বরের মধ্য ভাগে পুরোপুরি সরে যায় অন্যান্য বছর। তখন বীজতলা তৈরি করে বোরো বীজ বপন করা হয়। ডিসেম্বরের শেষ ভাগে জমিতে রোপণ শুরু হয় ধানের চারা। কিন্তু এ বছর হাওরের পানি এখনও না সরায় বীজ বপনে বিলম্ব হচ্ছে। ফলে চারা রোপণ ও ধান উৎপাদন যাচ্ছে পিছিয়ে। এতে ধান চারায় কোল্ড ইনজুরি ও ফসল কাটার মৌসুমে ঢল ও জোয়ারের পানিতে সৃষ্ট আগাম বন্যায় ফসল তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা হচ্ছে।
কৃষকরা আরও জানান, হাওরে নির্মিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নিয়ন্ত্রণাধীন সøুইস গেটগুলো যথাসময়ে খুলে না দেওয়াই হচ্ছে পানি না সরার অন্যতম কারণ।
কৃষকদের কথাগুলো সত্য ও বাস্তবসম্মত স্বীকার করে খালিয়াজুরী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান বলেন, হাওরে নির্মিত বিভিন্ন বাঁধে পর্যাপ্ত সøুইস গেট না দেওয়া তথা বাঁধ নির্মাণকে যুগোপযোগী না করায় পানি প্রবাহে বিঘœ ঘটছে। হাওরে ফসল রক্ষায় কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনে নির্মাণ করা বাঁধসমূহে পর্যাপ্ত পরিমাণে সøুইসগেট থাকলে পানি সড়তে এখন এতটা সমস্যা হতো না।
খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এএইচএম আরিফুল ইসলাম বলেন, বার বার তাগিদ দেওয়া সত্তে¡ও নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃপক্ষ হাওরের সøুইসগেটগুলো খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেনি। পাউবোর জনবল সঙ্কটের খুরা অজুহাত দেখিয়ে সøুইস গেট খুলে দেওয়া থেকে তারা এড়িয়ে গেছে বলেই হাওরের পানি সড়তে দেরি হচ্ছে। গত বছরও তারা এমন সমস্যা সৃষ্টি করেছিল বলে জানান তিনি। নেত্রকোনা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী এমএল সৈকত বলেন, হাওরের প্রায় সবগুলো সøুইস গেট নিদৃষ্ট সময়ই পাউবোর তত্ত¡াবধায়নে খুলে দেওয়া হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর এমন সময়ে হাওরের পানি নামার পয়েন্ট ভৈরবের মেঘনা নদীতে এক ফুট পানি বেশি নেমেছে। তিনি আরও বলেন, বিগত দুবছর আগের তুলনায় এখানে এবারের পানি সরার গতি খুবই কম। তাই হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জরিপ ও সংস্কার কাজও পিছিয়ে যাচ্ছে নির্দিষ্ট সময় থেকে।
প্রসঙ্গত, নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. হাবিবুর রহমান জানান, নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়। এর মধ্যে শুধু মাত্র খালিয়াজুরী উপজেলায় আবাদ হয় প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে। এক ফসলি এ জমির ফসল বন্যা কিংবা অন্য কোনো কারণে একবার মার খেলে এখানকার কৃষক সহজে ঘুরে দাঁড়াতে পারেন না।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]