ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ৫ ডিসেম্বর ২০২১ ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ৫ ডিসেম্বর ২০২১

ভার্চুয়াল রাজনীতিতে সচল শরিক দলগুলো
সাব্বির আহমেদ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২০, ৯:৫৮ পিএম আপডেট: ৩০.১২.২০২০ ১১:৩০ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 73

করোনায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ছাড়াও জোট-মহাজোটের শরিক দলগুলোর অবস্থাও ছিল নাজুক। এক অদৃশ্য ভাইরাসের ছোবলে বছরজুড়েই স্থবির ছিল প্রায় সব রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড। উত্তাপ ছিল রাজনীতির মাঠে। ভার্চুয়ালি চলছে রাজনীতি। স্বাচ্ছন্দ্যমতো হচ্ছে না সভা-সমাবেশ। মাঝেমধ্যে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দুয়েকটা মানবন্ধন চোখে পড়ছে। আর জরুরি কিছু না থাকলে গণমাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে দলের বক্তৃতা-বিবৃতি। বলা যায়, একেবারেই সঙ্কুচিত ছিল অপেক্ষাকৃত ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ড।
২০২০ সালের ৮ মার্চ প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্ত চিহ্নিতের পর ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটিতে যায় দেশ। এরপর সবই ঘরবন্দি হয়ে পড়ে। করোনার মাঠ পর্যায়ে কিছু করতে না পারলেও স্বাস্থ্য খাতসহ বিভিন্ন খাতে হওয়া দুর্নীতি, অনিময় ও সমাজের প্রতিটি স্তরের বৈষম্য, নির্যাতন, ধর্ষণসহ নানা অসঙ্গতির প্রতিবাদ জানিয়েছে সরকারবিরোধী ও বাম রাজনৈতিক জোটগুলো। তবে করোনা মোকাবিলায় যুগপৎভাবে কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো। জাতীয় দুর্যোগে রাজনীতিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আবহ তৈরি হলেও তা করতে পারেনি তারা।
জাতীয় পার্টি : বিএনপি মাঠের বিরোধী দল হলেও সংসদে জাতীয় পার্টিই প্রধান বিরোধীদল। করোনাকালে মাঠে-ময়দানে তেমন উপস্থিতি জানান দিতে না পারলেও ঘরোয়া পরিবেশে দলটির কার্যক্রম সীমিত ছিল। তবে বিভিন্ন জেলা-উপজেলার ভার্চুয়ালি সভায় অংশ নিয়েছেন পার্টির চেয়ারম্যান ও মহাসচিব। এর মধ্যেই দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে ঢেলে সাজানোর জন্য নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। সাংগঠনিক বিভাগগুলোকেও করা হচ্ছে চাঙা। বিশেষ করে ১ জানুয়ারি দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফল করার জন্য ব্যস্ত সময় পার করছেন কেন্দ্র থেকে শুরু করে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। পার্টির চেয়ারম্যান বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সরকারের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের বিষোদগার করেছেন। মহাসচিব জিয়াউদ্দিন বাবলুও একই সুরে বক্তব্য দিয়েছেন। তবে করোনাকালে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদকে বছরজুড়ে মাঠে দেখেননি নেতাকর্মীরা। গণমাধ্যমে কালেভদ্রে শুভেচ্ছা বার্তা ও বিবৃতি দেওয়া ছাড়া ঘরেই ছিলেন।
বাম দল : নোয়াখালীতে বিবস্ত্র করে ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে ঢাকাসহ সারা দেশ। এতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয় বাম দলগুলো। ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনে লংমার্চ থেকে শুরু করে বিক্ষাভ সমাবেশ প্রতীকী মশালসহ নানাভাবে সক্রিয় থাকে বাম জোট। বছরের মাঝামাঝিতে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো বন্ধ করে দেওয়ার পর সরব হয় বাম দলগুলো। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বেশ কয়েকদিন মিছিল-সমাবেশ-মানববন্ধন করে।
গণফোরাম : বহিষ্কার-পাল্টা বহিষ্কারে বছর পার করেছে ড. কামাল হোসেনের দল গণফোরামের। করোনায় মানুষের পাশে থাকতে না পারলেও গৃহদাহে পুড়েছে দলটি। দফায় দফায় সংবাদ সম্মেলনে ভাঙন অনেকেটাই স্পষ্ট করেন শীর্ষ নেতারা। বছরের শেষ দিকে ড. কামাল নিজে উদ্যোগ নিয়ে ঘরের বিবাদ মেটানোর চেষ্টা করেন।
জেএসডি : জাতীয় পতাকার উত্তোলক আ স ম আবদুর রবের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি করোনার মধ্যে কিছু খাদ্যসামগ্রী দিলেও সিংহভাগ সময়ই ছিল ঘরবন্দি। দুয়েকদিন পরপর গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছেন দলটির সভাপতি আ স ম আবদুর রব। তবে ছোট এ দলটিও ভাঙনের মুখে পড়েছে। দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন আলাদা হয়ে যান।
নাগরিক ঐক্য : নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ছিলেন ‘ওয়ান ম্যান শো’। একাই গুটিকয়েক নেতাকর্মী নিয়ে প্রেসক্লাবে নানা ইস্যুতে সরকারবিরোধী বক্তব্য দিয়ে গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছেন।
হেফাজত : ২০২০ সালে নানা ইস্যুতে ধর্মভিত্তিক অরাজনৈতিক দল হেফাজতে ইসলাম ছিল বেশ আলোচনায়। বছরের শেষ দিকে ভাস্কর্য ইস্যুতে হয়েছে ব্যাপক সমালোচিত। হেফাজতে ইসলামের ব্যানারে ইসলামী দলগুলো হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর কার্টুন প্রকাশ নিয়ে ফ্রান্সবিরোধী বিক্ষোভে নেমে রাজপথে উত্তাপ ছড়ানোর চেষ্টা চালিয়েছিল পল্টন ও তার আশপাশের এলাকায়। তবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য অপসারণের দাবি তুলে হেফাজত বছরের শেষ ভাগে রাজনৈতিক অঙ্গন বেশ উত্তপ্ত করে। শেষমেষ সরকারের সমঝোতায় তা স্থিমিত হয়। করোনার মধ্যেই চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসার ছাত্র আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ফের সরগরম হয় হেফাজত। এরপরই হেফাজত আমির আল্লামা আহমেদ শফী মারা গেলে সংগঠনে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে দাবানলের মতো। ভাঙনও আসে। এর কিছুদিন পর মারা যান হেফাজতের নতুন মহাসচিব নূর হোসেন কাসেমী। তবে আল্লামা শফীর মৃত্যুর নিয়ে ‘বাক্য বিনিময়’ চলছেই দুপক্ষের মধ্যে।
আর বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের মধ্যে কিছুটা সক্রিয় ছিল মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের লেবার পার্টি, মেজর জেনারেল (অব) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের কল্যাণ পার্টি। অন্যদিকে বিএনপি-সরকার উভয়ের সমালোচনায় ব্যস্ত ছিলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। করোনায় প্রেসক্লাব ও পল্টনকেন্দ্রিক অনুষ্ঠানে সরব ছিল বাংলাদেশ ন্যাপ।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]