ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ১৮ জানুয়ারি ২০২১ ৩ মাঘ ১৪২৭
ই-পেপার সোমবার ১৮ জানুয়ারি ২০২১

এমসি কলেজের গণধর্ষণ মামলা আমলে নিলেন আদালত
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২১, ২:৫৪ পিএম আপডেট: ১২.০১.২০২১ ২:৫৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 74

সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণীকে দলবেঁধে ধর্ষণের মামলার চার্জশিট গ্রহণ করে তা আমলে নিয়েছেন আদালত। 

মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মো. মোহিতুল হকের আদালত আলোচিত এ ধর্ষণ মামলার চার্জশিট গ্রহণ করেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাপভোকেট রাশিদা সাঈদা খানম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আদালত চার্জশিট গ্রহণ করে তা আমলে নিয়েছেন। তবে এ মামলার চার্জ গঠনের তারিখ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।

এদিকে পুলিশের দেয়া ধর্ষণর মামলার এ চার্জশিটে কোনো ধরণের কোনো আপত্তি জানান নি বাদী পক্ষের আইনজীবীরা। 

এর আগে গত ৩ ডিসেম্বর সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আবুল কাশেম আদালতে ৮ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক ইন্দ্রনীল ভট্রাচার্য। চার্জশিটে অভিযুক্ত সাইফুর রহমানকে প্রধান করে ৬ জনের বিরুদ্ধে সরাসরি ধর্ষণে জড়িত থাকা এবং অপর দুই জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণে সহায়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আসামিদের মধ্যে সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ও মিসবাউল ইসলাম রাজন মিয়া সরাসরি জড়িত এবং রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান মাসুম তাদের সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের বালুচর এলাকার এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন এক নারী। কলেজের গেট থেকে স্বামীসহ তাকে ধরে ছাত্রাবাসে এনে স্বামীকে বেঁধে তরুণীকে ধর্ষণ করা হয়। সে রাতে ভুক্তভোগী তরুণীর স্বামী বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরও ৩/৪জনকে আসামি করে এসএমপি’র শাহপরাণ থানায় মামলা করেন।

আসামিরা হলেন- সাইফুর রহমান, তারেকুল ইসলাম তারেক, শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি, অর্জুন লস্কর, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান মাসুম। তাদের সঙ্গে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে মিসবাউর রহমান রাজন ও আইনুদ্দিনকেও গ্রেফতার করে পুলিশ।

 গ্রেফতারের পর তাদের প্রত্যেককে ৫ দিন করে রিমান্ডে নেয়া হয়। রিমান্ড শেষে সবাই ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দেন। গ্রেফতারকৃত সবার ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকায় সিআইডির বিশেষায়িত ল্যাবে পাঠানো হলে ডিএনএ প্রতিবেদন গত ৩০ নভেম্বর আদালতের কাছে পৌঁছায়।

ধর্ষণের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত শেষে প্রতিবেদন হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও মহি উদ্দিন শামিমের বেঞ্চে জমা দেয়া হয়।

কলেজ কর্তৃপক্ষও তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন কলেজ অধ্যক্ষের কাছে জমা দিয়েছেন। এছাড়াও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটি তদন্ত শেষে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, মাহফুজুর রহমান মাসুম ও রবিউল হাসানের ছাত্রত্ব ও সার্টিফিকেট বাতিল করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এমসি কলেজ থেকে তাদেরকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করা হয়েছে।

ধর্ষণের সেই রাতে ছাত্রবাসে সাইফুর রহমানের দখলে থাকা একটি কক্ষ থেকে বিভিন্ন অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সাইফুরের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করেছে। এ মামলায় সাইফুর রহমান ও শাহ মাহবুবুর রহমান রনিকে অভিযুক্ত করে আদালতে পৃথক একটি চার্জশিট জমা দিয়েছে পুলিশ।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]