ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ১৮ জানুয়ারি ২০২১ ৩ মাঘ ১৪২৭
ই-পেপার সোমবার ১৮ জানুয়ারি ২০২১

লাভ ছাড়া তো ভারত ভ্যাকসিন বিক্রি করবে না : অর্থমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২১, ১১:০৫ পিএম আপডেট: ১৩.০১.২০২১ ১১:৫৮ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 36

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ভারত ভ্যাকসিন তৈরি করলে তাদের উৎপাদন খরচ কম হবে। তবে তারা তো আর লাভ ছাড়া বিক্রি করবে না। তাদের যে খরচ হবে, সে দামেই আমরা পাব, এটা আশা করা ঠিক হবে না। বুধবার অনলাইনে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।ভারতের তুলনায় ৪৭ শতাংশ বেশি দামে ভ্যাকসিন কিনছে সরকার। এর ফলে বাজেটে কোনো প্রভাব পড়বে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দাম বেশি হয়েছে কি না, আমি এই মুহূর্তে বলতে পারব না। ভারত যদি তৈরি করে, তা হলে তাদের উৎপাদন খরচ তো কম হবেই। তারা যখন বিক্রি করবে অবশ্যই খরচ ও লাভ দুটোকে একত্র করে তারা বিক্রি করবে। তবে আমরা দেখব, আন্তর্জাতিক বাজারে ভ্যাকসিনের দাম কত। আমরা কত দামে পাচ্ছি, সেটা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করব। কারণ ভ্যাকসিন একটি দেশ তৈরি করবে না। অনেক দেশ তৈরি করবে। এক দেশ যদি বেশি দাম চায়, তা হলে অন্য দেশে যাওয়ার চেষ্টা করব। সেই সুযোগ আমাদের রয়েছে।
করোনার ভ্যাকসিন শুধু ভারত থেকেই আনতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই বলেও মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা যেখানে কমে পাব, সেখান থেকেই ভ্যাকসিন আনব।
আগামী বাজেটে ভ্যাকসিন ও জনস্বাস্থ্যের কোন বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের এই মুহূর্তে জাতির জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং যার জন্য সবাই অপেক্ষা করে আছে, তা হলে আমরা কবে ভ্যাকসিনের কাজটা শুরু করতে পারব। কবে ভ্যাকসিন সবাইকে দেওয়া শেষ করতে পারব। ভ্যাকসিন আনাটা কঠিন কাজ নয়। ভ্যাকসিন দেওয়াটা কঠিন কাজ। সব মানুষকে ভ্যাকসিনের আওতায় নিয়ে আসা খুব জটিল কাজ। আমরা বিশ^াস করি, এখানে সফল হব। প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিয়ে এগিয়ে যাব। সরকার এই বিষয়ে সচেতন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী প্রত্যাশা করেন, ভ্যাকসিনের টাকা জোগাড় করার সক্ষমতা যাদের নেই, তারাও বঞ্চিত হবে না। সরকার তাদের ভ্যাকসিন দেওয়ার খরচ বহন করবে। আপনারা জানেন, এটা এক দিনে হবে না। দেশের ১৭ কোটি মানুষকে এক দিনে এটি দেওয়া যাবে না। সে জন্য অবশ্যই কিছু ধাপ থাকবে। প্রথম ধাপে কারা পাবেন, দ্বিতীয় ধাপে কারা পাবেন, তৃতীয় ধাপে কারা পাবেন, এভাবে অগ্রাধিকার খাতগুলো চিহ্নিত করে আপাতত ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। আমরা প্রত্যাশা করি, দেশের ১৭ কোটি মানুষকে ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আনতে পারব।
ফেব্রুয়ারিতে উন্নয়নশীল দেশের স্তরে বাংলাদেশ : অন্যদিকে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশের স্তরে পৌঁছে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
তিনি বলেন, আমরা আশাবাদী এবার জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির দ্বিতীয় বৈঠকে আমরা উত্তরণ ঘটাতে পারব। অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করে আছি আমরা এলডিসি থেকে বেরিয়ে আসব এবং গ্র্যাজুয়েশন করব, উন্নয়নশীল দেশের দিকে যাব। সেটি করার জন্য কিছু ক্রাইটেরিয়া আছে, সেটি জাতিসংঘ দেখে। এ জন্য প্রত্যেক দেশকে যদি ইচ্ছা পোষণ করে যে তারা গ্র্যাজুয়েশন চায়, তারা এলডিসি থেকে বেরিয়ে আসতে চায় তা হলে তাদের জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসিকে জানাতে হয়। এরা ত্রি-বার্ষিক পর্যালোচনা সভায় বসে এবং এটি তাদের পরামর্শ অনুযায়ী একটি দেশকে আপগ্রেড করা হয়, নিম্ন স্তর থেকে উচ্চস্তরে নিয়ে আসা হয়।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ২০১৮ সালে এই কমিটি পর্যালোচনা সভা করেছিল। সেই সভায় এই কমিটিকে খুশি করতে কমিটির যে চাহিদা সেটি আমরা পূরণ করেছিলাম। তিনটি চাহিদা সেখানে আছে। দেশের ইকোনমিক ভারনারেবল ইনডেস্ক, হিউম্যান অ্যাসেট ইনডেক্স এবং পার ক্যাপিটা ইনকাম। তিনটি বিষয় দেখে একটি দেশকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তবে এটি একটি সভায় করা হয় না, এই কমিটি পরবর্তী সভায় যখন আবার বসবে প্রথম সভায় যারা ক্রাইটেরিয়াগুলো মিট করতে পারে এবং দ্বিতীয় সভায় যারা ক্রাইটেরিয়া মিট করতে পারে তাদেরকেই গ্র্যাজুয়েশনের জন্য সিলেক্ট করা হয়।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]