ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২১ জানুয়ারি ২০২১ ৭ মাঘ ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ জানুয়ারি ২০২১

আওয়ামী লীগে গৃহবিবাদ তুঙ্গে
মাছ কাদেরসহ ২৬ জন গ্রেফতার
জসীম চৌধুরী সবুজ চট্টগ্রাম
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২১, ১১:০৫ পিএম আপডেট: ১৪.০১.২০২১ ১২:০১ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 175

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী এখন আওয়ামী লীগ। নগরীর ৪১ ওয়ার্ডের মধ্যে ৩৬টিতে এবং সংরক্ষিত মহিলাদের ১৩টি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা দলীয় নেতাদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নগরজুড়ে নির্বাচনি পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তুলেছেন এই বিদ্রোহীরা। ভোট যতই ঘনিয়ে আসছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ততই অবনতির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন প্রশাসন। প্রতিটি ওয়ার্ডে একক প্রার্থী দিতে পেরেছে বিএনপি। আওয়ামী লীগের তীব্র কোন্দলের ফসল ঘরে তোলার সুযোগ নিতে চায় তারা।
পাঠানটুলীতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত এক কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুরের সমর্থকদের ওপর বিদ্রোহী প্রার্থীর সশস্ত্র হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আজগর আলী বাবুল (৫৫) নামে এক মহল্লা সর্দার নিহত হওয়ার ঘটনায় পাঠানটুলী এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটায় এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে বুধবার সকালে ডবলমুরিং থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন নিহতের ছেলে সেজান মাহমুদ সেতু। মামলায় সাবেক কাউন্সিলর ও এবারে বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল কাদের ওরফে মাছ কাদেরকে ১ নম্বর আসামি করে ১৩ জন এজাহার নামীয় ও ৩০-৪০ জন অজ্ঞাত আসামির কথা বলা হয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাছ কাদেরসহ ২৬ জনকে গ্রেফতার করেছে। এদের মধ্যে মাছ কাদেরসহ ১৩ জনের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এই মাছ কাদের হচ্ছেন নগরীর আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার ত্রাস। স্কুলের গণ্ডি পেরুতে না পারলেও সরকারি কমার্স কলেজে এলাকায় সবল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস ও ফুটপাথে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। একসময় মহানগর পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী কাদের ২০১৫ সালের নির্বাচনে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন। তখন সন্ত্রাস করে কেন্দ্র দখলের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
চসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২৭ জানুয়ারি। এর মধ্যে নগরজুড়ে উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে। চান্দগাঁও, চকবাজার, ষোলশহর, আগ্রাবাদ, ফিরিঙ্গীবাজার, পাহাড়তলী এলাকায় গত কদিন বেশ কয়েকটি নির্বাচনি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মূলত আওয়ামী লীগের দুপক্ষ এসব সংঘর্ষে জড়িত। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী একে ‘গৃহযুদ্ধ’ অভিহিত করে বলেছেন, নগর নেতাদের পরামর্শ ছাড়া কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন দেওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি কারও নাম উল্লেখ না করে বহিরাগত কাউকে নগর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে মাথা না ঘামানোর জন্য হুঁশিয়ার করে দেন। সোমবার বঙ্গবন্ধুর সহচর এমএ আজিজের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আলোচনাকালে তিনি আরও বলেন, কাউন্সিলর প্রার্থী নিয়ে বহু খেলা হয়ে গেছে, বহু তামাশা হয়েছে। নগর আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনা করে প্রার্থী ঠিক করলে আজকে গৃহযুদ্ধের এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না।
বিদ্রোহী প্রার্থীদের অধিকাংশই সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী। আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীর জন্যও বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছেন এই বিদ্রোহীরা। তার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ দফায় দফায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেও বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিবৃত্ত করতে পারেননি। আ জ ম নাছির নিজেও বিদ্রোহীদের বহিষ্কারের হুমকি দিয়েছেন। কিন্তু তারা সব শক্তি নিয়ে মাঠে আছেন। তাদের সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়াচ্ছে দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্তদের সমর্থকদের সঙ্গে। ফলে প্রতিদিনই ঘটছে অপ্রীতিকর ঘটনা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির আশঙ্কা প্রশাসনের। নেতাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে শুধু ২ জন বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তারা হলেন গোসাইলডাঙ্গা ওয়ার্ডের সাইফুল আলম চৌধুরী এবং রামপুর ওয়ার্ডের এরশাদউল্লাহ।
চসিক নির্বাচনি প্রচারণায় জমজমাট এখন নগরী। মেয়র পদে দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ঘাম ঝরানো পরিশ্রম করছেন গণসংযোগ-সমাবেশে যোগ দিয়ে।
নগরীর বহদ্দারহাট ও আশপাশের এলাকায় গণসংযোগ করেন আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় নৌকা প্রতীকে ভোট চান তিনি। আগের রাতে পাঠানটুলীতে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘাতে প্রাণহানির জন্য সিন্ডিকেট ও বিরোধীপক্ষকে দায়ী করেন নৌকার প্রার্থী। বলেন, পরিবেশ নষ্ট করার জন্য বিএনপি জামায়াতেরও এজেন্ট কিংবা আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী বহিরাগতরা এ ঘটনা যে ঘটায়নি, তার প্রমাণ কী? এ ধরনের ঘটনা কাম্য নয়। নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি। ভোটারদেরও কোনো অপপ্রচারের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান রেজাউল করিম।
অন্যদিকে নগরীর গোসাইলডাঙ্গা থেকে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন। পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চান তিনি। তার প্রচারণায়ও উঠে আসে সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা। সরকারি দলের নেতাকর্মীদের সহিংসতায় ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ বিএনপির প্রার্থীর। বলেন হানা ঘটনা ঘটেছে, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে, প্রচারণায় হামলা হয়েছে কিন্তু নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। যে কারণে এখন সহিংস ঘটনা ঘটছে। সরকারি দলের নেতাকর্মীদের কারণে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন শাহাদাত।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]