ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ১৮ জানুয়ারি ২০২১ ৩ মাঘ ১৪২৭
ই-পেপার সোমবার ১৮ জানুয়ারি ২০২১

শৈত্যপ্রবাহ শুরু
থাকবে শনিবার পর্যন্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২১, ১১:১৪ পিএম আপডেট: ১৪.০১.২০২১ ১২:১১ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 30

গত কয়েক দিনের অস্বাভাবিক গরমের পর হঠাৎ করে আবারও ফিরে এসেছে কনকনে ঠান্ডা। এক দিনের ব্যবধানে ৩ থেকে সাড়ে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমেছে। বুধবার দুপুরের পর থেকেই দেশের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ বইতে শুরু করেছে। শনিবার পর্যন্ত এটি আরও এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
বুধবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে বদলগাছীতে ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বোচ্চ কক্সবাজারে ৩০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী দুই দিনে আরও কিছুটা কমে তা ৬ ডিগ্রি পর্যন্ত নেমে যেতে পারে। এদিকে শৈত্যপ্রবাহ আগামী শনিবার পর্যন্ত থাকবে ও রোববার থেকে তাপমাত্রা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
বুধবার আবহাওয়া অফিস জানায়, রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, দিনাজপুর, সৈয়দপুর ও কুড়িগ্রাম অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এটি অব্যাহত থাকতে পারে ও আরও বিস্তার লাভ করতে পারে।
আবহাওয়াবিদ রুহুল কুদ্দুস জানান, বুধবারের তুলনায় তাপমাত্রা আরও কিছুটা নামতে পারে শুক্রবারের ভিতরে। এরপর তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও শীতের আমেজ থাকবে আরও বেশ কিছুদিন। এখন আবার উত্তরের বাতাস বইতে শুরু করেছে। আগামী রোববার থেকে কমে আসতে পারে শৈত্যপ্রবাহের আমেজ।’
বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে মঙ্গলবারের তুলনায় প্রায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে বুধবার ঢাকায় রেকর্ড করা হয়েছে ১৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ময়মনসিংহে ২ ডিগ্রি কমে ১২ দশমিক ২, চট্টগ্রামে ৫ ডিগ্রি কমে ১২ দশমিক ৫, সিলেটে প্রায় একই আছেÑ ১৫ দশমিক ৪, রাজশাহীতে প্রায় ৫ ডিগ্রি কমে ৯ দশমিক ৮, রংপুরে ৫ ডিগ্রি কমে ১১ দশমিক ২, খুলনায় প্রায় একই আছেÑ ১৬ এবং বরিশালে ২ ডিগ্রি কমে ১৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থান করছে। মৌসুমি লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে অস্থায়ীভাবে আকাশ মেঘলাসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে হালকা থেকে মাঝারি ও নদী অববাহিকায় ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। উত্তরাঞ্চলে দুপুর পর্যন্ত এই কুয়াশা থাকতে পারে।
কুড়িগ্রামে ফের শৈত্যপ্রবাহ : তাপমাত্রা কমে প্রচণ্ড ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে কুড়িগ্রামে। আরেক দফা মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। বুধবার দিনভর সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে গোটা জনপদ। বুধবার সকাল ৯টায় রাজারহাট আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় তাপমাত্রা অনেক কমে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। এটি গত এক সপ্তাহে সবচেয়ে কম তাপমাত্রা। তবে দুয়েক দিনের মধ্যে তাপমাত্রা আরও অনেক মাত্রায় কমে আসবে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে তিন দিন ধরে ঘন কুয়াশার প্রভাবে জনজীবন জবুথবু হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয়ে রাতভর এবং সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকে উত্তরের এ জনপদ। দুপুর গড়িয়ে গেলেও মিলছে না সূর্যের দেখা। ফলে শীতে প্রচণ্ড ঠান্ডা অনুভূত হয় বেশি। এ কারণে এখানকার খেটে খাওয়া দিনমজুররা পড়েছে চরম বিপাকে। উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের দলন গ্রামের বাসিন্দা মোজাফফর আলী বলেন, ‘এত শীত পড়ছে হামার এটে বাহে! হামরা গরিম মানুষ...কটে যামু। এলাও কাইয়ো শীতের একনা কাপড়ও দিল না। হামরা শীতের কাপড় চাই।’
অন্যদিকে সদরের হালাবট এলাকার কৃষক মজিদ মিয়া বলেন, এক দফা শৈত্যপ্রবাহ হয়ে জমির বোরো বীজতলার কিছু ক্ষতি হয়। আবার শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে এবার যে কী হবে জানি না। বোরো আবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছি বীজতলা ক্ষতি হলে রোপণ করা অসম্ভব হবে। এ ছাড়াও শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশায় সূর্যের আলো না থাকায় হেডলাইট জ্বালিয়ে অনেককেই যানবাহন চালাতে দেখা যায়। ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়াসহ নানা শীতজনিত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে হাসপাতালগুলোয়। তবে এ অবস্থা বিরাজ করলে রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা চিকিৎসকদের।
৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নওগাঁয় : দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে নওগাঁয় ৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত দুদিন থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ আর ঘন কুয়াশার কারণে তীব্র শীতে কাঁপছে উত্তরের এ জেলা। গত এক সপ্তাহ থেকে সকালে সূর্যোদয় হলেও হিমেল হাওয়ার কারণে শীতের তীব্রতা কমছে না কোনোভাবেই। শীতের কারণে বিপাকে পড়েছেন জেলার বোরো চাষিরা। সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন অসহায়, দিনমজুর, রিকশা, ভ্যান চালক, ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক (ডিডি) সামশুল ওয়াদুদ জানান, চলতি বোরো মৌসুমে এ জেলায় ১ লাখ ৮০ হাজার ৬২৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় এ পর্যন্ত ২৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান রোপণ করা হয়েছে। আমরা আশা করছি শীতে বোরো চারা রোপণের তেমন কোনো ক্ষতি হবে না। শেষ পর্যন্ত আমরা লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হব।
মহাদেবপুর উপজেলা ভীমপুর গ্রামের কৃষক হারুন অল রশিদ বলেন, বোরো ধানের চারা চাষের জন্য ৭ বিঘা জমি প্রস্তুত করেছি। গত দুদিন ধরে শীতের তীব্রতা বেশি হওয়ার কারণে বোরো ধানের চারা বপন করা সম্ভব হচ্ছে না। তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে অনেক চারা নষ্ট হয়ে গেছে। বোরো চারা রোপণ করার পর শীত ও ঠান্ডার কারণে বীজ নষ্ট হয়ে গেলে চারা কিনে বোরো ধান রোপন করতে হয়। বাজারে ধানের দাম মণ প্রতি ১০০-২০০ টাকা দাম কমে গেছে। তিনি আরও বলেন, তিনবারের বন্যায় অর্ধেক জমিতে আমন ধান হয়নি। তারপর যদি চারা কিনে বোরো আবাদ করতে হয়। তা হলে আমাদের কৃষি পেশা বাদ দিয়ে বিকল্প চিন্তা করতে হবে। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, শীতের তীব্রতা বাড়লেও সেভাবে দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হয়নি সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে।
নওগাঁর বদলগাছী আবহাওয়া অফিসের সহকারী মিজানুর রহমান জানান, বুধবার নওগাঁয় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। শীতে চরম বিপাকে পড়েছে খেটে-খাওয়া দিনমজুর শ্রেণির মানুষ। ঘন কুয়াশার মাঝেই মাঠে-ঘাটে কাজ করছে কর্মজীবীরা। শীতের কারণে সন্ধ্যার সঙ্গে সঙ্গে লোকজনকে ঘরে ফিরতে দেখা গেছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা কামরুল হাসান জানান, জেলায় সরকারিভাবে এ পর্যন্ত ১১ উপজেলায় ৭০ হাজার ২৫০ শীতবস্ত্র (কম্বল) ও ৮শ পিস চাদর বিতরণ করা হয়েছে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]