ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৯ মার্চ ২০২১ ২৪ ফাল্গুন ১৪২৭
ই-পেপার মঙ্গলবার ৯ মার্চ ২০২১

বান্ধবী অবন্তির কাছ থেকে পাওয়া যাচ্ছে চাঞ্চল্যকর তথ্য : দুদক সচিব
পিকে হালদারের ১ হাজার ৫৭ কোটি টাকা ফ্রিজ
দেশে রয়েছে আরও ৬২ সহযোগী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২১, ৬:৪৪ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 149

অর্থ পাচারের মামলায় পলাতক আসামী প্রশান্ত কুমার হালদারের বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা ১ হাজার ৫৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা ফ্রিজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সচিব ড. মু আনোয়ার হোসেন হাওলাদার। 

তিনি জানিয়েছেন, গ্রেফতার হওয়া পি কে হালদারের কথিত বান্ধবী অবন্তিকা বড়ালের রিমান্ডে আরও নতুন নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তবে রিমান্ডের মেয়াদ শেষ হলেই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। আরও ৬২জন সহযোগীর মাধ্যমেই পি কে হালদার অর্থ পাচার কার্যক্রম চালিয়েছে বলেও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার সম সাময়িক বিষয় নিয়ে দুদক সমন্বিত প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দুদক সচিব বলেন, পিকে হালদারের ইস্যুটা অনেক বড়। বিভিন্ন জনের মাধ্যমে তার বিভিন্ন দিকে সূত্র আছে। ইতোমধ্যে অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। মোটামুটি ৬২ জনের সঙ্গে তার লিংকের সূত্র পাওয়া গেছে। এসব তথ্য আমাদের তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন। অবন্তিকা বড়ালকে গ্রেফতারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, পিকে হালদারের সংশ্লিষ্টতায় একজন নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখন তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ হয়ে গেলে আমরা বিস্তারিত জানাতে পারবো।

এসময় বেগমপাড়ায় অর্থ পাচারের বিষয়ে দুদক সচিব বলেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কেনা বাংলাদেশি নাগরিকদের তালিকা চেয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী গত ১১ জানুয়ারি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের কাছে দুদক মহাপরিচালক (মানিলন্ডারিং) আ ন ম আল ফিরোজ স্বাক্ষরিত একটি চিঠিটি পাঠানো হয়েছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অপর নির্বাচন কমিশনার, বর্তমান সচিব, সদ্য সাবেক সচিব এবং নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণ ভাতার নামে সরকারি অর্থের ক্ষতিসাধনের অভিযোগেরও তদন্ত করা হচ্ছে জানিয়ে দুদক সচিব বলেন, দায়িত্বশীল জায়গা থেকে যদি কেউ অর্থ আত্মসাতের মতো কাজ করে এবং তা প্রমাণিত হয় তাহলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এসময় দুদক সচিব আরও জানান, ক্যাসিনো ব্যবসা, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকা-ে সম্পৃক্ত কাজী আনিছুর রহমান বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা ও অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে নিজ নামে ১২ কোটি ৮০ লাখ ৯২০ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মোঃ গুলশান আনোয়র প্রধানের দেয়া তদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ড. মু আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, তদন্তকালে আসামি কাজী আনিছুর রহমান এর নামে ১৮ কোটি ৮৯ লাখ ১ হাজার ৩৩৫ টাকার নিট সম্পদ পাওয়া যায়। 

যার মধ্যে বৈধ আয় ৩ কোটি ৯৩ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৯ টাকা। এই হিসেবে তার ১৪ কোটি ৯৫ লাখ ২৯ হাজার ৮৩৬ টাকার অবৈধ সম্পদ রয়েছে। এছাড়া তিনি দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে নিজ নামে ও তার প্রতিষ্ঠানের নামে ২৫ টি হিসাবে ২০১১ সাল থেকে মোট ১ শ ২৯ কোটি ৯১ লাখ ১৭ হাজার ২১৩ টাকা জমা করেছেন। যার মধ্যে শেয়ার ব্যবসাসহ অন্যান্য আয় হয়েছে মাত্র ৬ কোটি ৩৬ লাখ ৭১ হাজার ৩৬৫ টাকা। এই হিসাবে ১শ ২৩ কোটি ৫৪ হলাখ ৪৫ হাজার ৮৪৮টাকার সন্দেহজনক লেনদেন বা অপরাধলব্ধ আয়ের উৎস গোপন করে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। দুদক সচিব বলেন, শুধু তাই নয়, ক্যাসিনো ব্যবসা, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকা-ে সম্পৃক্ত কাজী আনিছুর রহমানের সহায়তায় তার স্ত্রী মোছা. সুমি রহমান অসৎ উদ্দেশ্যে নিজ নামে ১ কোটি ৩১ লাখ ১৬ হাজার ৫০০ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে। 

তাই তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তের জন্য উপপরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধানকে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তার তদন্তের ভিত্তিতে জানা গেছে, আসামি মোছাঃ সুমি রহমানের নামে ২ কোটি ৬৩ লাখ ৬২ হাজার ২১৮ টাকার স্থাবর অস্থাবর সম্পদ পাওয়া যায়। বর্ণিত সম্পদের বিপরীতে তার গ্রহণযোগ্য বা বৈধ আয় দেখা যায় মাত্র ২লাখ টাকা অর্থাৎ তিনি মোট ২ কোটি ৬১ লাখ ৬২ হাজার ২১৮ টাকার আয়ের উৎসের সাথে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন করেছেন। এক্ষেত্রে তার স্বামী কাজী আনিছুর রহমান অবৈধ অর্থ বিভিন্ন উপায়ে স্ত্রীর হিসাবে স্থানান্তরসহ স্ত্রীকে অবৈধ সম্পদ অর্জনে সহায়তা করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। তাই উভয়ের বিরুদ্ধেই প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন করা হয়েছে।




এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]