ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৯ মার্চ ২০২১ ২৪ ফাল্গুন ১৪২৭
ই-পেপার মঙ্গলবার ৯ মার্চ ২০২১

এলপিজির দাম নির্ধারণে গণশুনানি
সরকারি প্রতিষ্ঠানের এলপিজির দাম ৩০০ টাকা বাড়াতে চায় বিইআরসি
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দাম কমিয়ে ৮৬৬ টাকা করার সুপারিশ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২১, ৮:০৩ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 44

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলপিজি)’র দাম নির্ধারণে গণশুনানি শুরু করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বৃহস্পতিবার শুনানির প্রথম দিনে সরকারি কোম্পানিগুলো ৬০০ টাকা থেকে বেড়িয়ে ৭০০ টাকা করার প্রস্তাব করেছিল। সেখানে বিইআরসি’র মুল্যায়ন কমিটি তাদের সিলিন্ডারের দাম আরো ২০০ টাকা বাড়িয়ে ৯০২ টাকা  আর বেসরকারি কোম্পানিগুলোর কমিয়ে ১২৬৯ থেকে কমিয়ে ৮৬৬ টাকা করার সুপারিশ করে।

রাজধানীর বিয়াম অডিটোরিয়ামে আয়োজিত শুনানিতে বিইআরসির চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল, সদস্য মোহম্মদ আবু ফারুক, মকবুল ই ইলাহি চৌধুরী, মোহাম্মদ বজলুর রহমান, মো. কামরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। সরকারি কোম্পানির পক্ষে এলপি গ্যাস লিমিটেডের ফজলুর রহমান এবং বেসরকারি কোম্পানিগুলোর পক্ষে ৬ জনের একটি প্রতিনিধিদল দামের প্রস্তাব উপস্থাপন করে। বেসরকারি কোম্পানির মধ্যে ওমেরা, বসুন্ধরা, বেক্সিমকো, পেট্রোম্যাক্সের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

কমিশনের কারিগরি কমিটি সরকারি এলপি গ্যাস লিমিটেডের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে সাড়ে ১২ কেজির প্রতি বোতল (সিলিন্ডার) এলপিজি বিক্রিতে ৩৩৩ টাকা ২৪ পয়সার ক্রস সাবসিডি ফান্ড তৈরির সুপারিশ করে। অর্থাৎ কারিগরি কমিটির এই প্রস্তাব মেনে নিলে গ্রাহক সরকারি এলপিজি কিনলে প্রতি বোতলে এই টাকা অতিরিক্ত দিতে হবে, যা সাবসিডি তহবিল নামে একটি সরকারি তহবিলে জমা থাকবে। সেখান থেকে পরে সাবসিডি বা ভর্তুকি দেওয়া হবে। যদিও এর আগে কমিশনের করে দেওয়া বিদ্যুৎ উন্নয়ন তহবিল এবং জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিল নামে দুটি তহবিলে জমা হওয়া টাকা এভাবে গ্রাহকের কাছ থেকে নিয়ে জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ বিভাগকে দেওয়া হয়েছে। সে  সময় কমিশন বলেছিল, এতে সরকারি খাতের আর্থিক অনটন দূর হবে। আর্থিক সংকট না থাকলে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। এতে দাম কমে আসবে। কিন্তু তহবিল গঠনের এত বছর পরেও সেই আশা বাস্তবায়ন হয়নি।

মুল্যায়ন কমিটির পক্ষে কমিশনের উপ পরিচালক কামরুজ্জামান সুপারিশগুলো তুলে ধরেন। এসময় ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা শামসুল আলম বলেন, এইভাবে সরকারি কোম্পানির দাম বাড়িয়ে ফান্ড করা যায় না। এটি অযৌক্তিক। কোম্পানি বাড়তি এই দামে সিলিন্ডার বিক্রি করতে পারবে কিনে সেটি আগে বিবেচনায় নিতে হবে। তিনি বলেন, বেসরকারি কোম্পানিগুলো হাইকোর্টের আদেশের পর দাম বাড়িয়েছে। সেই দামের টাকা আদায় করতে হবে।

পাশাপাশি যেসব লাইসেন্সি কোম্পানি এই দাম বৃদ্ধির সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

শুনানিতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ভোক্তার অধিকার বিবেচনা করে কমিশন দাম নির্ধারন করবে বলে আশা করি। রাষ্ট্রীয়খাতের উন্নয়নের বিষয়টি আগে বিবেচনা করতে হবে। সরকারি কোম্পানির দাম বাড়ানোর সুপারিশ না করে উলটো কমানো দরকার। 

গণ সংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা জোনায়েদ সাকি বলেন, সকল পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করবেন বলে আশা করছি। বিভিন্ন ফান্ডের ক্ষেত্রে অন্য ফান্ডদের ব্যবহারগুলো পরিষ্কার করা দরকার। টেকনিক্যাল কমিটি কেনো আগেই ফান্ড করতে আবার কেনো উঠে আসলো। আবার একটি ফান্ডের প্রয়োজন নেই বলে আমি মনে করি।

এসময় অটোগ্যাস মালিক সমিতির মহাসচিব (প্রস্তাবিত) হাসিন পারভেজ, মুঠোফোন ওনার্স এসোসিয়েশনের মহিউদ্দিন আহমেদ ছাড়াও ভোক্তাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।

শুনানিশেষে কমিশনের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল বলেন, আগামী সাতদিনের মধ্যে লিখিত মতামত দেয়া যাবে। এরপর আবার ছোট পরিসরে বসে দামের বিষয়ে  মুল্যায়ন করে যত দ্রুত সম্ভব চুড়ান্ত দামের আদেশ দেবে কমিশন। 
বেসরকারি খাতের হিসাবে, দেশে বর্তমানে বছরে ১০ লাখ টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে। গ্রাহক প্রায় ৩৮ লাখ। 

বাজারের ৯৮ শতাংশ বেসরকারি খাতের দখলে। বর্তমানে ২৯টি কোম্পানি এলপি গ্যাসের ব্যবসা করে। বাজারে এখন ১২ কেজির ১ সিলিন্ডার এলপিজি বিক্রি হয় ৯৫০ থেকে ১ হাজার ৫০ টাকায়। এ দর বেশ হেরফের হয়। ছোট একটি পরিবারে মাসে অন্তত দেড় হাজার টাকার গ্যাস লাগে। যেসব বাসায় সরকারি সংস্থার পাইপলাইনের গ্যাস সংযোগ রয়েছে, তাদের দুই চুলার মাসিক ব্যয় ৯৭৫ টাকা। যাদের মিটার আছে, তাদের খরচ হয় ৬০০ টাকার আশপাশে। 




এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]