ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ১৯ জানুয়ারি ২০২১ ৫ মাঘ ১৪২৭
ই-পেপার মঙ্গলবার ১৯ জানুয়ারি ২০২১

আত্মশুদ্ধি
আল্লাহর নৈকট্য লাভ
আবু তালহা রায়হান
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২১, ১০:৪৭ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 61

 আত্মশুদ্ধি একটি মহৎ গুণ। আদর্শ স্বভাব। বিশুদ্ধতার পরিচয়। আত্মশুদ্ধি মানুষকে বাঁচতে শেখায়। প্রাণে সজীবতা ফিরিয়ে আনে। হকের পথে মানুষকে জাগিয়ে তোলে। সঠিক পথে চলতে শেখায়। অন্তরে খোদাভীতি তৈরি করে। দাম্ভিকতা থেকে মুক্তি দান করে। আত্মশুদ্ধি মানে আত্মাকে পরিচ্ছন্ন রাখা। নিজের নাফসকে পবিত্র করে তোলা। বিশুদ্ধ আত্মার অধিকারী হওয়া। মানুষের বাহ্যিক পাপসমূহের মতো আত্মিকভাবেও অগণিত পাপ-পঙ্কিলতা আছে। আর এসব পাপ-পঙ্কিলতা থেকে পরিত্রাণ থাকার অন্যতম পন্থা হলো আত্মশুদ্ধি। আল্লাহ সুবাহানাহু তায়ালা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয় সেই সফলকাম, যে আত্মাকে পরিচ্ছন্ন করেছে।’ (সুরা : শামস-৯)
মানুষের সুপথ কিংবা বিপথগামী হওয়ার প্রধান প্রদর্শক হলো নিজের নফস তথা আত্মা। যে ব্যক্তি নফসের চাহিদামতো তার জীবন পরিচালনা করবে সে কখনই সুখী ও সফল হতে পারবে না। আর যে ব্যক্তি অন্তরে খোদাভীতি লালন করে পবিত্র কোরআন-সুন্নাহর আলোকে নিজের জীবন গঠন করবে, তার জন্য ইহকাল এবং পরকাল উভয় জগতেই রয়েছে শান্তি ও সফলতা। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করতে চান, তার অন্তর ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করে দেন। আর যাকে বিপথগামী করতে চান, তার অন্তর অত্যধিক সঙ্কীর্ণ করে দেন, তার কাছে ইসলামের অনুসরণ আকাশে আরোহণের মতোই দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে।’ (সুরা : আনআম-১২৫)
যুগে যুগে সব নবী-রাসুলগণ নিষ্পাপ হওয়ার পরও তাঁরা নিজেদের সম্পর্কে আত্মশুদ্ধিমূলক আলোচনা-পর্যালোচনা করতেন। মহানবী হজরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও সাহাবাদেরকে নিয়ে আত্মশুদ্ধির পর্যালোচনা করেছেন। বাহ্যিকভাবে ব্যভিচার, সুদ-ঘুষ, মদ্যপান, চুরি-ডাকাতি, রাহাজানি, দুর্নীতি, ধর্ষণ, গুম, খুন, গিবত ইত্যাদি যেমন পাপ কাজ তেমনই অন্তরে সেগুলোর চিন্তা-পরিকল্পনা করাও পাপ। ইমানদারকে যেভাবে শরীয়তের বিধান পালন করতে হয় তেমনই চিন্তাজগতের পাপ থেকেও দূরে থাকতে হয়। এর জন্য ইখলাস, তাকওয়া, সবর, শোকর ইত্যাদির বিধান দেওয়া হয়েছে। আর এসব বিধানের চর্চা ও সে অনুযায়ী আমল করার নামই হলো আত্মশুদ্ধি। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দুনিয়ায় প্রেরণের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো তাজকিয়ায়ে নফস বা আত্মশুদ্ধি। মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘তিনি (নবীজি সা.) তাদের আল্লাহর কিতাব পাঠ করে শুনাবেন আর তাদের কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেবেন এবং তাদেরকে তাজকিয়া তথা আত্মশুদ্ধি করবেন।’ (সুরা : বাকারা- ১২৯)
হাদিস শরিফে এসেছে, ‘জেনে রেখ, মানুষের দেহের মধ্যে একখÐ মাংসপিÐ আছে, যখন তা সংশোধিত হয় তখন গোটা দেহ সংশোধিত হয়ে যায়। আর যখন তা দূষিত হয় তখন পুরো দেহ দূষিত হয়ে যায়। মনে রেখ, সেটাই কলব বা অন্তর।’ (বুখারি ও মুসলিম)
মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের শরীর বা আকৃতির দিকে তাকান না, বরং তিনি তোমাদের অন্তরের প্রতিই লক্ষ্য করেন। এরপর নবীজি উপস্থিত সাহাবাদেরকে অন্তর দেখানোর জন্য আঙুল দিয়ে তাঁর বুক মুবারকের দিকে ইশারা করেন।’ (মুসলিম শরিফ)
উল্লেখিত কোরআনের আয়াত ও হাদিস থেকে বোঝা যায়, মানুষের অন্তরের পরিচ্ছন্নতা আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম পথ। অন্তরের অপরিচ্ছন্নতা মানুষকে বিপথগামী করে। আল্লাহর নৈকট্যতা থেকে দূরে সরিয়ে কুফরি পর্যন্ত নিয়ে যায়। আর তাই আমাদের সবার উচিত বাহ্যিক গুনাহসমূহ থেকে বেঁচে থাকার পাশাপাশি অন্তরে এসবের চিন্তা লালন করা থেকেও বিরত থাকা। নিজেকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করা। নিজেই নিজের আত্মশুদ্ধি করা। পর্যালোচনা করা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর হুকুম আহকাম মেনে সঠিক পথে চলার তওফিক দান করুক। আমাদেরকে হেদায়াত নসিব করুক।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]