ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ১৯ জানুয়ারি ২০২১ ৫ মাঘ ১৪২৭
ই-পেপার মঙ্গলবার ১৯ জানুয়ারি ২০২১

করোনায় সংসার যেন লকডাউন
মাঈন উদ্দিন পাটোয়ারী ফেনী
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২১, ১০:৫৬ পিএম আপডেট: ১৪.০১.২০২১ ১১:১১ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 11

করোনা যেন সজীবের সংসারকে লকডাউন করে দিয়েছে। সংসার যেন অচল হয়ে পড়েছে। সজীব দেবনাথ। বয়স ২৩ বছর। ফেনী সরকারি কলেজের বিএসএস ফাইনাল পরীক্ষার্থী। ফেনী
 
শহরের উত্তর সহদেবপুর হরেন্দ্র ভ‚ঞা বাড়ির শঙ্কর দেবনাথের ছেলে সজীব। মা-বাবাকে নিয়ে সংসার চালাতে সজীব পড়াশোনার পাশাপাশি শহরের ট্রাঙ্ক রোডে একটি প্রিন্টিং প্রেসে গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে তিন বছর আগে চাকরি নেন। ১০ হাজার টাকা বেতনে দিনের বেলায় ওই প্রেসে চাকরি করে রাতে বাসায় ফিরে পড়াশোনায় মগ্ন থাকেন। এভাবে মোটামুটি সজীবের সংসার ভালোই চলছিল। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় করোনার প্রাদুর্ভাব। মহামারি আকারে করোনা ছড়িয়ে পড়লে সরকার সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য লকডাউন ঘোষণা করে। এতে সরকারি-বেসরকারিসহ সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। একইভাবে সজীবের প্রিন্টিং প্রেসটিও বন্ধ থাকায় দায়িত্ব পালন না করার অজুহাতে তিন মাসের বেতন-ভাতা দেয়নি মালিকপক্ষ। ফলে পরিবারের উপার্জন সক্ষম ব্যক্তি সজীবের সংসারে নেমে আসে চরম হতাশা। এমন পরিস্থিতিতে অতি দুঃখ-কষ্টে সংসার পরিচালনা করলেও সরকার ও ব্যক্তি পর্যায়ের কেউ কোনো ধরনের ত্রাণসামগ্রী দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ায়নি। সজীবও লোকলজ্জার ভয়ে কারও কাছে ত্রাণসামগ্রীর জন্য ধরনা দেননি।
পরবর্তী সময়ে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে ও সরকার লকডাউন তুলে নেওয়ায় চাকরি ছেড়ে দিয়ে নিজ উদ্যোগে ব্যবসা করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন সজীব। মা-বাবার সঙ্গে আলাপ করে ব্যবসা করার বিষয়ে চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। কিন্তু ব্যবসায় বিনিয়োগের টাকা জোগাড় করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। এক পর্যায়ে সাহস ও সততাকে পুঁজি করে একটি এনজিও থেকে ৪ লাখ টাকা লোন নিয়ে ব্যবসায় আত্মনিয়োগ করেন। শহরের ট্রাঙ্ক রোডের এইচআরকে সিটির নিচতলায় একটি দোকান ভাড়া নিয়ে সজীব গ্রাফিক্স ও টেলিকম নামে প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু করে। গত বছরের ডিসেম্বরের শুরু থেকে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা করলেও সীমিত আয়ে কর্মচারীর বেতন ও দোকানের ভাড়া পরিশোধ, সংসার পরিচালনা এবং লোনের মাসিক কিস্তি পরিশোধ করতে হচ্ছে। এভাবে করোনা সঙ্কট উত্তরণ ও সংসার পরিচালনায় সজীব দেবনাথকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সজীব দেবনাথ সময়ের আলোকে জানান, করোনাকালে সঙ্কটে পড়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়ে যায়। আমি যদি এ পরিস্থিতির স্বীকার না হতাম তা হলে এ অবস্থা উপলব্ধি করা সম্ভব হতো না। সঙ্কট উত্তরণে সবার সহযোগিতা কামনা করি।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]