ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ১৮ জানুয়ারি ২০২১ ৪ মাঘ ১৪২৭
ই-পেপার সোমবার ১৮ জানুয়ারি ২০২১

ঘুড়ি উৎসবে মেতেছিল ঢাকাবাসী
ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ধরে  রাখতে হবে : তথ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২১, ১১:০৩ পিএম আপডেট: ১৪.০১.২০২১ ১১:২৪ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 20

করোনাভাইরাসের মধ্যেও ঢাকাবাসীর আনন্দ উৎসব থেমে নেই। পৌষসংক্রান্তিতে পুরান ঢাকা বর্ণিল উৎসবে মেতেছিল বৃহস্পতিবার। আশপাশের ছাদগুলোয় সবাই ঘুড়ি
 
ওড়ানো নিয়ে ব্যস্ত ছিল। মুক্ত আকাশে লাল, নীল, হলুদ, সবুজ রঙিন সব ঘুড়ির
ওড়াউড়ি। সন্ধ্যার পর আতশবাজির আলোয় আকাশ ভরে ওঠে। আগুন মুখে নিয়ে খেলা চলে। আর ছিল আকাশে রঙ-বেরঙের ফানুস। এভাবেই যুগের পর যুগ ধরে ঢাকায় উদযাপিত হচ্ছে ঘুড়ি উড়ানোর এই উৎসব। সেই সাকরাইন উৎসবে এবার যুক্ত হয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।
এবারই প্রথম এই সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে পৌষের শেষ দিন অর্থাৎ ১৪ জানুয়ারি ঢাকার আকাশে হাজার হাজার ঘুড়ি ওড়ানো হয়েছে। এই উৎসব উপলক্ষে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কাউন্সিলরদের কাছে ১০০ করে মোট ১০ হাজার ঘুড়ি সরবরাহ করা হয়। ‘এসো ওড়াই ঘুড়ি, ঐতিহ্য লালন করি’ সেøাগানে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই উৎসব একযোগে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ডে আয়োজন করা হয়। দুপুর ২টা থেকে শুরু হয়ে উৎসব চলে রাত ৮টা পর্যন্ত।
দুপুরে রাজধানীর গেÐারিয়ার ধূপখোলা মাঠে ঘুড়ি উড়িয়ে সাকরাইন উৎসবের উদ্বোধন করেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। ঘুড়ি উৎসবকে দেশীয় সংস্কৃতির অংশ হিসেবে বর্ণনা করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের ঐতিহ্য রক্ষায় আবহমান বাংলার সংস্কৃতি ধরে রাখতে হবে। আকাশ সংস্কৃতির হিংস্র থাবায় অনেক সংস্কৃতি এখন হুমকির মুখে। আগে বিয়ে-গায়ে হলুদসহ নানা অনুষ্ঠানে দেশের গানই গাওয়া হতো, আমাদের ছেলেমেয়েরা আবহমান বাংলার সাজসজ্জা নিয়েই হাজির হতো। কিন্তু এখন তা বদলে যাচ্ছে। আমাদের সংস্কৃতির ওপর এ আঘাত অত্যন্ত বেদনাদায়ক। নিজেদের সংস্কৃতিকে আমাদের ধরে রাখতে হবে।
তিনি বলেন, পুরান ঢাকার ঐতিহ্য তো বটেই, এটি পুরো বাংলাদেশের সংস্কৃতির অংশ। আমরা প্রায় সবাই ছোটবেলায় ঘুড়ি উড়িয়েছি। কিন্তু এখন আমাদের কিশোর-তরুণরা ঘুড়ি উড়াতে পারে না জায়গার অভাবে। এ ঘুড়ি উড়ানোর যে কী আনন্দ-উত্তেজনা, যারা ঘুড়ি ওড়াননি, তারা বুঝতে পারবেন না।
করোনা মহামারি আক্রান্ত পৃথিবীতে যে ২২টি দেশে জিডিপির ধনাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ তৃতীয় এবং এশিয়ায় সবার ওপর বলে জানান তথ্যমন্ত্রী। এর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেশের মানুষের সঙ্কট মোকাবিলার সক্ষমতা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, সে কারণেই কোনো কাজ থেমে নেই, সবকিছু চলছে। সংস্কৃতি সবসময় সঙ্কট মোকাবিলায় শক্তি হিসেবে কাজ করে।
ঢাকা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি শামীম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সংসদ সদস্য বেনজীর আহমেদ, আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফী ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর, সাংবাদিক নেতা আব্দুল জলিল ভ‚ঁইয়া, একাত্তর টিভির বার্তাপ্রধান শাকিল আহমেদ, সাংবাদিক লাবণ্য ভ‚ঁইয়া, ইহিতা জলিল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার দিনভর দেখা যায় ‘বাকাট্টা’ অর্থাৎ ঘুড়ি কাটাকাটির প্রতিযোগিতার দৃশ্য। একজন অন্যজনের ঘুড়ির সুতা কাটার কসরত করে। কে কার ঘুড়ি কাটতে পেরেছে সে প্রতিযোগিতা, ঘুড়ি কেটে ফেলার আনন্দ আর চিৎকার। ‘বাকাট্টা’, ‘বাকাট্টা’ বলে চিৎকার। দিনভর ঘুড়ি ওড়ানোর পাশাপাশি সন্ধ্যায় বর্ণিল আতশবাজি ও রঙ-বেরঙের ফানুসে ছেয়ে যাবে বুড়িগঙ্গা তীরবর্তী ঢাকার আকাশ।
পৌষসংক্রান্তির এই সার্বজনীন ঢাকাইয়া উৎসব হচ্ছে সাকরাইন। এক কথায় বলা যায়, সাকরাইন হচ্ছে ঘুড়ি ওড়ানোর উৎসব। সংস্কৃত শব্দ সংক্রান্তি যা ঢাকাইয়া অপভ্রংশে সাকরাইন শব্দে রূপ নিয়েছে। ঢাকার শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, গোয়ালনগর, ল²ীবাজার, সূত্রাপুর, মিলব্যারাক, নারিন্দা, নবাবপুর, ওয়ারী, গেÐারিয়া, পোস্তগোলা, হাজারীবাগ, লালবাগ ও এর আশপাশ এলাকাগুলোয় বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যে ছোট-বড় সবাই মেতে ওঠে এ উৎসবে। এই উৎসবকে মাথায় রেখে টানা এক সপ্তাহ পুরান ঢাকার রাস্তাগুলোর অধিকাংশ গলিতে আর খোলা ছাদে হয় সুতা মাঞ্জা দেওয়ার ধুম। রোদে সুতা শুকানোর কাজও চলে পুরোদমে। প্রাচীন উৎসবের মধ্যে পুরান ঢাকার সাকরাইন অন্যতম। এটা গোটা দেশে উদযাপিত না হলেও সাকরাইনকে ঐক্য এবং বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। শুধু ঢাকাতেই নয়; দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয় পৌষসংক্রান্তির এই উৎসব উদযাপনের রীতি চালু রয়েছে। নেপালে একে বলে মাঘি, থাইল্যান্ডে সংক্রান, লাওসে পি মা লাও, মিয়ানমারে থিং ইয়ান, কম্বোডিয়ায় মহাসংক্রান ও ভারতে মকড়সংক্রান্তি।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]