ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ১৮ জানুয়ারি ২০২১ ৪ মাঘ ১৪২৭
ই-পেপার সোমবার ১৮ জানুয়ারি ২০২১

চট্টগ্রাম কিলিং
বিদ্রোহীদের বহিষ্কারে কেন্দ্রে চিঠি
জসীম চৌধুরী সবুজ চট্টগ্রাম
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২১, ১১:০৩ পিএম আপডেট: ১৪.০১.২০২১ ১১:২৩ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 23

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে নগর আওয়ামী লীগের বিভাজন ততই স্পষ্ট হচ্ছে। বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীদের কারণে এই বিভাজনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও অবনতি ঘটছে। এ অবস্থায় সব বিদ্রোহী প্রার্থীকে দল থেকে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রে চিঠি পাঠিয়েছে নগর আওয়ামী লীগ। মোগলটুলীতে বিদ্রোহী প্রার্থীর গুলিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীর এক সমর্থক জনপ্রিয় মহল্লা সর্দার আজগর আলী বাবুল নিহত হওয়ার পর নগর নেতৃত্বের বিভাজন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। সমালোচনা-পাল্টা সমালোচনায়ও নেতাকর্মীরা সরব হয়েছেন। নিহত বাবুল ছিলেন নগর আওয়ামী লীগ সদস্য ও মোগলটুলী ওয়ার্ডের সভাপতি। অথচ তার জানাজায় অংশ নেননি নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সদ্য বিদায়ি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। স্থানীয় সংসদ সদস্য শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল জানাজায় অংশ নিয়ে বলেছেন, খুনি যেই হোক তাকে বিচারের আওতায় আনা হবে। কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
পুলিশ পারিপাশির্^ক ঘটনা বিশ্লেষণ করে এই হত্যাকাÐকে পরিকল্পিত বলে ধারণা করছে। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ খুঁজতে গিয়ে দেখা গেছে মোগলটুলী এলাকার সবগুলো সিসি ক্যামেরা ভাঙা। নিহত বাবুলের পরিবার দাবি করেছে বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুল কাদের প্রকাশ মাছ কাদেরের উপস্থিতিতে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। কিলিং মিশনে ছিল ফেনী গ্রæপ। এই কিলিং মিশনে ছিল হেলাল ও আসাদের নেতৃত্বে ফেনী থেকে আসা একটি সন্ত্রাসী গ্রæপ। হেলাল ফেনী শহরের চিহ্নিত সন্ত্রাসী। সে ফেনীর এক প্রভাবশালী ব্যক্তির ক্যাডার। চট্টগ্রামে মোগলটুলীতে হেলাল তার বোনের বাসায় আসা-যাওয়া করে এবং মাছ কাদের  
গ্রæপের হয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাÐে অংশ নেয়। বাবুল নিহত হওয়ার পর তার মৃত্যৃ সংবাদ ও জানাজার সূচি মাইকে প্রচার করে এলাকাবাসী। প্রচারে বলা হয়, ‘সন্ত্রাসী মাছ কাদের গুলি করে আজগর আলী বাবুলকে মেরে ফেলেছে।’
এলাকাবাসী জানান, বাবুল তার ফেসবুক পেজে বেশ কয়েকটি পোস্ট দিয়েছিলেন। তাতে মাছ কাদের তাকে হুমকি দিচ্ছে বলে উল্লেখ করে বলেন, ‘একবার বলছি আমাকে ঘুম থেকে জাগাইও না। আমি জাগলে কি হবে তা তোমরা ভালোভাবে জান। এখনও বলছি ভালো যদি চাও নেত্রীর কথা শুনে নেমে পড়। কে এই মাছ কাদেরÑ তার অতীত জানুন। সে কোন কলেজে পড়েছে তা জানতে চান।’ এই পোস্টের পরেই বাবুলকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে পরিবারের দাবিকে আমলে নিয়ে তদন্ত এবং আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানান পুলিশ সূত্র।
বাবুল মহল্লা সর্দার হিসেবে এলাকায় জনপ্রিয় ছিলেন। ২০১৫ সালে তিনি মাছ কাদেরের পক্ষে থেকে তাকে জিতিয়েছিলেন। এবার তিনি কাদেরের পক্ষ ত্যাগ করে স্বজ্জন হিসেবে পরিচিত নজরুল ইসলাম বাহাদুরের পক্ষ নেন। এতে সন্ত্রাস করে কেন্দ্র দখলে নিয়ে কাদের জেতার পরিকল্পনা ভেস্তে যাবে মনে করে বাবুলকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে পরিবার জানিয়েছে।
মোগলটুলীর একটি হত্যাকাÐ চসিক নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণার ধরন পাল্টে দিয়েছে। উৎসবের আমেজ যেন ফিকে হয়ে গেছে। প্রার্থীরা গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রাখলেও সবার মাঝে ভর করেছে অঘটনের শঙ্কা। বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীদের রুখতে ব্যর্থ নগর আওয়ামী লীগ বুধবার রাতে জরুরি বৈঠকে বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যারা প্রার্থী হয়েছেন তাদের বহিষ্কারের। বৃহস্পতিবার দলের হাইকমান্ডের কাছে তাদের এই সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী বহদ্দারহাট, বলিরহাট, ঘাসিয়াপাড়া, খাজা রোড ও নাসিরাবাদ এলাকায় গণসংযোগ করেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীতে বসবাসরত আমরা সবাই একটি পরিবার। চট্টগ্রামের সন্তান হিসেবে আমি এই পরিবারের সন্তান। সিটি করপোরেশন নগরবাসীর সেবামূলক কাজগুলো করে থাকে। আমি মানুষের সেবায় নিজেকে উজাড় করে দিতে চাই। নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে তাকে নির্বাচিত করে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার আহŸান জানান।
আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, মেয়র হলে নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে তুলব। প্রতিটি ওয়ার্ডে মহিলাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করব। বৃহস্পতিবার নগরের আগ্রাবাদ ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনি পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী টানেল ও মেট্রোরেল নিয়ে অনেকে হাসাহাসি করেছিল। পদ্মা সেতু হয়েছে, কর্ণফুলী টানেলের ৬১ ভাগ কাজ শেষ ও মেট্রোরেলের কাজও এগিয়ে যাচ্ছে। তাদের মুখে তালা লাগিয়ে দিয়েছে শেখ হাসিনা। জননেত্রী কথায় নয়, কাজে বিশ^াসী।
‘শেখ হাসিনা যখন ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণা করেছিল, অনেকে হেসেছিল এই বলেÑ কীসের ডিজিটাল বাংলাদেশ? এটি কখনও সম্ভব নয়। কিন্তু সেই ডিজিটাল বাংলাদেশে এখন দাঁড়িয়ে। সমালোচনাকারীরা এখন কী বলবেন?’ যোগ করেন রেজাউল। তিনি বলেন, আমি ১৯৬৬ সাল থেকে রাজনীতি করি। পূর্ব পাকিস্তানে ছাত্রলীগ করেছি। ১৯৬৭ সাল থেকে ছাত্রলীগের পদ-পদবি নিয়ে রাজনীতি করছি। ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। নগরবাসীকে কথা দিচ্ছি, মেয়র হলে হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়াব না।
রেজাউল বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সন্ত্রাস-মাদক নির্মূল করে ছাড়ব। প্রত্যেক ওয়ার্ডে মহিলাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলব। তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করব। শিশুদের জন্য প্রত্যেকটা খোলা জায়গাকে মাঠে রূপান্তর করা হবে উল্লেখ করে রেজাউল করিম বলেন, শিশুরা মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে যাচ্ছে। খেলাধুলা করার কোনো জায়গা নেই। প্রত্যেক ওয়ার্ডে খেলার মাঠ করা যদিও সম্ভব হবে না, তবে আমি কথা দিচ্ছি যেখানে খোলা জায়গা সেখানে মাঠ সৃষ্টি করব। মাস্তানকে ভয় পাই না, সন্ত্রাস-মাদক নির্মূল করবই।
নিজের জীবনের ৫২ বছর রাজনীতি করেছেন উল্লেখ করে রেজাউল করিম বলেন, ৫২ বছর ধরে রাজনীতি করছি। কিশোর গ্যাংয়ের কথা বলা হচ্ছে। কিশোরদের দোষারোপ করে লাভ নেই। এদেরকে পরিবেশই এ রকম হতে বাধ্য করেছে। যদি সাংস্কৃতিক চর্চা থাকত, খেলাধুলা করার জন্য মাঠ থাকত-কিশোররা এসবে ব্যস্ত থাকত। কিন্তু এখন এসব না থাকায় মোবাইল টিপাটিপি আর আড্ডার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে তাদের জীবন। এ জন্য কিশোর অপরাধে তারা জড়াচ্ছে। তিনি বলেন, আমি এসব কিশোর সন্ত্রাস নির্মূল করবই। কারণ খারাপ মানুষের সংখ্যা ৫ শতাংশ আর ভালো মানুষের সংখ্যা ৯৫ শতাংশ। এই ৯৫ শতাংশ মানুষকে বলবÑ যেখানে সন্ত্রাস দেখবেন প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। কারণ আমি আপনাদের পাশে থাকব। মাস্তানদের আমি ভয় পাই না।
সৈয়দ মো. জাকা‌রিয়ার সভাপ‌তি‌ত্বে পথসভায় বক্তব‌্য দেন এটিএম পেয়ারুল ইসলাম, সৈয়দ মাহমুদুল হক, ‌সিরাজুল ইসলাম, আবদুস সামাদ, জাহাঙ্গীর আলম, আবদুর রহমান মিয়া, আবদুল বা‌রেক, এমএ হান্নান কাজল, নাজমুল হক ডিউক, ওসমান গণি আলমগীর, র‌বিউল হাসান সুমন, কাজী মাহমুদুল হাসান র‌নি, আ‌রিফুল ইসলাম, আবদুল্লা জুবা‌য়ের হিমু, বেলাল সাত্তার, সাইফু‌দ্দিন প্রমুখ।
বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন নগরীর আগ্রাবাদ, বাদামতলী, মিস্ত্রীপাড়া, চৌমুহনী ও দেওয়ানহাট এলাকায় গণসংযোগ করেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রামে কোনো পরিকল্পিত উন্নয়ন হয়নি। নগরীর পাড়া-মহল্লার সব রাস্তাঘাট ভাঙাচোরা। বর্ষায় হাঁটু পানির নিচে তলিয়ে যায়। উন্নয়নের নামে অনেকের পকেট ভারী হয়েছে। কিন্তু জনগণের কল্যাণ কিছু হয়নি। আমি নির্বাচিত হলে পাঁচ বছরের প্রতিটি দিন নগরবাসীর কল্যাণে কাজে লাগাব।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]