ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ১৮ জানুয়ারি ২০২১ ৪ মাঘ ১৪২৭
ই-পেপার সোমবার ১৮ জানুয়ারি ২০২১

আপিল করবেন আয়েশা
নারী কাজী নিয়ে হাইকোর্টের রায়
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২১, ১১:০৩ পিএম আপডেট: ১৪.০১.২০২১ ১১:২২ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 34

নারীরা নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) হতে পারবে নাÑ হাইকোর্টের এই রায়ে সংক্ষুব্ধ বলে জানিয়েছেন রিট আবেদনকারী আয়েশা সিদ্দিকা। তিনি বলেন, নারীর বিরুদ্ধে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে নারী নিকাহ রেজিস্ট্রার হতে পারবে না বলে আইন মন্ত্রণালয় আমাদের বাতিল করেছে। এরপর হাইকোর্টও সেটি বহাল রেখে রায় দিয়েছেন। এতে আমি সংক্ষুব্ধ। নারীদের জন্য আমি দেশের সর্বোচ্চ আদালতে লড়াই করে যাব। আশা করি, সর্বোচ্চ আদালত বিষয়টি বিবেচনা করবেন। আয়েশা সিদ্দিকা গণমাধ্যমকে বলেন, নারীদের মধ্যে যারা আলিম, ফাজিল পাস করে ঘরে বসে থাকেন, তাদের জন্য আমার এই লড়াই চলবে। তার আইনজীবী ফওজিয়া করিম ফিরোজ জানান, চ‚ড়ান্ত আপিল করার জন্য সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ জন্য সার্টিফাইয়েড কপিও সংগ্রহ করা হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে আপিল করা হবে।
সামাজিক ও বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে নারীরা নিকাহ রেজিস্ট্রার হতে পারবে না মর্মে আইন মন্ত্রণালয়ের সিন্ধান্ত বহাল রেখে গত বছর রায় দেয় হাইকোর্ট। ৯ জানুয়ারি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর চলছে 
 আলোচনা-সমালোচনা।
বিষয়টি নিয়ে রিটকারী আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, যেসব কারণ উল্লেখ করে হাইকোর্ট রায় দিয়েছে, আমি মনে করি না এসব কারণ কোনো নারীর জন্য নিকাহ রেজিস্ট্রার হতে বাধা হতে পারে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নারী নিকাহ রেজিস্ট্রার হতে পারবে না, এমনটি উল্লেখ ছিল না। এ ছাড়া নিকাহ রেজিস্ট্রারের কাজ হলো নিকাহ রেজিস্ট্রি করা। কিন্তু বিয়ে পড়ানোর কাজ তো সংশ্লিষ্ট এলাকার মসজিদের ইমাম বা আলেমদের। একজন নিকাহ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব তো বিয়ে পড়ানো নয়। আমি চাকরি নিতে চাচ্ছি রেজিস্ট্রি করার জন্য। নারীদের ক্ষেত্রে যেসব যুক্তি দেখানো হয়েছে, আমার মনে হয় না এতে কোনো বাধা হতে পারে।
মাদ্রাসা থেকে ফাজিল পাস করেছেন জানিয়ে আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, ২০১২ সালে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে আবেদন করেন। সেই সার্কুলারে নারীদের জন্য কোনো বিধিনিষেধ ছিল না। সেটা দেখেই তিনি আবেদন করেন। আয়েশা সিদ্দিকা জানান, ২০১৪ সালের ১৬ জুন আইন মন্ত্রণালয় ‘বাংলাদেশের বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নারীদের দ্বারা নিকাহ রেজিস্টারের দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়’Ñ এমন মত দিয়ে একটি চিঠি পাঠিয়ে নিয়োগ কমিটির প্রস্তাবিত প্যানেল বাতিল করে। মনঃক্ষুণœ হলেও তিনি মেনেই নিয়েছিলেন বিষয়টি। কিন্তু এর মধ্যে আয়েশা হঠাৎ জানতে পারলেন, প্যানেলের প্রস্তাবিত তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যিনি একজন পুরুষ এবং সম্পর্কে তার আত্মীয়।
আয়েশা বলেন, এই ঘটনায় আমি মনে খুবই আঘাত পাই। আমার খুব অপমানও লাগে যখন জানতে পারি যে পরীক্ষায় প্রথম হয়েও আমি নিয়োগ পাব না, কারণ আমি নারী। বিষয়টি নিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়লে স্বামীর পরামর্শে আইনি প্রতিকার চাইতে ঢাকায় আসেন আয়েশা সিদ্দিকা। এরপরই আইন মন্ত্রণালয়ের ওই চিঠিকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন তিনি।
আয়েশা জানিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ রায় এখন প্রকাশিত হলেও ২০২০ সালে আদালতের রায়ের পরই তিনি আপিল করার সিদ্ধান্ত নেন। এদিকে মুসলিম বিয়ের ক্ষেত্রে নারীরা নিকাহ রেজিস্ট্রার বা কাজী হতে পারবে না বলে হাইকোর্টের রায় সংবিধান পরিপন্থি বলে দাবি করেছে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম। সংগঠনটি এই রায়কে নারীর অগ্রযাত্রার পথে বাধাদানকারী সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করেছে। বৃহস্পতিবার সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সভাপতি রওশন আরা রুশো এবং সাধারণ সম্পাদক শম্পা বসু এ বিষয়ে এক যৌথ বিবৃতি দেন।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]