ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ১৮ জানুয়ারি ২০২১ ৪ মাঘ ১৪২৭
ই-পেপার সোমবার ১৮ জানুয়ারি ২০২১

আবারও অভিশংসিত ট্রাম্প
কেউ আইনের ঊর্ধ্বে  নয় : ন্যান্সি পেলোসি
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২১, ১১:০৩ পিএম আপডেট: ১৪.০১.২০২১ ১১:২০ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 17

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটল হিলে হামলার পর প্রেসিডেন্ট পদ থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মেয়াদের আগেই অপসারণ করতে আরেক ধাপ এগিয়ে গেলেন যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোরে) কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভে (প্রতিনিধি পরিষদে) ২৩২-১৯৭ ভোটে ট্রাম্পকে অভিশংসনের প্রস্তাব পাস হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো প্রেসিডেন্ট দুবার অভিশংসিত হলেন। বিবিসি। সিএনএন।
প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়া এই প্রস্তাব নিয়ে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে ট্রায়াল হবে। ১০০ সদস্যের সিনেটে এখন ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের সংখ্যা সমান সমান। সেখানে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য সম্মতি দিলে তবেই ট্রাম্প মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়তে বাধ্য  
হবেন। মাত্র এক সপ্তাহ ক্ষমতায় আছেন ট্রাম্প। আগামী ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন জো বাইডেন।
২০ জানুয়ারির আগেই অভিশংসন নিয়ে সিনেটের সিদ্ধান্ত জানা যাবে না। তবে সিনেটে ট্রায়ালে দোষী সাব্যস্ত হলে ভবিষ্যতে আর কখনও প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, বুধবার ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত হাউসে বেশ কয়েক ঘণ্টার বিতর্ক শেষে অভিশংসন নিয়ে ভোটাভুটি হয়। ট্রাম্পের অভিশংসনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন ১০ জন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা। সে সময় ক্যাপিটলের বাইরে ও ভেতরে সশস্ত্র ন্যাশনাল গার্ড বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসনের অভিযোগ মূলত রাজনৈতিক। কংগ্রেসের অভিযোগÑ ট্রাম্প গত ৬ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসের বাইরে একটি র‌্যালিতে বক্তব্য দিয়ে ক্যাপিটলের হামলাকে প্ররোচিত করেছিলেন। সে দিন কংগ্রেসে বাইডেনের জয়ের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি অনুষ্ঠান শুরু হলে, ট্রাম্পের একদল উগ্র সমর্থক ক্যাপিটল ভবনে হামলা চালিয়েছিল। সে ঘটনায় দুই ক্যাপিটল পুলিশ কর্মকর্তাসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
অভিশংসনের নিবন্ধে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ‘বারবার মিথ্যা দাবি করে বলেছেন যে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল প্রতারণামূলক এবং তা গ্রহণ করা উচিত নয়।’ এতে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্প সেদিন বারবার এমন দাবি করেছিলেন এবং জনগণের কাছে স্বেচ্ছায় এটি নিয়ে বক্তব্য রেখেছিলেন যা উগ্রপন্থিদের উৎসাহিত করেছিল এবং সম্ভবত এ কারণেই ক্যাপিটলে হামলা হয়েছে, যার ফলে সহিংসতা ও প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটেছে।
ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র ও মার্কিন সরকারের প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিপন্ন করেছেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অখÐতার ওপর হুমকি এনেছেন, ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করেছেন। গত সপ্তাহে ১৩৯ জন রিপাবলিকান ট্রাম্পকে পরাজিত মেনে ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফলের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।
ট্রাম্পের সম্ভাব্য ঢাল : সিনেটের বিচারে ট্রাম্প আত্মপক্ষ সমর্থনে এ কথা বলতে পারেন যে, তার বাকস্বাধীনতা আছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতেই সে অধিকার সুরক্ষিত রয়েছে। তা ছাড়া তিনি তার বক্তব্যে সমর্থকদের ‘লড়াই’ করার আহŸান জানালেও আক্ষরিক অর্থে তা সহিংসতায় নামার ডাক ছিল না বা এমন কোনো অভিপ্রায়ও তার ছিল না। বুধবার প্রতিনিধি পরিষদে ভোটের পর ট্রাম্প একটি ভিডিও টেপ প্রকাশ করেছেন। এতে তিনি গত সপ্তাহের সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন। ট্রাম্প বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে সহিংসতা, ভাঙচুরের কোনো স্থান একেবারেই নেই। আমাদের আন্দোলনেও এর কোনো স্থান নেই।’
বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন : বিশেষজ্ঞরা একবাক্যেই বলছেন, ‘লেট ইমপিচমেন্ট’ সংবিধানসম্মত। অর্থাৎ একজন প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা শেষের পরও তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া চালানো যায়। বিশেষজ্ঞদের কথায়, অভিশংসন শুধু কর্মকর্তাদেরকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্যই করা হয় না। একই সঙ্গে তাদেরকে ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্ট পদ বা সরকারি কোনো পদে অযোগ্য ঘোষণার জন্যও করা হয়। এর মানে হলো, ট্রাম্প হোয়াইট হাউস ছাড়ার পরও তার বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া চালানোর যুক্তি আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে বলা হয়েছে, কেউ দোষী সাব্যস্ত হয়ে শাস্তি পেলে তিনি সম্মানজনক, আস্থাশীল কিংবা লাভজনক কোনো পদে আসীন হওয়ার অযোগ্য হয়ে যান। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিমকোর্ট বলছেন, অভিশংসন প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালনা করতে হবে সে বিষয়ে বিস্তৃত পরিসরে নিজস্ব আইন ঠিক করে নেওয়ার এখতিয়ার সিনেটের আছে।
কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয় : হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি স্থানীয় সময় বুধবার ট্রাম্পের অভিশংসনের কথা জানিয়ে বলেছেন, ‘কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়’। বেপরোয়া রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ১৩ মাসের মধ্যে দ্বিতীয় দফা অভিশংসিত হওয়ার পর ন্যান্সি পেলোসি এ বিষয়ে কথা বলেন। এক অনুষ্ঠানে কংগ্রেসের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট ন্যান্সি পেলোসি বলেন, ‘দ্বি-দলীয় এই হাউসে আজ দেখা গেছে যে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টও নন।’ ওই অনুষ্ঠানে ন্যান্সি অভিশংসনপত্রে স্বাক্ষর করেন।
হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি আরও বলেছেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট আমাদের দেশের বিরুদ্ধে (ক্যাপিটলে) এই সহিংসতাকে, এই সশস্ত্র হামলাকে উসকে দিয়েছিলেন। তার অবশ্যই চলে যাওয়া উচিত। তিনি পরিষ্কারভাবে এবং বর্তমান সময়ে আমাদের রাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক, যে রাষ্ট্রকে আমরা ভালোবাসি।’
রাগান্বিত ছিলেন ট্রাম্প : মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে যখন ট্রাম্পের অভিশংসন প্রক্রিয়া চলছিল, ট্রাম্প নাকি তখন রাগান্বিত ভঙ্গিতে টেলিভিশনের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে এবিসি নিউজ এ খবর জানিয়েছে। এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিশংসন প্রক্রিয়া চলাকালে টেলিভিশনের পর্দায় ট্রাম্প যখন দেখেন যে, তার দল রিপাবলিকানেরই কয়েকজন সদস্য মার্কিন কংগ্রেস ভবনে সহিংসতার ঘটনায় তাকে দায়ী করছেন, তখন ট্রাম্প ক্রমেই রাগান্বিত হতে থাকেন।
এদিকে অভিশংসিত হওয়ার পরই ভিডিও বার্তার মাধ্যমে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তবে ওই বিবৃতিতে অভিশংসন নিয়ে কোনো কথাই বলেননি তিনি। ওই বার্তায় তিনি তার সমর্থকদের শান্ত থাকার আহŸান জানিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমার সত্যিকারের কোনো সমর্থক রাজনৈতিক সহিংসতা করতে পারে না। আমার সত্যিকারের কোনো সমর্থক কখনও আইনকে বা আমাদের পতাকাকে অসম্মান করতে পারে না।’
ট্রাম্প সবাইকে শান্ত থাকার আহŸান জানিয়ে বলেন, ‘যারা আমাদের নীতিতে বিশ^াসী, তাদের উত্তেজনা পরিহার, শান্ত থাকা ও শান্তি-শৃঙ্খলা প্রচারে সহায়তার উপায় সম্পর্কে ভাবার আহŸান জানাচ্ছি।’
রিপাবলিকানের ১০ জন ট্রাম্পকে অভিশংসনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ওই ১০ রিপাবলিকান সদস্য হলেনÑ নিউইয়র্কের জন কাটকো, ইলিনয়ের অ্যাডাম কিনজিনগার, ওয়াশিংটনের জেমি হেরেরা, ওয়াশিংটনের ড্যান নিউহাউস, ক্যালিফোর্নিয়ার ডেভিড ভ্যালেদাও, মিশিগানের পিটার মেইজার, সাউথ ক্যারোলিনার টম রাইস, মিশিগানের ফ্রেড আপটন, ওহাইওর অ্যান্থনি গঞ্জালেজ ও ওয়াইওমিংয়ের লিজ চেনি।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]