ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৯ মার্চ ২০২১ ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭
ই-পেপার মঙ্গলবার ৯ মার্চ ২০২১

সেই শিরিন-ইসমাইলের রাজত্ব
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২১, ১০:৫৬ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 19

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের শঙ্কা দূরে ঠেলে শুক্রবার শুরু হয়েছে ৪৪তম জাতীয় অ্যাথলেটিক্স। ৬৪টি জেলা, ৮ বিভাগসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সার্ভিসেস দলের হয়ে আসরে অংশ নিচ্ছে সাড়ে চারশ অ্যাথলেট। চেনা-অচেনা মুখ মিলিয়ে সংখ্যাটা নেহায়েত কম নয়। তবে প্রথম দিনে তেমন কোনো চমক দেখা গেল না। সব থেকে আকর্ষণীয় ইভেন্ট ১০০ মিটার স্প্রিন্টে তো চেনা মুখগুলোরই প্রাধান্য থাকল। বরাবরের মতো এবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়েছেন শিরিন আক্তার, মেয়েদের বিভাগে এই ইভেন্টে টানা ১১ বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন তিনি। ছেলেদের বিভাগে একই ইভেন্টে রাজত্ব অব্যাহত রেখেছেন মোহাম্মদ ইসমাইল।
দীর্ঘদিন ধরেই দেশের দ্রæততম মানবী শিরিন। এবারও তার রাজত্ব বজায় থাকায় একটা বিষয় কিন্তু পরিষ্কারÑ মেয়েদের বিভাগে ভালোমানের কোনো দৌড়বিদ উঠে আসছে না। তবে গত আসরের তুলনায় নিজের পারফরম্যান্সে উন্নতি ঘটিয়েছেন শিরিন। গত বছর জানুয়ারিতে চট্টগ্রামে ঘাসের ট্র্যাকে তিনি দৌড় শেষ করেছিলেন ১২.১০ সেকেন্ড সময় নিয়ে। সেনাবাহিনীর শরীফা খাতুন (১২.২০) আর আনসারের কবিতা রায়কে (১২.৪০) পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে এবার তার টাইমিং ১১.৮০। শিরিনের জন্য এটা বড় অর্জনই বটে। করোনার কারণে লম্বা সময় ট্র্যাকের বাইরে থাকার পরও যে নিজের সেরাটা দিতে পেরেছেন, সেটাই বা কম কিসে? তবে শিরিনের দাবি, ট্র্যাকের অবস্থা ভালো হলে তার টাইমিংও ভালো হতো, ‘টাইমিংটা ভালো না হওয়ার জন্য ট্র্যাক দায়ী। এখানে দৌড়ের সময় পুশ করলে রিটার্ন দিচ্ছে না। যে কারণে শক্তিটা চলে যাচ্ছে।’
সামনে বাংলাদেশ গেমস আছে। শিরিনের নজর এখন ওই আসরের দিকে। তার বিশ^াস সেখানে টাইমিং আরও ভালো হবে। ইসমাইলও একই প্রত্যাশা ব্যক্ত করলেন, ‘করোনাকালে অনুশীলন করতে অনেক বাধা ছিল। কিন্তু সন্তুষ্ট হয়েছি এ জন্য যে, দ্রæততম মানবের খেতাবটা ধরে রাখতে পেরেছি। আশা করছি বাংলাদেশ গেমসে টাইমিং কমাতে পারব।’ দেশের গÐি ছাপিয়ে এখন এসএ গেমসে সাফল্য পাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন ইসমাইল, ‘এসএ গেমসে স্বর্ণপদক জেতা সম্ভব। গেমসে আগে যারা জিতেছে, আমি মনে করি তারা আমাদের থেকে খুব বেশি ব্যবধানে দৌড়ায়নি। ওরা বাইরের দেশে দীর্ঘদিন অনুশীলন করেছে। আমাদের যদি বাইরের দেশে নিয়ে দীর্ঘদিন অনুশীলন করানো হয়, তা হলে আমরাও পারব।’
কিন্তু এদিন শিরিন নিজের টাইমিংয়ে উন্নতি ঘটালেও ইসমাইল তা পারেননি। বরং অবনতি হয়েছে তার। ২০১৯ সালে বড়সড় চমকই দেখিয়েছিলেন তিনি। ভালো সুযোগ-সুবিধা না থাকায় পছন্দের ইভেন্ট লং জাম্প থেকে সরে এসে রাগ করেই ১০০ মিটার স্প্রিন্টে নাম দিয়েছিলেন ইসমাইল। প্রথমবার ট্র্যাকে নেমেই বাজিমাত করেন। ১০.২৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে বনে যান দেশের দ্রæততম মানব। গত বছর চট্টগ্রামে ঘাসের ট্র্যাকে শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখেন ১০.৪০ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে। শুক্রবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের জোড়াতালি দেওয়া ট্র্যাকে ঝড় তুলে টানা তৃতীয়বার দ্রæততম মানব হলেন ঠিকই। তবে এবার সময় নিয়েছেন খানিকটা বেশি, ১০.৫৫ সেকেন্ড। ১০.৬০ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন নৌবাহিনীর রকিবুল হাসান।
১০০ মিটারে তৃতীয় হয়েছেন সেনাবাহিনীর হাসান মিয়া, সময় নিয়েছেন ১০.৭০ সেকেন্ড। এটা হ্যান্ড টাইমিংয়ের হিসাব। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যেটার কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। বছরদুয়েক আগে (৪২তম জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ চলাকালে) যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল তাই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। এরপরও বরাবরের মতো এবারও ইলেকট্রনিক টাইমার ব্যবহার করেনি অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন। হ্যান্ড টাইমিংয়েই নির্ধারণ করা হচ্ছে শিরিন-ইসমাইলদের শ্রেষ্ঠত্ব। কিন্তু কেন? এমন প্রশ্নে নিজেদের অসহায়ত্বই প্রকাশ করেছেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মন্টু। তিনি বলেছেন, ‘ইলেকট্রিক টাইমার ব্যবহার করতে হলে অনেক কিছু প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে টেকনিক্যাল লোকবল অন্যতম, যা এই মুহূর্তে সম্ভব নয়। তবে আগামীতে চেষ্টা করব।’
তবে একটা বিষয়ে উন্নতি এনেছে অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন। কিছুদিন আগে জুনিয়র অ্যাথলেটিকস আয়োজিত হয়েছিল কোনোরূপ করোনা পরীক্ষা ছাড়াই। এবার অবশ্য অ্যাথলেট আর সংশ্লিষ্টদের পরীক্ষা দিয়ে নেগেটিভ হয়েই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হচ্ছে। শুক্রবার সেই প্রতিযোগিতা শুরু হলেও এর উদ্বোধন হবে আজ, উদ্বোধন করবেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। তিন দিনব্যাপী প্রতিযোগিতায় পুরুষ ও নারীÑ এই দুই বিভাগে ৩৬ ইভেন্টে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের লড়াই হবে।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]