ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৯ মার্চ ২০২১ ২৪ ফাল্গুন ১৪২৭
ই-পেপার মঙ্গলবার ৯ মার্চ ২০২১

উত্তরাঞ্চলের চাষিরা মরণ ফাঁদে
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২১, ১০:৫৮ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 57

দীর্ঘদিন মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আখ চাষ করে মরণ ফাঁদে পড়েছে উত্তরাঞ্চলের চাষিরা। বছরজুড়ে আবাদ করার পর একসঙ্গে বড় অঙ্কের টাকা জোগান দেওয়া ফসল এবার কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনায় জমিতেই শুকিয়ে যাচ্ছে। পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই রংপুর চিনিকলে মাড়াই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ মাড়াই বাকি রয়েছে পাঁচ হাজার দুইশ একর জমির আখ। কিন্তু রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ অন্য চিনিকলে এসব আখ পাঠানোর ব্যবস্থা নিলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই নগন্য। আখ কাটার নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ায় বিপাকে আখ চাষিরা। না পারছেন আখ অন্যত্র বিক্রি করতে, আবার না পারছেন জমিতে রাখতে। এ কারণে প্রতিদিনই বিপুল পরিমাণ আখ জমিতেই শুকিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে জমিতে আখ থেকে যাওয়ার কারণে অন্য ফসল আবাদের প্রস্তুতিও নিতে পারছেন না কৃষকরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর রংপুর চিনিকলের আওতাধীন আটটি সাব-জোন এলাকার ৪০টি ক্রয় কেন্দ্রের আওতায় পাঁচ হাজার দুইশ একর জমিতে উৎপাদিত ৫২ হাজার টন আখ মাড়াইয়ের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়। গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর মাড়াই শুরুর সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয় চিনিকল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ২ ডিসেম্বর হঠাৎ করেই রংপুর চিনিকলসহ ৬টি চিনিকলে আখ মাড়াই স্থগিতের চিঠি আসে বিএসএফআইসির (বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প সংস্থা) সদর দফতর থেকে। চিনিকলের লোকসানের বোঝা কমানোর জন্য এ পদক্ষেপ নিলেও চিনিকল থেকে দেওয়া ঋণের টাকায় উৎপাদিত আখ সময়মতো ও সঠিকভাবে সংগ্রহের বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে আখ চাষি ও শ্রমিকরা অভিযোগ করে আসছেন। এ সিদ্ধান্ত বাতিল বা পুনর্বিবেচনার জন্য তারা বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচিও পালন করেন। এরপরেও কেবল মাত্র পরিবহন খাতেই কয়েকগুণ টাকা বেশি ব্যয় করে জয়পুরহাট চিনিকলে আখ প্রেরণের সিদ্ধান্তে অটল থাকে কর্তৃপক্ষ। নির্দিষ্ট সময়ের ১৫ দিন পরে আখ সংগ্রহ শুরু করে বর্তমানে প্রতিদিন সাতশ টন আখ প্রেরণের কথা থাকলেও মাত্র দুই থেকে তিনশ টন আখ প্রেরণ করা হচ্ছে জয়পুরহাট চিনিকলে। এভাবে চললে চাষিদের জমির সিংহভাগ আখই জমিতেই শুকিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আখ চাষি নেতা আব্দুর রশিদ ধলু অভিযোগ করে বলেন, শ্যামপুর ও জয়পুরহাট চিনিকলের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত, সর্বাধিক মাড়াই ক্ষমতা সম্পন্ন কারখানা ও সর্বাধিক পরিমাণ আখ মজুদ থাকার পরও রংপুর চিনিকলে রহস্যজনক কারণে বিএসএফআইসি মাড়াই বন্ধ করে। এতে শ্যামপুর থেকে প্রায় দুইশ কিলোমিটার এবং রংপুর চিনিকল থেকে ৫০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আখ পৌঁছাতে হবে জয়পুরহাট চিনিকলে। তিনি আরও বলেন, জয়পুরহাট চিনিকলে মাড়াই শুরুর এক মাস না পেরুতেই সেখানকার আখ প্রায় শেষ। চাষিদের ক্ষতির পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ের বিশাল অঙ্কের এত বড় জাতীয় ক্ষতির দায়িত্ব কে নেবে? তিনি সঠিক তদন্ত করে মাথা ভারি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বিচার দাবি করেন।
মিলস গেট সাব-জোনের চাষি সোনা মিয়া অভিযোগ করেন, চিনিকলে আখ দিয়ে প্রতি মণের মূল্য পাওয়া যায় ১৪০ টাকা। সেখানে গুড় তৈরির জন্য বেপারিরা প্রতি মণ আখের মূল্য দিচ্ছে মাত্র ৭০ থেকে ৮০ টাকা।
গত এক সপ্তাহ থেকে জয়পুরহাট চিনিকলে সরবরাহের জন্য আখ সংগ্রহ শুরু করেছে রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু জয়পুরহাট চিনিকলের মাড়াই সক্ষমতার অভাবে সঠিকভাবে তা পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার সকালে রংপুর চিনিকলের কারখানা ভবনের সামনে সংগৃহীত আখের বিশাল স্ত‚পের কাছে গিয়ে দেখা গেছে মাত্র চারটি ট্রাকে আখবোঝাই করছে শ্রমিকরা।
পরিবহন ঠিকাদার রনজু মিয়া জানালেন, তিন দিন ধরে জয়পুরহাট চিনিকলে ১৫টি ট্রাক ভর্তি নিয়ে বসে থাকার পর আজ সেখান থেকে মাত্র ৩টি ট্রাক আখ আনলোড করে ফিরতে পেরেছে। এভাবে আখ পরিবহন করা সম্ভব হবে না। রংপুর চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান দুলাল বলেন, আগে ট্রাকচালকরা দিনে দুই থেকে তিন ট্রিপ আখ মিলে পরিবহন করতেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দিনেও এক ট্রিপ আখ পরিবহন করতে পারছেন না তারা। ইয়ার্ডে আখের পাহাড় জমে যাচ্ছে। বাস্তবতা না মেনে সরকারকে ভুল বুঝিয়ে আখমাড়াই বন্ধের এ হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে মানুষকে সরকারের ওপর ক্ষেপিয়ে তুলছে প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা একটি অদৃশ্য শক্তি।
এদিকে বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারি নিষেধাজ্ঞার কড়াকড়ি না থাকায় রংপুর চিনিকল জোন এলাকায় এবার ১২০টি অবৈধ আখ মাড়াইকল কম দামে আখ কিনে গুড় মাড়াই চালিয়ে যাচ্ছে বলে স্বীকার করেছেন রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে মহিমাগঞ্জের রংপুর চিনিকল মিলস গেট এলাকাতেই ১০ থেকে ১৫টি মাড়াইকল গুড় মাড়াই করছে।
রংপুর চিনিকলের মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, শ্রমিক ও পরিবহন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার অবসান হয়ে গেছে। একটি জমির আখও পড়ে থাকবে না। বর্তমানে পরিবহনে নিয়োজিত গাড়ির সঙ্গে জয়পুরহাট চিনিকলের ১০টি গাড়ি এনে এখন থেকে প্রতিদিন সাতশ টন আখ জয়পুরহাট চিনিকলে পাঠানো হবে। এতে দ্রæতই আখ সংগ্রহ ও পরিবহন শেষ হয়ে যাবে।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]