ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১৪ ফাল্গুন ১৪২৭
ই-পেপার শনিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ঘুরে দাঁড়াতে চায় বিএনপি
সাব্বির আহমেদ
প্রকাশ: শনিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২১, ১১:২২ পিএম আপডেট: ১৬.০১.২০২১ ১১:৫৬ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 86

নানা কারণে ব্যাকফুটে থাকা বিএনপি এবার ঘুরে দাঁড়াতে চায়। ফের চাঙ্গা করতে চায় দলের তৃণমূল। নতুন বছরে এ লক্ষ্যে এগোতে চাইছে তারা। এ কারণে ভোটের ফল যাই হোকÑ স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে সংগঠন গুছিয়ে নেওয়ার কাজ করছেন দলের নেতাকর্মীরা। চলমান পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও আসছে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের ভোটের মাঠে সরব থাকবে বিএনপি। চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে তৃণমূলকে ঢেলে সাজানো হবে। জেলা কমিটিগুলো পূর্ণাঙ্গ করার পরই সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরালো করবেন তারা। দলটির দায়িত্বশীল নেতারা এমনটাই জানিয়েছেন। এ ছাড়াও নানা ইস্যুতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি থাকবে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কর্মসূচিও। কেন্দ্র থেকে এসব মনিটরিং করা হবে।
একাদশ জাতীয় নির্বাচনের পর ক্রমেই নির্জীব হয়ে পড়ে বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। মামলা-মোকাদ্দমা মোকাবিলা করতে গিয়ে অনেকটা কোণঠাসা হয়ে কমপ্রোমাইজের রাজনীতির পথ খুঁজে নেন নেতারা। দীর্ঘদিন ধরে দলীয় জোরালো কর্মসূচি ও নির্বাচন না থাকায় নেতাকর্মীরা অনেকটাই কোণঠাসা অবস্থায় আছেন। মাঠের বিরোধীদল হিসেবে নিজেদের জানান দিতে না পারায় কেন্দ্রের ওপরও নাখোশ নেতাকর্মীরা। তাই তো তারা নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্তে বিভিন্ন সময় উষ্মা প্রকাশ করেন। তবে গত বছরের শেষদিকে ও চলতি বছরে হওয়া পৌরসভা নির্বাচন ঘিরে বেশ সরব হতে শুরু করেছে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। মামলায় ঘাপটি মেরে থাকা নেতাকর্মীদের অনেকেই ভোটের মাঠে সক্রিয় হচ্ছেন। কিছু পৌরসভায় বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী ভালো করছেন। এর ফলে তৃণমূল অনেকটা চাঙ্গা হচ্ছে দল। শুধু পৌরসভাই নয়,  
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও অংশ নিতে প্রস্তুত হচ্ছেন বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এদিকে তৃণমূলে দলের মধ্যে গ্রæপিং ও প্রার্থীর প্রতি অনাস্থার বিষয়টি কমিয়ে আনতে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করছে বিএনপি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে গত ডিসেম্বরে এক নির্দেশনা জারি করে দলটি। বার্তাটি সারা দেশে জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং আহŸায়কের বরাবর পাঠানো হয়। এতে বলা হয়Ñ জেলা-উপজেলা-পৌরসভা-ইউনিয়ন পরিষদের বিলুপ্ত কিংবা স্থগিত কমিটির কোনো নেতারা মনোনয়নের জন্য আবেদন পত্রে সুপারিশ করতে পারবেন না, দলীয় নির্দেশনা মোতাবেক দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো নেতারা একই আসনে একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়নের জন্য সুপারিশ করতে পারবেন না।
এ ছাড়া মনোনয়নের জন্য নির্ধারিত ফরমের সঙ্গে আবেদনকারীর রাজনৈতিক পরিচয়, বর্তমান দলীয় অবস্থান, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক মামলার বিবরণ এবং বিভিন্ন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসাবে অংশগ্রহণসহ বিভিন্ন তথ্য সঙ্গে সংযুক্ত ছক মোতাবেক প্রস্তুত ও ক্ষেত্রমতে জেলা-উপজেলা-পৌরসভার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক-আহŸায়ক কর্তৃক প্রতি স্বাক্ষরপূর্বক অবশ্যই জমা দিতে হবে। অর্থাৎ প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অনেকটাই তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়টি নিয়ে বরাবরাই বিএনপির তৃণমূলে কোন্দল ও রেষারেষি দৃশ্যমান। কিন্তু নতুন এ নিয়মের ফলে দলীয় গ্রæপিং কিছুটা কমবে বলে আশা নেতাকর্মীদের। পাশাপাশি নতুন বছরে বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত তৃণমূলে অনুক‚লে যাবে বলেও প্রত্যাশা তাদের। গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মইনুল হাসান সাদিক সময়ের আলোকে দলীয় সিদ্ধান্তের নেতিবাচক দিক নিয়ে কথা বলেছেন। তার মতে, সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত না নিয়ে হুট করে চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত ফলপ্রসূ হবে না তৃণমূলে। তৃণমূলকে শক্তিশালী করতে হলে কেন্দ্রের মনোযোগ বাড়াতে হবে। ত্যাগী ও নিষ্ঠাবান কর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে। আর গাজীপুর জেলা বিএনপির আহŸায়ক হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, তৃণমূল সবসময় প্রস্তুত কেন্দ্রের ডাকের অপেক্ষায়। নেতারা যে নির্দেশনা দেবেন, তা বাস্তবায়নে একাট্টা তৃণমূল বিএনপি। কিন্তু এ জন্য ধারাবাহিকভাবে মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে হবে। গুরুত্ব উপলব্ধি করতে হবে দায়িত্বশীলদের।
সম্প্রতি নানা ইস্যুতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি জেলা-উপজেলা পর্যায়ে যুগপৎভাবে কর্মসূচি দিচ্ছে বিএনপি। বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছেন তৃণমূল। এর ফলে ঘরোয়া সভা-সমাবেশের বাইরে আসার সুযোগ হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে প্রশাসনের সঙ্গে জোর জবরদস্তির মধ্যেই অনেক জায়গায় পালিত হচ্ছে কর্মসূচি। সরকার স্বেচ্ছায় নতুন নির্বাচনের ব্যবস্থা না করলে রাজপথই বিকল্প বলে মত তৃণমূল নেতাদের। তারা বলছেন, মাঠ পর্যায়ে নেতাকর্মীরা আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত আছে। শুধু কেন্দ্র থেকে ডাকের অপেক্ষায়। বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু জানান, নতুন নির্বাচনের জন্য যে আন্দোলনের শক্তি দরকার সেই শক্তি সঞ্চয় করে আমরা একদফার আন্দোলনে যাব।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, ২০২০ সালে তৃণমূলের কমিটি পূর্ণাঙ্গের পরিকল্পনা থাকলেও অতিমারী করোনাভাইরাসের কারণে তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। করোনায় দল গোছানোর রাজনীতি করতে না পারলেও সামাজিক কর্মকাÐে সন্তুষ্ট তারা। তবে করোনা একটু স্বাভাবিক হওয়ার পর ফের সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ সময়ের আলোকে বলেন, চাঙ্গাভাব ফিরিয়ে আনতে এ বছর তৃণমূলকে ঢেলে সাজানো হবে। করোনায় সাংগঠনিক কার্যক্রম পিছিয়ে গেলেও ফের শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের অনেক জেলায় কমিটি নেই। এগুলোসহ অঙ্গ সংগঠনের সব কমিটি মাস ছয়েকের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ করা হবে। কমিটি কিংবা কাউন্সিল করতে আমাদের নানা প্রতিক‚ল পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। অনেক জায়গায় সব আয়োজন থাকার পরও সরকার ও প্রশাসনের বাধায় পÐ হচ্ছে কাউন্সিল। দলের আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স সময়ের আলোকে জানান, বাস্তব দিকটাও আমাদের চিন্তা করতে হচ্ছে। প্রথমত পরিবেশ অনুক‚লে নেই। দুয়েক মাস হলো সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে তা এখনও স্বাভাবিক নয়। করোনায় আট মাসে একটা জট ছিল। এর আগেও অনেক জায়গায় দীর্ঘদিনের জট ছিল। হাই কমান্ডের নির্দেশনা অনুয়ায়ী তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে। দীর্ঘদিন সরকারের হামলা-মামলা সহ্য করে দলের বেশিরভাগই ত্যাগী নেতা। সবাই তাদের কর্মেরও মূল্যায়ন চান। কিন্তু আমাদের সমন্বয় করে রেজাল্ট বের করতে হয়।
এর আগে দেখা গেছে, আহŸায়ক কমিটি ঘোষণার সময় প্রতিটি জেলার শীর্ষ নেতাদের বিএনপির কেন্দ্র থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, তিন মাসের মধ্যে অবশ্যই পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে হবে। কিন্তু মাসের পর মাস, বছরের পর বছর যায়। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কমিটি আর হয় না। আহŸায়ক কমিটিতেই মেয়াদ পার হয়ে যায়। উল্লেখ করা প্রয়োজন, বিএনপির ৮২টি সাংগঠনিক জেলা শাখার মধ্যে প্রায় ২৫টির বেশি জেলায় আহŸায়ক কমিটি আছে। এগুলোরও মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]