প্রণোদনার পরও গার্মেন্টসে শ্রমিক ছাঁটাই কাম্য নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রথম পাতা

করোনাকালীন সঙ্কট মোকাবিলায় তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য প্রণোদনা দিয়েছে সরকার। তারপরও গার্মেন্টস মালিকরা শ্রমিক ছাঁটাই করছেন। করোনার মধ্যে ২

2021-01-17T22:49:00+00:00
2021-01-16T23:41:42+00:00
 
  বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬,
৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
প্রথম পাতা
প্রণোদনার পরও গার্মেন্টসে শ্রমিক ছাঁটাই কাম্য নয়
সিপিডির ভার্চুয়াল সভা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২১, ১০:৪৯ পিএম  আপডেট: ১৬.০১.২০২১ ১১:৪১ পিএম
করোনাকালীন সঙ্কট মোকাবিলায় তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য প্রণোদনা দিয়েছে সরকার। তারপরও গার্মেন্টস মালিকরা শ্রমিক ছাঁটাই করছেন। করোনার মধ্যে ২ লাখেরও অধিক শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে গার্মেন্টস খাতে। প্রণোদনা নেওয়ার পরও গার্মেন্টসে এভাবে শ্রমিক ছাঁটাই কোনোভাবেই কাম্য নয়। শনিবার গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও সাউদার্ন ভয়েস আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সভায় বক্তারা একথা বলেন।
‘রিকভারি অব দ্য অ্যাপারেল সেক্টর ফ্রম কোভিড-১৯ ক্রাইসিস : ইস অ্যা ভ্যালু চেইন বেইসড সল্যুশন পসিবল?’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বক্তারা আরও বলেন, শুধু শ্রমিক ছাঁটাই নয়, গার্মেন্টস মালিকরা এই দুর্যোগের সময় লে-অফ আইন ভঙ্গ করে শ্রমিকদের ঠকিয়েছেন। শ্রম আইনে সর্বোচ্চ দুই মাস পর্যন্ত লে-অফ টাইমের কথা উল্লেখ থাকলেও শিল্প মালিকরা সেটিকে ৬ মাসেরও অধিক সময় পর্যন্ত টেনে নিয়ে গেছেন, যা সম্পূর্ণ আইনবিরোধী কাজ।
সিপিডির ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রফতানি পণ্য পোশাক খাতকে রক্ষায় বিদেশি ক্রেতাদের এগিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে এই সঙ্কটকালে নতুন বাজার খুঁজতেও দেশের পোশাক শিল্প মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক সঙ্কট সামাল দিলেও এখন মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। এই ঢেউয়ে সঙ্কট আরও গভীরে পৌঁছেছে। ফলে ক্রেতারা এখন অর্ডারের পরিমাণ ও মূল্য কমিয়ে দিয়েছে। এতে সঙ্কট আরও বাড়ছে। ক্রেতাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ক্রেতারা যদি পোশাকের অর্ডার ঠিক রাখার পাশাপাশি মূল্যও কিছুটা বাড়িয়ে দেন, তাহলে এ খাতের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।
দেশের শিল্পোদ্যোক্তাদের উদ্দেশে টিপু মুনশি বলেন, আমাদের নতুন নতুন বাজারে ঢুকতে হবে। যদি আমরা ঠিকমতো নতুন বাজারে ঢুকতে পারি, তাহলে হয়তো সঙ্কট কিছুটা কমতে পারে। তৈরি পোশাক খাতে সরকারের দেওয়া ঋণ সহযোগিতার সময় আরও বাড়ানো দরকার বলেও স্বীকার করেন তিনি। এ ছাড়া তিনি শ্রমিকদের দিকটিও দেখার আহ্বান জানান মালিকদের প্রতি। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের দিকটা অবশ্যই দেখতে হবে, নতুবা তাদের টিকে থাকা কঠিন হবে।
সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। শ্রীলঙ্কার পোশাক রফতানির সঙ্কটের সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করেন তিনি। শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশের তুলনায় কিছুটা দামি পোশাক রফতানি করে জানিয়ে মোয়াজ্জেম বলেন, বাংলাদেশের ২৩ শতাংশ কারখানা সঙ্কটে রয়েছে, যেখানে শ্রীলঙ্কায় এই হার ৩১ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এ সঙ্কট দীর্ঘায়িত হয়ে আগামী বছর পর্যন্তও স্থায়ী হতে পারে। পোশাক খাতের সঙ্কট মোকাবিলায় সরকার, মালিক, শ্রমিক ক্রেতাদের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করেন মোয়াজ্জেম।  অনুষ্ঠানে সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, করোনার কারণে তৈরি পোশাক খাতের যে ক্ষতি হয়েছে তা কাটিয়ে উঠতে আঞ্চলিক উদ্যোগ নেওয়া দরকার। এ ছাড়া পোশাক শ্রমিকদের জন্য মাইক্রো ইন্স্যুরেন্স চালুর প্রস্তাব দেন তিনি। সেই সঙ্গে চলমান সঙ্কট থেকে উত্তরণে মালিক, শ্রমিক এবং ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ দরকার বলেও তিনি মত দেন। রেহমান সোবহান আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড এইচঅ্যান্ডএমের বাংলাদেশ পাকিস্তান ও ভিয়েতনামের কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউর রহমানের কাছে ক্রেতা হিসেবে তার কোম্পানি কোনো দায়িত্ব পালন করতে আগ্রহী কি না জানতে চান।
এ সময় জিয়াউর বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠান এই সঙ্কট দূর করতে প্রতিশ্রুত। যদি সঙ্কট মোকাবিলায় সরকার, মালিক, ক্রেতা ও শ্রমিক নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করে, তাহলে অবশ্যই এইচঅ্যান্ডএম পোশাকের মূল্য কিছুটা বাড়াতে রাজি আছে। অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক বলেন, প্রথম সঙ্কট থেকে আমরা কিছুটা উত্তরণ ঘটাতে পারলেও এখন দ্বিতীয় সঙ্কটে পড়েছি। এই সমস্যা মোকাবিলা করার জন্য আমাদের আঞ্চলিক সহযোগিতা গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত হ্যারি ফারভেইজ বলেন, বাংলাদেশ বিশ^বাসীর পোশাকের জোগান দিতে বড় ভূমিকা রাখছে। তিনি বলেন, কোনো সরকার কোনো কোম্পানিকে সরাসরি নির্দেশনা দিতে না পারলেও নেদারল্যান্ডস সরকার সে দেশের পোশাক আমদানিকারকদের বাংলাদেশের অর্ডার বাতিল না করার অনুরোধ জানিয়েছে।
শ্রমিক নেতা ও ন্যাশনাল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল হক আমিন বলেন, করোনার মধ্যে ২ লাখেরও অধিক শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করেছেন গার্মেন্টস মালিকরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, মালিকদের প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে, শ্রমিক ছাঁটাই করা যাবে না। গার্মেন্টস মালিকরা সরকারপ্রধানের সে আহ্বান রাখেননি। দেদারছে শ্রমিক ছাঁটাই করেছেন। মালিকরা লে-অফ আইন ভঙ্গ করেছেন, শ্রমিকদের কষ্টে রেখেছেন। তিনি বলেন, করোনায় হয়তো মালিক ও ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর লভ্যাংশ কমেছে, কিন্তু শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। গার্মেন্টস শ্রমিকরা আসলেই অনেক কষ্টে আছে। তাদের আয় কমে গেছে, অপরদিকে চাল-ডাল, তেলসহ সব পণ্যের মূল্য বেড়ে গেছে। এ অবস্থায় শ্রমিকদের টিকে থাকা অনেক কঠিন হয়ে গেছে।



Loading...
Loading...
প্রথম পাতা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: