ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ৭ মার্চ ২০২১ ২২ ফাল্গুন ১৪২৭
ই-পেপার রোববার ৭ মার্চ ২০২১

সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা আট মাস পর্যন্ত স্থায়ী
প্রকাশ: সোমবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২১, ১০:৪৮ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 19

ষ অধ্যাপক ডা. সাইফুদ্দীন একরাম
পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, সার্স-কোভ-২ সংক্রমণের পরে যারা সুস্থ হয়েছে, তাদের শরীরে ইমিউনিটি বা প্রতিরক্ষা ক্ষমতা আট মাস পর্যন্ত বিরাজমান রয়েছে। ভ্যাকসিন দেওয়ার পরেও এমন দীর্ঘ সময়ের জন্য ইমিউনিটি থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি ইমিউনিটির জন্য আমাদের শরীরের ভেতরে যে জটিল প্রক্রিয়া রয়েছে, তা করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রেও কার্যকর। এ জন্য করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে ইমিউনিটি সম্পর্কে এত দিনের সন্দেহ অনেকাংশে দূর হলো। তবে যাদের ইমিউন সিস্টেমের সমস্যা কিংবা দুর্বলতা রয়েছে, তারাই মূলত একাধিকবার সার্স-কোভ-২ দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লা জোলা ইনস্টিটিউটের গবেষকরা তাদের প্রকাশিত ফলাফলে নিশ্চিত করেছেন, মানুষের অর্জিত ইমিউন ব্যবস্থার যে চারটি ক্ষেত্রেই কোভিড-১৯ থেকে সুস্থ হওয়া রোগীদের ইমিউনিটির প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। সুস্থ হওয়ার পাঁচ থেকে আট মাস পরে ৯৫ ভাগ রোগীর শরীরে এমন প্রমাণ মিলেছে। গবেষকরা ১৮৮ জন প্রমাণিত কোভিড-১৯ রোগীর ২৫৪টি স্যাম্পল বিস্তারিত বিশ্লেষণ করেছেন এবং প্রত্যেকের রক্তে সার্স-কোভ-২-এর বিরুদ্ধে তৈরি অ্যান্টিবডি, মেমোরি বি-সেল, হেল্পার টি-সেল এবং সাইটোটক্সিক টি-সেল পরিমাপ করেছেন। এ পর্যন্ত কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ইমিউনিটির প্রমাণ হিসেবে এটাই সবচেয়ে বড় আকারের পর্যবেক্ষণ।
প্রথমত তারা দেখেছেন করোনাভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনের বিরুদ্ধে যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, তা ৬ মাস পরেও রক্তে যথেষ্ট মাত্রায় রয়েছে। এই অ্যান্টিবডি ভাইরাসটির স্পাইক প্রোটিনের সঙ্গে লেগে গেলে করোনাভাইরাস আর মানুষের শরীরের কোষে প্রবেশ করতে পারে না।
দ্বিতীয়ত তারা ৬ মাস পরেও এসব সুস্থ হয়ে যাওয়া রোগীদের রক্তে প্রচুর পরিমাণে মেমোরি বি-সেলের উপস্থিতি দেখতে পেয়েছেন। দ্বিতীয়বার কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে মেমোরি বি-সেল দ্রুত প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিবডি তৈরি করা শুরু করে দেয়। ফলে ভাইরাস দ্বিতীয়বার আর সুবিধা করতে পারে না।
তৃতীয়ত তারা হেল্পার এবং সাইটোটক্সিক টি-সেল গণনা করে দেখতে পেয়েছেন, যে কোভিড-১৯ থেকে সুস্থ হওয়ার তিন থেকে পাঁচ মাস পরে এগুলোর সংখ্যা মোটামুটি অর্ধেক হয়ে যায়। শরীরে ভাইরাস আক্রমণ করলে এই দুই ধরনের টি-সেল আরও নতুন নতুন ইমিউন কোষকে সক্রিয় করে তোলে এবং ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত কোষ ধ্বংস করে দেয়।
বর্তমান সময়ে বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণের এই ফলাফল অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক। কারণ তারা মনে করছেন, মানুষের শরীরের অর্জিত ইমিউন সিস্টেমের চারটি অংশ (অর্থাৎ অ্যান্টিবডি, মেমোরি বি-সেল, হেল্পার এবং সাইটোটক্সিক টি-সেল) করোনাভাইরাস সংক্রমণের আট মাস পরেও সক্রিয় থাকাটা প্রমাণ করে, অন্তত একবার কোভিড-১৯ থেকে সুস্থ হওয়ার পর আট মাস দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। যারা দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হয়েছে, তাদের ইমিউন ব্যবস্থায় কোনো ধরনের সমস্যা রয়েছে বলেই তাদের ধারণা। দুনিয়ায় করোনা মহামারি শুরু হওয়া এক বছর পূর্ণ হয়েছে। এই স্বল্প সময়ে ভাইরাসটির ইমিউনিটি সম্পর্কে এটাই দীর্ঘতম সময় ধরে পরিচালিত পর্যবেক্ষণ। তবে করোনাভাইরাসের ওপর আরও দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ চলবে এবং ভ্যাকসিন দেওয়ার পরে কী ঘটছে, সেটাও পর্যবেক্ষণ করা হবে। অচিরে সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
অবশ্য গবেষকরা মিউটেশন ঘটে যাওয়া করোনাভাইরাসের গতিপ্রকৃতি নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। বর্তমান পর্যবেক্ষণে পাওয়া ফলাফল দিয়ে মিউটেশন হওয়া ভাইরাসের সংক্রমণের বিরুদ্ধে ইমিউনিটি পাওয়া সম্ভব হবে কি না, এখনও তা বলা সম্ভব হচ্ছে না; একইভাবে বর্তমান আবিষ্কৃত টীকা দিয়ে মিউটেশন ঘটে যাওয়া করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে কি না সেটাও এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না।

লেখক : মেডিসিন বিশেষজ্ঞ




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]