ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১৪ ফাল্গুন ১৪২৭
ই-পেপার শনিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১

তিন তরুণের কাঁধে রেল ক্রসিংয়ের নিরাপত্তা
জাহাঙ্গীর কবির জুয়েল ময়মনসিংহ ব্যুরো
প্রকাশ: সোমবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২১, ১১:১১ পিএম আপডেট: ১৭.০১.২০২১ ১১:৪২ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 75

নিরাপদে রেল ক্রসিং পারাপারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন উদ্যমী আর সাহসী তিন তরুণ। বেখেয়ালে রেল ক্রসিং পার হতে গিয়ে অকালে প্রাণ হারাত পথচারীরা। অরক্ষিত এ রেল ক্রসিং হচ্ছে ময়মনসিংহ সদরের বিদ্যাগঞ্জ বাজার সংলগ্ন চৌহানিয়া রেল ক্রসিং। ময়মনসিংহ থেকে নান্দিনা হয়ে জামালপুরে যাওয়া যায় এই রাস্তা দিয়ে। কখনই এই রেল ক্রসিংয়ে কোনো গেটম্যান ছিল না। যার জন্য হরহামেশাই এখানে দুর্ঘটনায় মানুষের জীবন ঝরে পড়ত।
এই রেল ক্রসিং দিয়ে প্রতিদিন ২৪টি ট্রেন চলাচল করে। এলাকাবাসী বেশ কয়েকবার রেল কর্তৃপক্ষকে তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও এখানে কোনো গেটম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়নি। দুই পাশে ব্যারিয়ার না থাকায় মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হতো সবাইকে। সাহসী তিন তরুণ ছাত্র গত এক বছর ধরে প্রতিদিন আট ঘণ্টা সময় ভাগ করে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দুটি সুপারি গাছ জোগাড় করে সেগুলোকে রঙ করে ব্যারিয়ার বানিয়েছেন। ট্রেন আসার সময়ে মুখে বাঁশি ফু দিয়ে এবং হাতে পতাকা নিয়ে সবাইকে সতর্ক করেন।
সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই তারা এ কাজ করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি মানুষের জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে রেল ক্রসিং পাহারা দেন। এভাবে দুর্ঘটনার সংখ্যা শূন্যের ঘরে নামিয়ে এনেছেন তারা। তিন তরুণের একজন হলেন আনিছ আল শুভ। তিনি আনন্দ মোহন কলেজের বাংলা বিভাগের সম্মান দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনি বলেন, শুরুতে এ কাজে পরিচিতজনরা বিদ্রƒপ করলেও এখন সবাই উৎসাহ দেন। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই এ কাজ করছি। পড়াশোনার পাশাপাশি মানুষের জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে রেল ক্রসিং পাহারা দিই। আরেক তরুণ জাহিদুল আলম। তিনি পড়াশোনা করেন ময়মনসিংহ মহাবিদ্যালয়ে। সমাজকর্ম বিভাগের সম্মান দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত এ ছাত্র গেট পাহারা দিতে গিয়ে তার বিচিত্র অভিজ্ঞতার জানান। অনেকেই আইন অমান্য করার চেষ্টা করেন। ইচ্ছা না থাকলেও তখন বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়তে হয়।
অবশ্য জাহিদুল আলমের ভিন্ন অভিজ্ঞতাও রয়েছে। তাদের কাজে অনেকে অভিভূতও হন। অনেকেই গাড়ি থেকে নেমে এসে ধন্যবাদ জানিয়ে যান। এমনকি চকলেট উপহার পাওয়ার মতো মজাদার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার। স্বেচ্ছাসেবকদের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য পিয়ারপুর শশীকান্ত কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র শাহাদাত হোসাইনের বাবা শামছুল হক জানান, যেহেতু এটি একটি দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা তাই শুরুতে তিনি নিজ উদ্যোগে পাহারা দেওয়ার কাজ শুরু করেছিলেন। পরে তিনি তার ছেলেকে এবং অন্য দুজনকে উদ্বুদ্ধ করেন মানুষকে নিরাপদে রেল ক্রসিং পারাপারে সহযোগিতা করতে।
কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি ও গাড়িচালক জানান, এই রেল ক্রসিংয়ে কোনো গেটম্যান না থাকায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটত। রেল ক্রসিংটি আড়াআড়ি হওয়ায় চালকের জন্য দুপাশে নজর রাখা খুবই দুরূহ। একই কারণে পারাপারের সময়ে চাকা পিছলে গিয়ে গাড়ি আটকে যেত। আর সে সময়ে দ্রুতবেগে ট্রেন চলে এলে মুহূর্তেই ঘটত দুর্ঘটনা।
রেল কর্তৃপক্ষ যেন শিগগিরই এ রেল ক্রসিংয়ে স্থায়ীভাবে পাহারাদার নিয়োগ দেন সেই দাবি জানান সবাই।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]