ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১৪ ফাল্গুন ১৪২৭
ই-পেপার শনিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১

নৌকা ঠেকাতে বিদ্রোহী ভাসুরের পক্ষে এমপিপত্নী
হাবীব রহমান
প্রকাশ: বুধবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২১, ১০:৪৩ পিএম আপডেট: ১৯.০১.২০২১ ১১:২৯ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 333

চলমান পৌরসভা নির্বাচনে সারা দেশেই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি। হাইকমান্ডের কড়া নির্দেশের পরও এর লাগাম টানা যাচ্ছে না। দলের প্রভাবশালীদের অনেকের আত্মীয়-স্বজনই বিভিন্ন পৌরসভায় বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নিজ জেলা, নোয়াখালীর চৌমুহনী পৌরসভায় নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোটে নেমেছেন খোদ এমপির ভাই। নোয়াখালী-৩ আসনে এ এমপি হলেন মামুনুর রশীদ কিরন।
সেখানে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের দলীয় প্রার্থী টানা দুবারের মেয়র আক্তার হোসেন ফয়সালের বিরুদ্ধে মোবাইল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন স্থানীয় এমপি মামুনুর রশিদ কিরনের ভাই খালেদ সাইফুল্লাহ। বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় নেমে এমপির স্ত্রী জেসমিন আক্তার দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন।
উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী (বেগমগঞ্জ) জেসমিন আক্তার তার ভাসুর সাইফুল্লাহের পক্ষে নির্বাচনি এলাকায় ভোট চাওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, এমপি কিরনের অনুসারীদের আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মোবাইল ফোন মার্কায় প্রচার-প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে। খালেদ সাইফুল্লাহ প্রধানমন্ত্রীর অডিও ক্লিপ বাজিয়ে এলাকায় মোবাইল ফোন মার্কায় প্রচারণা চালাচ্ছেন।
কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না স্থানীয় আওয়ামী লীগ। বারবার ফোন করেও সাড়া মেলেনি নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মামুনুর রশীদ কিরনের। তবে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী এমপি বিদ্রোহী প্রার্থীর বিষয়ে সময়ের আলোকে বলেন, বিষয়টি ওপরে (হাইকমান্ড) জানানো হয়েছে। কিরন ভাইকেও বলছিলাম। উনাকে ফোন করেন। সাংগঠনিক ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থী দলের কোথাও কোনো পদে নাই। তাই চাইলেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। এমপির স্ত্রী দলীয় পদে থেকে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা করছে, তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেবেন কি নাÑ এমন প্রশ্নে একরামুল করিম বলেন, আমাদের জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নাই। তাই বৈঠক করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার মতো অবস্থা নাই।
এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বকর ছিদ্দিক টিপু বলেন, তৃণমূল নেতাকর্মীরা মনে করেন এমপি সাহেব আসলেই চান না নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জিতুক। তিনি বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক থেকে এখানে পৌরসভা ভোটে তার ভাইকে সাহায্য করছেন। যা আওয়ামী লীগের জন্য বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই দ্রুত এ অবস্থা নিরসনের জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও বর্তমানে পৌরসভার মেয়র আক্তার হোসেন ফয়সাল বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিষ্কারভাবে বলেছেন, বিদ্রোহীরা জয়ী হোক কিংবা পরাজিত হোক, পরবর্তী নির্বাচনে আর মনোনয়ন পাবে না। এটাই আওয়ামী লীগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। এমপি সাহেব তার পরিবারের সদস্যের জন্য মনোনয়ন চেয়েছেন; কিন্তু সেটা না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র হিসেবে তার বড়ভাইকে নির্বাচনে দাঁড় করিয়ে দিয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছেন। যা পরিষ্কার হয়েছে তার (এমপি মামুনুর রশিদ কিরন) স্ত্রী ও উপজেলা মহিলা লীগের সভানেত্রী (বেগমগঞ্জ) জেসমিন আক্তারের প্রচারণার মধ্য দিয়ে। আমি এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
তিনি আরও বলেন, নেত্রীর (শেখ হাসিনা) সিদ্ধান্তকে অবজ্ঞা করে প্রার্থী দেওয়া ও তার পক্ষে উপজেলা মহিলা লীগ নেত্রীর প্রচারণা চালানো আওয়ামী লীগের দলীয় শৃঙ্খলার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আমি তাদের ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই। দলীয় নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গে আছেন।
আগামী ৩০ জানুয়ারি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকলেও স্থানীয়রা বলছেন, লড়াইটা শেষ পর্যন্ত হবে নৌকা ও ধানের শীষের।
পৌরসভাটি একসময়ের বিএনপির ঘাঁটি বলে পরিচিত ছিল। সেই ধারায় আঘাত করেন সে সময়ের যুবলীগ নেতা আক্তার হোসেন ফয়সাল। বিএনপি প্রার্থীকে হারিয়ে টানা দুবার মেয়র হন তিনি। আবারও দলের আস্থা ফয়সালের প্রতিই। টানা তৃতীয়বার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি।
১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নোয়াখালীর বাণিজ্যিক শহর চৌমুহনীকে পৌরসভা ঘোষণা করেন। চৌমুহনীতে মোট ভোটার আছে ৬০ হাজার।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]