ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১৪ ফাল্গুন ১৪২৭
ই-পেপার শনিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১

করোনায় লন্ডভন্ড শিক্ষাখাত : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতি
এম মামুন হোসেন
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২১, ১০:৫৮ পিএম আপডেট: ২০.০১.২০২১ ১১:৫৩ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 48

বিশ^ব্যাপী মহামারি করোনা দেশের শিক্ষাখাত লন্ডভন্ড করে দিয়েছে। দেশে প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তরে পড়ুয়া ৫ কোটি শিক্ষার্থী পড়েছে বিপাকে। এক দশক ধরে পূর্বনির্ধারিত শিক্ষাসূচি পুরোটা এলোমেলো হয়ে গেছে। মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপের কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এরপর কয়েক ধাপে ছুটি বাড়ানো হয়। কওমি মাদ্রাসা বাদে দেশের অন্য সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আগামী ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। প্রায় এক বছর পর আগামী ফেব্রুয়ারিতে স্কুল-কলেজ খোলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দিন-তারিখ ঠিক করতে আজ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে উচ্চ পর্যায়ের এক ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এর আগেই শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানিয়েছিলেন এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ফেব্রুয়ারিতে স্কুল-কলেজ খোলা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, করোনা সংক্রমণের কারণে আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা পিছিয়ে যাবে। পাঠ্যসূচি কাটছাঁট করে ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত তার ভিত্তিতে শ্রেণিকক্ষে ক্লাস করিয়ে জুনে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা হতে পারে। আর কাটছাঁট করা পাঠ্যসূচিতে ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত শ্রেণিকক্ষে ক্লাস করিয়ে জুলাই-আগস্টে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সব বিভাগীয় অতিরিক্ত সচিব এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তাকে নিয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির নেতৃত্বে ওই বৈঠকে শিক্ষার চলমান পরিস্থিতি, স্থগিত শিক্ষা কার্যক্রম চালু করার জন্য যে গুচ্ছ পরিকল্পনা প্রণয়ন, তার খুঁটিনাটি নিয়ে পর্যালোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এতে আরও আলোচনা হবে বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু, চলতি বছরের পাবলিক পরীক্ষা শুরু এবং দশম শ্রেণির বিষয়ভিত্তিক সিলেবাস কীভাবে শেষ হবে, তার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে। বৈঠকের সামগ্রিক বিষয় বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া প্রসঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নাজমুল হক জানান, শিক্ষার সামগ্রিক বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে। সেখানে কী সিদ্ধান্ত হবে তা আগাম বলতে পারছি না।
বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের পরই পুরো শিক্ষাব্যবস্থা থমকে রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের মধ্যেও প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে টিভিতে শ্রেণি পাঠদান সম্প্রচার করা হচ্ছে। আর উচ্চ মাধ্যমিক এবং উচ্চ শিক্ষাস্তরে অনলাইনে ক্লাস পরিচালনা করা হচ্ছে। করোনার কারণে এ বছর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা বাতিল করে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা-মূল্যায়ন করা হয়। অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষাও বাতিল করা হয়। বিলম্বে শুরু হয় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম। প্রতিবছর যথাযথভাবে সিলেবাস শেষ করেই নেওয়া হয় বিভিন্ন শ্রেণির পরীক্ষা। প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক সব শ্রেণিতে অটো পাসে পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা হয়। বছর শেষে স্কুলে প্রথম থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তিতে লটারিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। এ ছাড়া গত ১ এপ্রিল থেকে এইচএসসি পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও করোনার কারণে বাতিল করে মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেয়। চলতি মাসে এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে। অষ্টম শ্রেণির জেএসসি-জেডিসির ফলকে ২৫ এবং এসএসসির ফলকে ৭৫ শতাংশ বিবেচনায় নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিকের ফল ঘোষিত হবে।
এইচএসসির ফল প্রকাশ শেষে উচ্চশিক্ষায় বিশ^^বিদ্যালয়ে ভর্তি হয় শিক্ষার্থীরা। বিশ^^বিদ্যালয়গুলোতে সেশনজট নেমে এসেছিল প্রায় শূন্যের কোঠায়। সেখানে সেশনজটে পড়েছে বিশ^বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত পাবলিক ও বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অনলাইনে পাঠদান কিছু বিশ^বিদ্যালয় শুরু করলেও জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ ও ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সাত কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম পুরো থমকে আছে। করোনার কারণে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণির চূড়ান্ত পরীক্ষা আটকে গেছে। যে কারণে চাকরির আবেদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে লক্ষাধিক শিক্ষার্থী। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সেপ্টেম্বরে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে বিশেষ সমাবর্তন আয়োজন করার থাকলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে মহামারি করোনা পরিস্থিতিতে আর্থিক দৈন্যদশায় এবং অনেকেই শহর ছেড়ে গ্রামে চলে গেছে। এতে শিক্ষার্থীদের একটি অংশের ঝরে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের আবারও স্কুলমুখী করা সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
মঙ্গলবার ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে এডুকেশন ওয়াচের ২০২০-২১ সমীক্ষায় গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, মহামারি করোনাকালে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ৬৯ শতাংশ শিক্ষার্থীই দূরশিক্ষণের বাইরে রয়েছে। সংসদ টিভি, অনলাইন, রেডিও ও মোবাইল ফোন প্রক্রিয়ায় দূরশিক্ষণে ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। আর ৬৯ দশমিক ৫ শতাংশ অংশগ্রহণ করেনি। তবে ৩৭ দশমিক ৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পরিবার বা অন্যদের কাছ থেকে এ কার্যক্রমে সহায়তা পেয়েছে। ওই প্রতিবেদনেও ঝরে পড়াকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।








সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]