ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১৪ ফাল্গুন ১৪২৭
ই-পেপার শনিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১

বছর শুরু জয়ে
রাজু আহাম্মেদ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২১, ১০:৫৮ পিএম আপডেট: ২০.০১.২০২১ ১১:৫৩ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 39

মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, দিনভর সূর্যের দেখা নেই। এর মধ্যে আবার কুয়াশার চাদর ঢেকে রাখল চারপাশ। তাতে সবকিছু দেখাল ধূসর-মলিন, ম্যাচজুড়ে যেমনটা দেখাল অনভিজ্ঞ ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলকে। এই মলিনতা আর ধূসরতা দূর করতে ভরদুপুরেই জ্বলে উঠল ফ্লাডলাইট, উজ্জ্বল আলোকছটায় উদ্ভাসিত হলো মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম, সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে এর থেকেও বেশি উজ্জ্বলতা ছড়াল টিম বাংলাদেশ।
বিশেষ করে বোলাররা, আরও নির্দিষ্ট করে বললে ম্যাচসেরা সাকিব আল হাসান, হাসান মাহমুদ আর মোস্তাফিজুর রহমান। আইসিসির নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার ম্যাচে বাঁহাতের যে ভেলকি সাকিব দেখিয়েছেন, তা এককথায় দুর্দান্ত। অভিষিক্ত হাসান ছড়ালেন মুগ্ধতা, তারুণ্যের আভা ছড়িয়েই ডানহাতি এই পেসার দেখিয়ে দিলেন, তিনি কতটা পরিণত। মোস্তাফিজ বুঝিয়ে দিলেন, তার কাটার এখনও বেশ ধারালো। সঙ্গে ইনসুইঙ্গার যোগ হওয়ায় এই বাঁহাতি এখন আরও বেশি কার্যকর।
এই ত্রয়ীকে মোকাবিলা করার কোনো পথই যেন জানা ছিল না ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটসম্যানদের। বৃষ্টি বাগড়া দেওয়া ম্যাচে ৩২.২ ওভার শেরেবাংলার রহস্যময় ২২ গজে টিকে থাকতে পারল তারা, ছয় অভিষিক্তকে নিয়ে খেলতে নামা অতিথিদের পুঁজি দাঁড়াল সাকল্যে ১২২ রান। ম্যাচের ভাগ্য তো ওখানেই লেখা শেষ, বাকি ছিল কেবল দশ মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রত্যাবর্তনটাকে জয়ে রাঙানো। ‘বিশেষ জার্সি’তে নেতৃত্বের অভিষেক রাঙাতে এবং তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যেতে ব্যাট হাতে বাকি কাজটা সারতে সামনে থেকেই পথ দেখালেন তামিম ইকবাল। যখন তার দলের নামে ৬ উইকেটের জয় লেখা হলো, তখনও ইনিংসের বাকি ১৬.১ ওভার।
অবশ্য আরও বেশি ওভার হাতে রেখে ম্যাচটা জেতা উচিত ছিল। কিন্তু তামিম, লিটন, সাকিবদের অতি সাবধানী ব্যাটিংয়ে তা হয়নি। ৭টি বাউন্ডারিতে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৪ রান করেছেন তামিম, খেলেছেন ৬৯ বল। ৪৭ রানের উদ্বোধনী জুটিতে ১৪ রানের জোগান দিতে লিটনের ৩৮ বল খেলে ফেলা কিছুটা বিস্ময়েরই জন্ম দিয়েছে। সাকিবও (৪৩ বলে ১৯) ব্যাট চালিয়েছেন স্বভাববিরুদ্ধ ঢঙে। দ্রুত ম্যাচ শেষ করার তাগিদ ছিল না মুশফিকুর রহিম (১৯) আর মাহমুদউল্লাহর (৯) মাঝে। বলা বাহুল্য, উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য অতটা সহজ ছিল না, তার ওপর শিশির আর একপশলা বৃষ্টির দরুন আউটফিল্ডও ছিল কিছুটা মন্থর। ব্যাটিংয়ে সেটারই প্রভাব ছিল লক্ষণীয়। তা কেবল বাংলাদেশেরই নয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংয়েও।
টাইগার বোলাররা কৃতিত্বের দাবিদার। তামিমের নেতৃত্বও এদিন ছিল প্রায় নিখুঁত। টস জিতে আগে বল হাতে তুলে নেন। এরপর বেশ চতুরতার সঙ্গেই বোলারদের ব্যবহার করেছেন তিনি। সাকিব-হাসান, মোস্তাফিজরাও প্রমাণ করেছেন নিজেদের কার্যকারিতা। ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় বলেই উইকেট শিকারের আনন্দে মাতেন কাটার মাস্টার। বৃষ্টির পর দ্বিতীয় আঘাতটাও হানেন এই বাঁহাতি। এরপর সাকিবের ভেলকি। আন্দ্রে ম্যাকার্থি, জেসন মোহাম্মদ আর এনক্রুমা বোনরকে ফিরিয়ে ক্যারিবীয়দের মিডলঅর্ডার গুঁড়িয়ে দেন এই বাঁহাতি। আলজারি জোসেফকে বোল্ড করে অতিথিদের ইনিংসটাও গুটিয়ে দেন ৮ রান খরচায় ৪ উইকেট নেওয়া এই স্পিনার।
এরই ফাঁকে অভিষিক্ত হাসানের (৩/২৮) ঝলক দেখা গেল। টানা দুই বলে রোভম্যান পাওয়েল (২৮) আর রেমন রেইফারকে ফেরান ডানহাতি পেসার। হ্যাটট্রিকের সুযোগটা কাজে লাগাতে না পারলেও পরে আকিল হোসেনকে নিজের শিকার বানান এই তরুণ। স্বাগতিক বোলারদের তোপের মুখেও ৪০ রানের ইনিংস খেলেছেন কাইল মায়ার্স। ম্যাচে মেহেদী হাসান মিরাজের একমাত্র শিকারে পরিণত হওয়া এই ব্যাটসম্যান ওই ইনিংসটা খেলতে পেরেছিলেন বলেই একশর নিচে গুটিয়ে যায়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
ওয়েস্ট ইন্ডিজ : ৩২.২ ওভারে ১২২ (অ্যামব্রিস ৭, জশুয়া ৯, ম্যাকার্থি ১২, জেসন ১৭, মায়ার্স ৪০, এনক্রুমা ০, পাওয়েল ২৮, রেইফার ০, জোসেফ ৪, আকিল ১, শেমার ০*; মোস্তাফিজ ২/২০, হাসান ৩/২৮, সাকিব ৪/৮, মিরাজ ১/২৯)
বাংলাদেশ : ৩৩.৫ ওভারে ১২৫/৪ (লিটন ১৪, তামিম ৪৪, শান্ত ১, সাকিব ১৯, মুশফিক ১৯*, মাহমুদউল্লাহ ৯*; আকিল ৩/২৬, জেসন ১/১৯)
ফল : বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী
ম্যাচসেরা : সাকিব আল হাসান








সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]