ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১৪ ফাল্গুন ১৪২৭
ই-পেপার শনিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১

টিকা ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম কাম্য নয়
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২১, ১১:৩৫ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 17

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় একমাত্র ভরসার জায়গা এখন ভ্যাকসিন। সুখবর হচ্ছে, এরই মধ্যে ৩টি কোম্পানি ফাইজার-বায়োএনটেক, মডার্না, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনে সফলতা পেয়েছে। বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় জাতীয়ভাবে টিকাদানের খসড়া পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর, যা মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। টিকা ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের খসড়া পরিকল্পনায় তিন পর্যায়ে মোট ৫ ধাপে ১৩ কোটি ৮২ লাখ ৪৭ হাজারের বেশি মানুষকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হবে। দেশের ৮০ শতাংশ জনগণকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে ১৯২ দিন সময় লাগতে পারে বলে পরিকল্পনায় বলা হয়েছে।
বিশ^ব্যাপী ক্ষমতাধর দেশগুলোর দৌরাত্ম্যে করোনার টিকা প্রাপ্তির বিষয়ে গরিব ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। দেশের প্রায় প্রত্যেক নাগরিকের ভ্যাকসিন প্রাপ্তির বিষয়ে সময় বিলম্ব যাতে না হয়, সেদিকে নজর রাখার কথাও বলছেন তারা। কিন্তু ভারত থেকে যে ৩ কোটি টিকা আসছে, তা আসতে ৬ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এ ক্ষেত্রে সরকারি নীতি-নির্ধারকরা পরবর্তী সময়ে অনেক টিকা এই ৬ মাসে বাজারে আসার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
কিন্তু আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, বহুল আলোচিত ফাইজারের করোনা টিকা উপমহাদেশের দেশগুলোয় ব্যবহার করা প্রায় অসম্ভব; কারণ টিকাটি সংরক্ষণের জন্য মাইনাস ৭০-৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার প্রয়োজন পড়বে। তাই এই টিকা ব্যবহার করতে না পারার কারণে আমাদের টিকা প্রাপ্তির বাজার আরও সঙ্কুচিত হয়ে যাবে। করোনার বৈশি^ক বিপর্যয় এবং বাংলাদেশের অবস্থা বিবেচনায় অনেকের মতে, স্বাস্থ্য অধিদফতর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকাদানের যে পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেছে, তা দ্রুত বাস্তবায়ন এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখাই হবে এখন বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
মহামারির নির্মম তাণ্ডব তথাকথিত ক্ষমতার বেড়াজালে আটকে ছিল না। করোনাকালীন বরং বেড়েছে সামাজিক বৈষম্য। মহামারির ক্রান্তিকালেও মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ ও বৈষম্যের সৃষ্টি করেছে আমাদের চিকিৎসাব্যবস্থা; প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে করোনা মোকাবিলায় বেশিরভাগ পদক্ষেপ। একই সঙ্গে করোনাকালে রুগ্ণ স্বাস্থ্য খাতের ভঙ্গুর অবস্থা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। নানা অনিয়ম, দুর্নীতিতে বেসামাল আমাদের সমাজ কাঠামোয় করোনা ভ্যাকসিন সুষ্ঠুভাবে বণ্টনে কতটুকু সাফল্যজনক এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ হবে এটা নিয়ে যেন সংশয়ের শেষ নেই।
মহামারির এই করুণ সময়ে টিকা নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতি হবে দেশের জন্য আত্মঘাতী। কিন্তু কথায় বলে, ‘চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনি।’ তাই অনিয়ম ও ব্যক্তি স্বার্থে এমন অনেক অপরাধী থাকবে যারা মহামারির এই করুণ সময়েও অর্থের লোভে দুর্নীতির আশ্রয় নেবে; যেমনটা আমরা দেখেছি দেশের হাসপাতাল ও ক্লিনিকের করোনার ভুয়া রিপোর্ট তৈরি, মহামারিকে কেন্দ্র করে সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ-সাহায্য দরিদ্রের মধ্যে সুষ্ঠু বণ্টনের নামে অনিয়মের ঘটনাগুলোয়। আমরা দেখেছি মহামারিকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল ক্লিনিকগুলো টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট বিক্রয়ের রমরমা বাণিজ্য, গুজব ছড়িয়ে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি, করোনার বিশেষ সুরক্ষিত পোশাক (পিপিই) এবং মাস্ক আমদানি এবং তৈরিতে ভেজালের মতো দুর্নীতি। অর্থাৎ মহামারি যেন কতিপয় স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর কাছে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মহোৎসবে পরিণত হয়েছে। অতএব আমাদের উচিত হবে আগের অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া শিক্ষা কাজে লাগানো। দেশে অন্তত এই করোনাকালীন মানবিক বিপর্যয়ের মুহূর্তে টিকা নামক আশার প্রদীপ দুর্নীতি এবং অনিয়মের হাওয়ায় যেন নিভে না যায়, সরকারকে তা নিশ্চিত করতে হবে।

ষ আকিজ মাহমুদ
    শিক্ষার্থী, ইতিহাস বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়  









সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]