ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৯ মার্চ ২০২১ ২৪ ফাল্গুন ১৪২৭
ই-পেপার মঙ্গলবার ৯ মার্চ ২০২১

পরনিন্দার পাপ ও পরিণাম
মুশফিক হাবীব
প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২১, ১০:৩৬ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 44

 মানুষের দোষ চর্চা ও পরনিন্দা ভয়াবহ একটি আত্মিক ব্যাধি। এ ব্যাধি মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়েছে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। ছোট-বড়, নারী-পুরুষ, যুবা-বৃদ্ধ, শিক্ষিত-মূর্খ সব শ্রেণি এ রোগে আক্রান্ত সমানভাবে। সচেতন বা অবচেতন মনে খুব অবলীলায়ই আমরা মেতে উঠছি অন্যের দোষ চর্চায়। অথচ এর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ ও মারাত্মক। আল্লাহ তায়ালা বলেনÑ ‘তোমাদের কেউ যেন কারও দোষ চর্চা না করে, তোমাদের কেউ কি একথা অপছন্দ করে যে, সে তার মৃত ভাইয়ের গোশত ভক্ষণ করবে? তোমরা তো তা অপছন্দ কর!’ (সুরা হুজরাত : ১২)। গিবত বা পরনিন্দার ভয়াবহতা বুঝাতে আল্লাহ তায়ালা আপন মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন। সুরুচির অধিকারী কোনো মানুষের মুখে কখনও ‘মানুষের গোশত’ই রুচবে না। আপন মৃত ভাইয়ের গোশতের কথা তো কল্পনার ত্রিসীমায়ও আসতে পারে না! উপরিউক্ত আয়াতে মানুষকে এই বার্তা প্রদান করা হয়েছে, আপন মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়া যতটা ঘৃণ্য, জঘন্য ও অমানবিক কাজ কারও পরনিন্দা করাটাও ঠিক ততটাই ঘৃণ্য ও জঘন্য। সুস্থ বিবেকের মানুষ এ কাজকে যেমন ঘৃণা ও অপছন্দ করে অন্যের দোষ চর্চা ও পরনিন্দাও তেমনই ঘৃণা করা ও তা থেকে বেঁচে থাকা উচিত।
গিবত বা পরনিন্দার পরিণতি মদপান ও ব্যভিচারের চেয়েও কঠিন। কারণ মদপান ও ব্যভিচারের ব্যাপারটা নিরেট হুকুল্লাহ বা আল্লাহর হক সংশ্লিষ্ট। মদপান করলে বা ব্যভিচারে লিপ্ত হলে আল্লাহর হক নষ্ট হয়। আল্লাহ যদি চান যে, তার অপরাধী বান্দাকে ক্ষমা করে দেবেন তাহলে তিনি ওই মদ্যপ ও ব্যভিচারীকে তওবা করার তাওফিক দিয়ে দেবেন এবং তার অন্তরে অনুশোচনার আগুন প্রজ¦লিত করে দেবেন। অনুতপ্ত ও দগ্ধ হৃদয়ে সে যখন আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করবে পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালা তাকে ক্ষমা করে দেবেন। কিন্তু কারও গিবত করাটা হুকুকুল ইবাদ বা মানুষের হক সংশ্লিষ্ট। গিবত ও পরনিন্দা দ্বারা মানুষের হক বিনষ্ট হয়। আর মানুষের হক যতক্ষণ সে ক্ষমা না করবে হাজার তওবা করেও এ গুনাহ থেকে ক্ষমা পাওয়া যাবে না। রাসুল (সা.) মেরাজের রজনীতে গিবতকারীদের করুণ পরিণতি দেখে এসে সাহাবায়ে কেরামের সামনে তা বর্ণনা করেছেন। হজরত আনাস বিন মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, মেরাজ রজনীতে আমাকে যখন ওপরে নিয়ে যাওয়া হলো আমি এমন কিছু লোকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম যাদের নখ ছিল তাম্রনির্মিত। তারা নখ দ্বারা তাদের চেহারায় আঁচড় কাটছিল আর বুকে খামচাচ্ছিল। আমি জিবরিলকে জিজ্ঞেস করলাম, এরা কারা? তিনি উত্তর করলেন, এরা ওইসব মানুষ যারা মানুষের গোশত খেত অর্থাৎ অন্যের দোষ চর্চা করত এবং সম্মানে আঘাত হানত। (আবু দাউদ : ৪৮৭৮; মুসনাদে আহমাদ: ১৩৩৪০)
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, ইয়া রাসুলাল্লাহ! গিবত কাকে বলে? তিনি উত্তর করলেন, তোমার ভাইয়ের এমন কোনো বিষয় বা দোষ নিয়ে আলোচনা করা যার কথা শুনলে সে মনে কষ্ট পাবে। প্রশ্নকারী সাহাবি বললেন, আমি যে দোষটির কথা আলোচনা করছি তা যদি তার মধ্যে বিদ্যমান থাকে তবেও কি গিবত হবে? রাসুল (সা.) বললেন, তুমি যে দোষটির কথা আলোচনা করছ তা যদি তার মধ্যে বিদ্যমান থাকে তাহলেই তো তুমি তার গিবত করলে, আর যদি দোষটি তার মধ্যে না থাকে তাহলে তো তুমি তাকে অপবাদ দিলে। (তিরমিজি : ১৯৩৪)। গিবতের পরিচয় ও সংজ্ঞা সম্পর্কে আমাদের সমাজে একটি ভ্রান্ত ধারণা বিদ্যমান। অনেকেই মনে করে থাকি, কারও অনুপস্থিতিতে তার সত্যিকারের দোষ নিয়ে আলোচনা করাটা গিবতের মধ্যে পড়ে না। অথচ হাদিসের ভাষ্য এর বিপরীত। হাদিস থেকে বুঝা যাচ্ছে, আলোচিত দোষটি ওই ব্যক্তির মধ্যে বিদ্যমান থাকলেই গিবত হবে। আর যদি তা আদৌ ওই লোকের মধ্যে না থাকে তাহলে যুগপৎ দুটি গুনাহ হবে। একটি হবে গিবত করার গুনাহ অপরটি অপবাদ দেওয়ার গুনাহ।
গিবত ও অন্যের দোষ চর্চা থেকে বেঁচে থাকার কিছু উপায় আছে।
যথাÑ কারও গিবত না করার দৃঢ় সংকল্প করা। গিবতের ভয়াবহ শাস্তির কথা সর্বদা মাথায় রাখা। খুব চিন্তা-ভাবনা করে প্রয়োজনীয় কথা বলা, অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা পরিহার করা। নিজের ওপর জরিমানা আরোপ করে নেওয়া। অর্থাৎ নিজের ওপর এটা আবশ্যক করে নেওয়া যে, আমি যদি সামনে কারও গিবত করি তাহলে প্রতিবার গিবতের জন্য দশ টাকা সদকা করব বা দুই রাকাত নামাজ আদায় করব। কোনো আলোচনার বৈঠকে গিবত শুরু হয়ে গেলে অতি সন্তর্পণে সেখান থেকে উঠে চলে যাওয়া। আল্লাহ সবাইকে এ পাপ থেকে মুক্ত রাখুন।
ষ শিক্ষক, মারকাযুল কোরআন উত্তরখান, ঢাকা






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]