ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৯ মার্চ ২০২১ ২৪ ফাল্গুন ১৪২৭
ই-পেপার মঙ্গলবার ৯ মার্চ ২০২১

মহামারিকালেও অর্থনৈতিক অগ্রগতি
সাফল্যের অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে হবে
প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২১, ১০:৩৮ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 25

 করোনা পরিস্থিতিতে বিশে^র অনেক উন্নত দেশে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিলেও বাংলাদেশ তা অনেকটাই এড়াতে পেরেছে। বিদায়ি বছরে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এই হার কম হলেও বৈশি^ক পরিস্থিতিতে এটা অসন্তোষজনক নয়। করোনার মধ্যে রেমিট্যান্স আসার ক্ষেত্রে রেকর্ড হয়েছে। ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়িয়েছে রফতানি খাত। আমদানি খাতও আবার সচল হয়েছে। এর মধ্যেই শুরু করা সম্ভব হয়েছে করোনাপরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রম। সরকারের এসব সময়োপযোগী উদ্যোগ ও কার্যক্রমের ফলে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় এবং অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে।
করোনা মহামারির মধ্যে দেশে রেমিট্যান্স বৃদ্ধি নিয়ে অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন। মহামারির মধ্যে এত রেমিট্যান্স কীভাবে আসছে, ভবিষ্যতে এ প্রবাহ বহাল থাকবে কি না, এ প্রশ্নগুলো সামনে এনেছেন তারা। তবে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, একটা সময় হুন্ডির মাধ্যমে প্রচুর বিদেশি অর্থ দেশে আসত। কিন্তু করোনার সময় এটা ব্যাংকিং চ্যানেলে আসছে। প্রবাসীরা প্রতিবছর দুই থেকে একবার দেশে আসার সময় অনেক নগদ টাকা সঙ্গে আনতেন। এখন এর প্রয়োজন পড়ছে না। কারণ ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠালে সরকার দুই শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে। এ কারণে প্রবাসীদের মধ্যে বৈধ পথে টাকা লেনদেনের আগ্রহ বেড়েছে। ফলে মহামারির মধ্যেও বেড়েছে রেমিট্যান্স প্রবাহ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার সংসদে জানিয়েছেন, ব্রিটেনের অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক লিগ টেবিল ২০২১’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ এখন যে ধরনের অর্থনৈতিক বিকাশের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তা অব্যাহত থাকলে ২০৩৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশ হবে বিশে^র ২৫তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। এই প্রতিবেদনে মূলত সামনের বছর এবং আগামী ১৫ বছরে বিশে^ কোন দেশের অর্থনীতি কী হারে বাড়বে তারই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০৩৫ সাল নাগাদ ১৯৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান অনেক ধাপ ওপরে উঠে ২৫ নম্বরে পৌঁছে যাবে। ২০২০ সালের সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশ এখন বিশে^র ৪১তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ।
করোনাকালে চাকরিচ্যুত প্রবাসীদের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে শ্রমিক পাঠানোর লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। প্রবাসীদের সহযোগিতার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন দেশে ফোনে যোগাযোগসহ চিঠি দেওয়া হয়েছে। এসব চিঠিতে তিনটি বিষয় গুরুত্ব দেওয়া হয়। চাকরিচ্যুত প্রবাসী কর্মীদের ন্যূনতম খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, চাকরিচ্যুতদের যাবতীয় দেনা-পাওনা পরিশোধসহ ছয় মাসের বেতন-ভাতা দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো এবং বিদেশে কর্মসংস্থান ও ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য ওই দেশগুলোতে তহবিল গঠনের সুপারিশ।
করোনার শুরু থেকেই আমাদের সরকার সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। এর ফলে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা, মৃত্যুর হার এবং অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ তুলনামূলক অধিক সাফল্য দেখাতে পেরেছে। এসব সাফল্য অর্জিত হয়েছে সরকারের সঠিক ও সময়োপযোগী পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের কারণে। আমাদের এই সাফল্যের অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে হবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, করোনার প্রভাবে দেশের অর্থনীতিতে সাময়িক সমস্যার সৃষ্টি হলেও সমন্বিত অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে এটি ক্ষেত্রবিশেষ কিছুটা সুবিধা সৃষ্টি করে দিয়েছে। আমরা মনে করি, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে করোনাপরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়ন
করা গেলে দেশের অর্থনীতি দ্রæত ঘুরে দাঁড়াবে। সেক্ষেত্রে বাড়বে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। মহামারির সব প্রতিক‚লতা কাটিয়ে রূপকল্প অনুযায়ী কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছে যাবে বাংলাদেশ।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]