ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ৭ মার্চ ২০২১ ২২ ফাল্গুন ১৪২৭
ই-পেপার রোববার ৭ মার্চ ২০২১

মুজিব বর্ষে ৯ লাখ  পাকা বাড়ি উপহার
হাবীব রহমান রংপুর থেকে
প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২১, ১১:২৮ পিএম আপডেট: ২১.০১.২০২১ ১১:৪৯ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 253

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবিকতা বিশ^ব্যাপী স্বীকৃত। বিশ^বাসী যাকে আখ্যা দিয়েছে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ বলে। এবার এতে নতুন পালক যোগ হচ্ছে। যাদের থাকার জায়গা নেই, ঘর নেই সেসব গৃহহীনকে গৃহ নির্মাণ করে দিচ্ছেন তিনি। রংপুরের তারাগঞ্জের সয়ার ইউনিয়নের আব্দুল জাব্বার। তার চোখে আলো নেই। থাকতেন অন্যের বাড়িতে। ছয়বার বাড়ি পাল্টেছেন। সবশেষ গত ৮ বছর ধরে এক ছেলে আর বউ নিয়ে থাকতেন স্থানীয় ডালিয়া নদীর পারে। বর্ষায় তার বাড়িতে সাপ
 
আর ব্যাঙ উঠত। সারাদিন ভিক্ষা করে সংসার চালানো দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আব্দুল জাব্বারের পক্ষে জায়গা কিনে ঘর নির্মাণ ছিল আকাশছোঁয়ার মতো। তার সেই দুঃস্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত দিয়ে। দুচোখে আলো না থাকলেও, তিনি যেন দেখতে পাচ্ছেন একটুকরো নিশ্চিত স্বপ্ন। মুজিব বর্ষ উপলক্ষে তিনি দুই শতক জমির দলিলসহ পাচ্ছেন পাকাবাড়ি। জব্বারের মতো আরও ৯০ জন প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া পাকাবাড়ি পাবেন তারাগঞ্জের এ ইউনিয়নে।
ইতোমধ্যে ২০টি বাড়ি প্রস্তুত করা হয়েছে। নির্মাণাধীন রয়েছে আরও ৯০টি বাড়ি। আগামীকাল ২৩ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা দেশে এ রকম প্রায় ৭০ হাজার বাড়ি হস্তান্তর করবেন সুবিধাভোগীদের মধ্যে। এর মধ্যে ৬৬ হাজার ১৮৯টি ভ‚মিহীন-গৃহহীন পরিবারকে দুই শতাংশ খাস জমির মালিকানা দিয়ে বিনা পয়সায় দুই কক্ষবিশিষ্ট ঘর মুজিব বর্ষের উপহার হিসেবে দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া ২১টি জেলার ৩৬টি উপজেলায় ৪৪টি গ্রামে ৭৪৩টি ব্যারাক নির্মাণের মাধ্যমে ৩ হাজার ৭১৫টি পরিবারকে ব্যারাকে পুনর্বাসন করা হবে। আগামীকাল শনিবার মোট ৬৯ হাজার ৯০৪ জন ভ‚মিহীন ও গৃহহীনের হাতে ঘরের মালিকানার কাগজ তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
মুজিব জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে ‘বাংলাদেশে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ ঘোষণা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দেশের সব ভ‚মিহীন ও গৃহহীন পরিবারের তালিকা করা হয়েছে। ঘর এবং জমি নেই এমন পরিবারের সংখ্যা ২ লাখ ৯৩ হাজার ৩৬১টি। অপরদিকে জমি আছে, ঘর নেই এমন পরিবারের সংখ্যা ৫ লাখ ৯২ হাজার ২৬১টি। সর্বমোট ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬২২টি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে বাসস্থান নির্মাণ করে দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার সরেজমিন রংপুরের তারাগঞ্জ ও গঙ্গাচড়ায় ঘুরে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া এ উপহারভোগীদের উচ্ছ¡াস দেখা গেছে। রংপুর জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়, এ জেলায় মোট গৃহহীন আছেন ৬ হাজার ৯৮৪ জন। প্রথম ধাপে ১ হাজার ২৭৩ জন পাবেন প্রধানমন্ত্রীর এ উপহার।
তারাগঞ্জের সায়ার ইউনিয়নের ফরিদাবাদ গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রীর এ উপহার সুবিধাভোগীদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য চলছে নির্মাণ শ্রমিকদের কর্মযজ্ঞ। ঘর পাওয়ার উপযুক্ত বাড়ির মালিকরা ঘুরে ঘুরে দেখছেন তাদের জন্য নির্মিতব্য ঘরবাড়ি। যাদের অনেকেই জীবনে প্রথমবারের মতো একটুকরো মালিক হবেন। ৯০টি বাড়ির মধ্যে ইতোমধ্যে সেখানে ২০টি বাড়ি নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। বাকিগুলো নির্মাণাধীন।
৫০ বছর বয়সি নারী গুলেজা। স্বামী মারা গেছেন অনেক আগেই। বাবার বাড়ি বলতেও কিছু নেই। ফরিদাবাদ থেকে কিছু দূরে চড়কডাঙ্গা গ্রামে ওয়াকফের জায়গায় ভাঙাচোরা ঘরে কোনোরকম দিনাতিপাত করতেন দুই মেয়ে নিয়ে। যখন তার দুচোখে নিঃসীম অন্ধকার তখনই আশার আলো হয়ে আসে প্রধানমন্ত্রীর উপহারÑ জমিসহ পাকাবাড়ি। কিছু আনন্দে মানুষের যেমন কান্না পায়, গুলেজারের চোখেও সেই আনন্দের পানি চলে আসে। বলেন, এখন থেকে জীবনভর সুখ-শান্তি করতে পারব। বাপ-মা কিছু দিয়ে যেতে পারে নাই। উনিই আমাদের মা-বোন, বাপ-মা।
বিগত ২২ বছর পরের জমিতে থাকা ৬০ বছর বয়সি মোবারক হোসেনের বাবাও পরের জমিতে থাকতেন। বলেন, বহু প্রেসিডেন্ট (প্রধানমন্ত্রী) গেছে, কেউ দেখে নাই। খাই না খাই এখন এ ঘরে পড়ে থাকব।
৬৫ বছর বয়সি বিধবা ময়মুনা বেগম। ছেলেমেয়েও নাই। বলেন, ‘আশ্রয় নাই, ডেরা নাই। শেখ হাসিনা আশ্রয় দিয়েছে। খুব খুশি।’ এখানকার আশ্রয়ণ প্রকল্পে জায়গা পেয়েছেন ৭০ বয়সি জামিলা বালা ও তার স্বামী। স্বামী মানুষের জমিতে কাজ করেন। তিন মেয়ে নিয়ে থাকতেন পরের বাড়িতে। এখন নতুন ঘর পেয়ে উচ্ছ¡সিত। বলেন, ‘আমাদের শেখ হাসিনা এ বাড়ি করে দিয়েছে। দেশটা তো ওরে দিয়াই চলা উচিত।’
রংপুর জেলা থেকে নীলফামারীর জলঢাকা যাওয়ার পথে রাস্তার একদম পাশে সুন্দর এক বসতি। গঙ্গাচড়ার নোহালী ইউনিয়নের পূর্ব কচুয়া গ্রামের ভ‚মিহীন ১৫টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে এখানে। এরা সবাই সনাতন ধর্মাবলম্বী। নিজেদের জায়গা-জমি নেই। নিম্নবর্ণের এসব লোকদের অত্যাধুনিক এ বাড়ি করে দিয়েছে সরকার। আগামীকাল তাদের হাতে জায়গার দলিল ও পাকাবাড়ি বুঝিয়ে দেওয়া হবে। তাদের দেওয়া হবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরসম্বলিত সনদ। প্রধানমন্ত্রীর উপহারে আরও থাকবে তাদের নামে জায়গার নামজারির প্রত্যয়ন।
এখানকার শ্রীমতী সীবা রানী মহন্ত চোখভরা নতুন স্বপ্ন নিয়ে সময়ের আলোর কাছে উচ্ছ¡াস প্রকাশ করেন। বলেন, জায়গা-জমি কিছু নেই। কোনোদিন কল্পনাও করিনি এভাবে পাকাবাড়ি পাব। তিনি (শেখ হাসিনা) হাজার বছর বাঁচুন। ঈশ^রের কাছে এ প্রার্থনা করি। এখানকার পুরুষরা সব দিনের বেলায় কৃষি কাজে ব্যস্ত থাকেন। তাই বাড়িগুলোতে গিয়ে কথা হয় নারীদের সঙ্গে। তৃপ্ত রানী মহন্তের অল্প একটু জায়গা থাকলেও অঞ্জলি রানী রায়, অনিতা মহন্তের কোনো জায়গাই ছিল না। অঞ্জলি থাকতেন খালু শ^শুরের বাড়িতে। অনিতা থাকেন অন্য লোকজনের বাড়িতে। সরকারের দেওয়া বাড়ি পেয়ে তাদের উচ্ছ¡াস যেন ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। শুধু ঢল ঢল চোখে প্রধানমন্ত্রীর জন্য আশীর্বাদ করছেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, দুই শতক জমির ওপর নির্মিত প্রতিটা ঘরের নির্মাণ ব্যয় হচ্ছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। দুই কক্ষবিশিষ্ট ঘরের সঙ্গে একটি রান্নাঘর, একটি সংযুক্ত টয়লেট ও ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা রাখা হয়েছে। ভ‚মিহীন যারা রয়েছে তাদের দুই শতক ঘরের জমির মালিকানাও দেওয়া হবে।
সরকারের পাশাপাশি গৃহহীনদের ঘর দেওয়ার উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন রাজনীতিবিদ, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা এবং বিত্তবানরা। সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে জনপ্রতিনিধিরা ২ হাজার ৮৯৬টি, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি উদ্যোগে ৯৯টি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি উদ্যোগে ৬০৫টি, বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন ১০০টি, সরকারের ৮০ জন সচিব ১৬০টি, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তারা ২ হাজার ৮৬৮টি করে মোট সাড়ে ৬ হাজার গৃহ নির্মাণ করে দিচ্ছেন।








সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]