ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৯ মার্চ ২০২১ ২৪ ফাল্গুন ১৪২৭
ই-পেপার মঙ্গলবার ৯ মার্চ ২০২১

যে আমলে বরকত মেলে
হাম্মাদ আরশাদ
প্রকাশ: শনিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২১, ১১:০৮ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 34

 মানুষের জীবনে বরকতের উপস্থিতি ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। জীবনে বরকত না থাকলে শূন্যতায় হাহাকার করতে থাকে মানুষ। বরকতের শাব্দিক অর্থ প্রবৃদ্ধি, পর্যাপ্ততা, প্রাপ্তি ইত্যাদি। ঈমানদারের জীবনে আল্লাহর পক্ষ থেকে যে সার্বিক দান, তৃপ্তি ও প্রাপ্তি লাভ হয় সেটাই বরকত। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যদি সেসব জনপদের অধিবাসীরা ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে অবশ্যই আমি তাদের জন্য আসমান ও জমিনের বরকতসমূহ উন্মুক্ত করে দিতাম, কিন্তু তারা মিথ্যারোপ করেছিল; কাজেই আমরা তাদের কৃতকর্মের জন্য তাদেরকে পাকড়াও করেছি।’ (সুরা আরাফ : ৯৬)। আল্লাহর রাসুল (সা.) নিজের ও অন্যদের জন্য বরকত লাভের দোয়া করতেন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে বরকত লাভের বিভিন্ন আমলও উম্মতকে শিখিয়েছেন। এক দিন হজরত আবদুর রাহমান ইবনে আওফের (রা.) গায়ে ও পোশাকে হলুদ রঙের চিহ্ন দেখে আল্লাহর রাসুল (সা.) প্রশ্ন করলেন, কী ব্যাপার! তিনি বলেন, আমি এক নারীকে একটি খেজুর আঁটির অনুরূপ পরিমাণ সোনার বিনিময়ে বিয়ে করেছি। রাসুল (সা.) বলেন, তোমার জীবনে আল্লাহ তায়ালা বরকত দান করুন।’ (তিরমিজি : ১০৯৪)। বরকত লাভের কিছু আমল এখানে তুলে ধরা হচ্ছে।
ভোরে কাজ শুরু করা : দিনের শুরুভাগে আল্লাহ তায়ালা বিশেষ বরকত রেখেছেন। ভোরের আলো ফোটার সময় আসমানি দানও উন্মুক্ত হতে থাকে। এ সময় কাজে বরকত লাভের কথা হাদিস শরিফে এসেছে। আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘হে আল্লাহ! আপনি আমার উম্মতকে ভোরের বরকত দান করুন।’ তা ছাড়া তিনি যখন কোনো বাহিনীকে কোথাও প্রেরণ করতেন তখন দিনের প্রথম ভাগেই পাঠাতেন। বর্ণনাকারী সাখর (রা.) একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি তার পণ্যদ্রব্য দিনের প্রথম ভাগে ভোরে ভোরে পাঠাতেন, ফলে তিনি সম্পদশালী হয়েছিলেন এবং এভাবে তিনি অনেক সম্পদের অধিকারীও হয়েছিলেন। (আবু দাউদ : ২৬০৬)
আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করা : সব কাজে ও পদক্ষেপে আল্লাহ তায়ালার ওপর পূর্ণ আস্থা ও ভরসা রাখাকে তাওয়াক্কুল বলে। এর দ্বারাও পার্থিব জীবনে পেরেশানি দূর হয়। কাজকর্মে বরকত লাভ হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যদি তোমরা প্রকৃতপক্ষেই আল্লাহ তায়ালার ওপর তাওয়াক্কুল করতে, তা হলে তিনি অবশ্যই তোমাদের পাখির মতো রিজিকদান করতেন। ভোরবেলা পাখিরা খালি পেটে বাসা থেকে বের হয়ে যায় এবং সন্ধ্যাবেলা উদরপূর্তি করে বাসায় ফিরে আসে। (ইবনে মাজা : ৪১৬৪)
কোরআন তেলাওয়াত করা : পবিত্র কোরআন আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কালাম। কোরআনের প্রভাব ও মহিমা অপরিসীম। যে ব্যক্তি গুরুত্বসহকারে নিয়মিত কোরআন তেলাওয়াত ও চর্চা করবে তার জীবনে অবতীর্ণ হবে রহমত ও বরকতের ফল্গুধারা। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘এই কোরআন একটি বরকতময় কিতাব; যা আমি আপনার প্রতি বরকত হিসেবে অবতীর্ণ করেছি, যাতে মানুষ এর আয়াতসমূহ লক্ষ করে এবং বুদ্ধিমানরা যেন তা অনুধাবন করে।’ (সুরা সোয়াদ : ২৯)। এখলাস ও মুহাব্বতের সঙ্গে নিয়মিত কোরআন তেলাওয়াত করলে সব কাজে বরকত
হয়। বরকত লাভে কোরআন তেলাওয়াত অন্যতম একটি আমল।
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা : আত্মীয়-স্বজন ও রক্তসম্পর্কীয় মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, নিয়মিত তাদের খোঁজখবর রাখা, সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো, মনোমালিন্য হলে সমঝোতা করে ফেলা ইত্যাদি বরকত লাভের অন্যতম আমল।
আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখলে আল্লাহ তায়ালা জীবনে ও রিজিকে বরকত দান করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি চায় যে তার জীবিকা বৃদ্ধি হোক অথবা তার মৃত্যুর পর সুনাম থাকুক, তবে সে যেন আত্মীয়দের সঙ্গে সদাচরণ করে।
(বুখারি : ২০৬৭)
লোভ পরিত্যাগ করা : বরকত লাভের জন্য অন্যতম একটি করণীয় হচ্ছে লোভ-লালসা পরিত্যাগ করা। এর মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর পক্ষ থেকে বরকত লাভ করতে পারে। এই মর্মে হাকিম ইবনে হিজাম (রা.) থেকে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি আল্লাহর রাসুলের (সা.) কাছে কিছু চাইলাম, তিনি আমাকে দিলেন আবার চাইলাম, তিনি আমাকে আবার দিলেন, তৃতীয়বার চাইলাম, বরাবরের মতো এবারও তিনি আমাকে দিলেন। অতঃপর বলেন, হে হাকিম! এই সম্পদ সজীব ও
তৃপ্তিদায়ক। যে ব্যক্তি প্রশস্ত অন্তরে লোভ-লালসা ব্যতীত তা গ্রহণ করে তার জন্য তা বরকতময় হয়। আর যে ব্যক্তি অন্তরের লোভসহ তা গ্রহণ করে তার জন্য তা বরকতময় করা হয় না। যেন সে এমন ব্যক্তির মতো, যে খায় কিন্তু তার ক্ষুধা মেটে না। ওপরের হাত নিচের হাত থেকে উত্তম।’ (বুখারি : ১৪৭২)
ব্যবসায় সত্য বলা : সৎভাবে ব্যবসা করা ইসলামের দৃষ্টিতে ইবাদত। যারা ব্যবসায় সততা বজায় রাখে আল্লাহ তায়ালা তাদের বরকত দেন। রাসুল (সা.) বলেছেন, ক্রেতা-বিক্রেতা যতক্ষণ পরস্পর বিচ্ছিন্ন না হয়, ততক্ষণ তাদের এখতিয়ার থাকবে (ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন করা বা বাতিল করা)। যদি তারা সত্য বলে এবং অবস্থা ব্যক্ত করে তবে তাদের ক্রয়-বিক্রয়ে বরকত হবে আর যদি মিথ্যা বলে এবং দোষ গোপন করে তবে তাদের ক্রয়-বিক্রয়ের বরকত মুছে ফেলা হয়। (বুখারি : ২০৭৯)
খাবার অপচয় থেকে বিরত থাকা : হজরত আনাস (রা.) নবীজির (সা.) খাবারের অবস্থা তুলে ধরে বলেন, নবীজি (সা.) খাওয়ার পর তাঁর তিনটি আঙুল চাটতেন। তিনি বলতেন, তোমাদের কারও খাবারের লোকমা নিচে পড়ে গেলে সে যেন তার ময়লা দূর করে তা খেয়ে নেয় এবং শয়তানের জন্য তা ফেলে রেখ না। আমাদের তিনি থালাও চেটে খাওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, তোমাদের খাদ্যের কোন অংশে বরকত রয়েছে তা তোমাদের জানা নেই। (তিরমিজি : ১৮০৩)
বরকত লাভে দোয়ার আমল : হজরত আবদুল্লাহ ইবনে বুসর (রা.) বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) আমার পিতার ঘরে এলে তিনি তাঁর সামনে খাদ্য পরিবেশন করলেন। তিনি ‘হাইস’ নামক খাবারের উল্লেখ করলে তা তাঁর কাছে নিয়ে আসা হলো। অতঃপর তিনি শরবত আনেন এবং নবী (সা.) তা পান করলেন। তারপর ডানদিক থেকে পরিবেশন করা হলো। তিনি খেজুর খেলেন এবং বিচিগুলো তর্জনী ও মধ্যমা আঙুলের পেটের ওপর রাখলেন। যখন তিনি বিদায় নিতে উঠলেন, আমার পিতাও দাঁড়ালেন। তিনি তাঁর জন্তুযানের লাগাম ধরে বলেন, আল্লাহর কাছে আমার জন্য দোয়া করুন। তিনি দোয়া করলেন, ‘হে আল্লাহ! তাদের দেওয়া রিজিকে বরকত দিন, তাদের ক্ষমা করুন এবং তাদের প্রতি অনুগ্রহ করুন। (আবু দাউদ : ৩৭২৯)






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]