ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৯ মার্চ ২০২১ ২৪ ফাল্গুন ১৪২৭
ই-পেপার মঙ্গলবার ৯ মার্চ ২০২১

সন্তানের জীবন গঠনে  মা-বাবার কর্তব্য
আশিকুজ্জামান নাঈম
প্রকাশ: শনিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২১, ১১:০৮ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 59

 সন্তান অনেক বড় একটি নেয়ামত। শুধু তাই নয়, আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত আমানতও। সন্তান জীবন পরিশুদ্ধ রূপে গড়ে তোলা, উত্তম
শিক্ষা-দীক্ষায় সমৃদ্ধ করা মা-বাবার দায়িত্ব। এ দায়িত্বে অবহেলা করলে আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে। অনেক মা-বাবা সন্তানের আখলাক-চরিত্র সম্পর্কে হতাশা প্রকাশ করেন। সন্তানদের ওপর বিরক্ত হয়ে মানুষের কাছে দুঃখও প্রকাশ করেন। সন্তানকে নিয়ে যে স্বপ্ন তারা দেখেন তার কিছুই বাস্তবে পান না। আসলে স্বপ্নের সেই রাজপুত্র-রাজরানী পাওয়ার জন্যই প্রয়োজন সন্তানকে উত্তম আদর্শ শিক্ষা দেওয়া। নিজেরা সুন্নত অনুযায়ী জীবনযাপন করা। আর সন্তানকে প্রিয় নবীজির (সা.) সুমহান আদর্শ শিক্ষা দেওয়া, যাতে করে সে নিজেকে মা-বাবার বাধ্য সন্তান হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। সন্তানকে উত্তম আখলাক-চরিত্রের অধিকারী হিসেবে গড়ে তুলতে মা-বাবা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। আর এ ক্ষেত্রে সচেতন মা-বাবার বিকল্প নেই। সচেতন মা-বাবার পরিচয় হলো, সন্তানের সার্বিক বিষয়ে লক্ষ রাখা। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে মা-বাবার অসচেতনতা, অদূরদর্শিতা এবং দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞতার দরুন সন্তানের দুনিয়া-আখেরাত সবই বরবাদ হয়ে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্ম ক্রমেই দ্বীন-ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে এবং প্রযুক্তির সয়লাবে গা ভাসিয়ে দিয়ে আখলাক-চরিত্র খোয়াতে বসেছে। এসব কিছুর পেছনে যে বিষয়টি রয়েছে তা হলো, সন্তানদের সময়মতো বিয়ে না দেওয়া। ছেলেমেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে গেলে মা-বাবার দায়িত্ব হলো দীনদার পাত্র-পাত্রী দেখে বিয়ে দিয়ে দেওয়া। ছেলেদের দাড়ি গজানোর দ্বারা আর মেয়েদের ঋতু শুরু হওয়ার দ্বারা মা-বাবাকে এ কথা বোঝানো হয় যে, তাদের বিয়ের বয়স হয়ে গেছে আর দেরি করা যাবে না। অতএব প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার কয়েক বছরের মধ্যে বিয়ে দিয়ে দেওয়া মা-বাবার কর্তব্য।
প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরও যদি মা-বাবা সন্তানের বিবাহ না দেয় আর এ কারণে সন্তান কোনো গুনাহে লিপ্ত হয়, অবৈধ কোনো সম্পর্কে জড়িয়ে যায়, তা হলে এই গুনাহে দায়দায়িত্ব মা-বাবার ওপর বর্তাবে। হাদিসে এসেছে, ‘সন্তান জন্মগ্রহণের পর মা-বাবার দায়িত্ব হলো তার সুন্দর নাম রাখা এবং তাকে দীন শিক্ষা দেওয়া, আর বালেগ হয়ে গেলে বিয়ে করিয়ে দেওয়া। যদি বালেগ হওয়ার পরও বিয়ে না করিয়ে দেয় আর সন্তান কোনো গুনাহে লিপ্ত হয় তা হলে ওই গুনাহের দায়ভার বাবার ওপর বর্তাবে।’ (বায়হাকি : ৮২৯৯)। অন্য হাদিসে আছে, ‘মা-বাবার ওপর সন্তানের হক হলো, সুন্দর নাম রাখা, আকিকা করা, দীন শিক্ষা দেওয়া, বালেগ হয়ে গেলে বিয়ে দেওয়া।’ (কিতাবুল বিররি ওয়াস সিলাহ : ১৫৫)। তা ছাড়া বিয়ে মুমিনের গুণ। মুমিনের গুণ বর্ণনা করতে গিয়ে পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক ইরশাদ করেন, ‘সেই মুমিন সফল যে লজ্জাস্থান সংরক্ষণ করে। নিজ স্ত্রী ও নিজ দাসী ব্যতীত।’ (সুরা মুমিনুন : ৫-৬)
রাসুলে আকরাম (সা.) আরও ইরশাদ করেন, ‘যদি তোমাদের পছন্দ হয়, বাহ্যিকভাবে ও দ্বীনিভাবে ভালো লাগে এবং তোমাদের কুফু (সমতা) মিলে যায়, তা হলে বিয়ের সম্বন্ধ গ্রহণ করে নাও। যদি তোমরা এমন না কর, তা হলে পৃথিবীতে বড় ফ্যাসাদ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে।’ (তিরমিজি : ১০০৫)। হাদিসে যে ফ্যাসাদ আর বিশৃঙ্খলার কথা বলা হয়েছে তা থেকে মুক্তির উপায় হলো সময়মতো সন্তানের বিয়ের কাজ সম্পাদন করা। বর্তমান সমাজ আদর্শবান সচেতন মা-বাবার অভাব অনুভব করছে। যারা সন্তানদের ছোটকাল থেকেই গড়ে তোলার জন্য নিজেরা তৎপর থেকে প্রয়োজনে জ্ঞানীদের পরামর্শ নেবেন। আল্লাহ তায়ালা বোঝার ও আমল করার তওফিক দান করুন। আমিন।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]