ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ৭ মার্চ ২০২১ ২২ ফাল্গুন ১৪২৭
ই-পেপার রোববার ৭ মার্চ ২০২১

৪৫০ কোটি টাকার সুপারি উৎপাদন
মাজহারুল আনোয়ার টিপু ল²ীপুর
প্রকাশ: শনিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২১, ১১:৩০ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 18

ল²ীপুরে সুপারি চাষাবাদ করে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। আধুনিক পদ্ধতি অবলম্বন ও অনুক‚ল আবহাওয়া থাকায় দিন দিন এ অঞ্চলে বাড়ছে সুপারি উৎপাদন। এতে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। গত বছরের চেয়ে বাজার দর বেশ ভালো থাকায় বেজায় খুশি সুপারি চাষিরা। এখানকার উৎপাদিত সুপারির গুণগতমান ভালো হওয়ায় তা জেলাবাসীর চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়।
স্থানীয় কৃষি বিভাগের কর্তাব্যক্তিদের আশাবাদ, এ বছর উৎপাদিত সুপারি থেকে ৪৫০ কোটি টাকারও বেশি আয় হবে। আর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ অঞ্চলে সুপারিভিত্তিক
শিল্প-কারখানা ও প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র গড়ে তোলা গেলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি আরও লাভবান হবেন সুপারি চাষিরা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, চলতি বছর জেলার পাঁচটি উপজেলায় ৬ হাজার ৮৭৬ হেক্টর জমিতে সুপারির আবাদ হয়েছে। যা থেকে উৎপাদন হয়েছে ১৩ হাজার ৬৭৪ টন সুপারি। যার বাজারমূল্য ৪৫০ কোটি টাকারও বেশি। ল²ীপুরে সুপারির সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার হিসেবে রায়পুর উপজেলার হায়দরগঞ্জ বাজার বিখ্যাত। সপ্তাহে দুদিন এ বাজারে লাখ লাখ টাকার সুপারি কেনাবেচা হয়। এ ছাড়াও সদর উপজেলার দালাল বাজার, ল²ীপুর বাজার, রাখালিয়া বাজার, মান্দারী বাজার, কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট বাজারসহ জেলার ছোট-বড় প্রায় সবকটি বাজারে এখন সুপারি কেনাবেচায় ব্যস্ত সময় পার করছেন সুপারি চাষি ও আড়তদাররা।
সুপারি ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছর যেখানে প্রতি কাহন (১৬ পোন) সুপারি বিকিকিনি হতো ১৫০০-১৬০০ টাকা। এবার তা বিক্রি হচ্ছে ২৩০০ টাকায়। প্রতি পোন (৮০ পিস) সুপারি এখন প্রকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৮০ টাকায়। অবশ্য মৌসুমের শুরুতে প্রতি পোন সুপারি এখানে বিক্রি হচ্ছে ২০০-২৫০ টাকা। এখানকার উৎপাদিত সুপারি মানের দিক থেকে ভালো ও সুস্বাদু হওয়ায় এর বেশ চাহিদা রয়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, ময়মনসিংহ ও রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। এতে করে বাজার দর ভালো পাওয়ায় খুশি ব্যবসায়ীরাও।
সদর উপজেলার পশ্চিম ল²ীপুর গ্রামের সুপারি চাষি মালেক জানান, সুপারি চাষে খরচ কম এবং রোগবালাই কম। তিনি বাড়ির পাশে ৫ গÐা পতিত জমিতে সুপারি বাগান করেছেন। মৌসুমের শুরুতেই প্রতি পোন সুপারি তিনি ২০০-২৫০ টাকায় বিক্রি করছেন।
রায়পুর উপজেলার হায়দরগঞ্জ এলাকার সুপারি চাষি আবদুল মোতালেব জানান, এ বছর অনুক‚ল আবহাওয়া ও সময়মতো বৃষ্টিপাতের ফলে গত বছরের তুলনায় তার সুপারির ফলন ভালো হয়েছে। সুপারির পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, ল²ীপুরের সুপারির গুণগতমান ভালো ও সুস্বাদু হওয়ায় এখানকার সুপারির দিকে ক্রেতাদের আকর্ষণ বেশি। তাই তারা এ অঞ্চলের সুপারি কিনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করেন।
সুপারিকে সম্ভাবনাময় ফসল উল্লেখ করে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. বেলাল হোসেন খান জানান, সুপারি চাষাবাদে চাষিরা লাভবান হলেও সুপারি উন্নয়নের জন্য এখনও কোনো প্রকল্প বা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়নি। সুপারির জাত উন্নয়নে গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের পাশাপাশি চাষিদের মাঝে উন্নত জাতের চারা বিতরণ করা হলে সুপারি উৎপাদন আরও বাড়বে।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]